kalerkantho

ফেনীতে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির নাম ‘জান্নাত নূর’

দত্তক নিতে চান ৯ নারী

ফেনী প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দত্তক নিতে চান ৯ নারী

ফেনী সদর হাসপাতালে কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুর নাম রাখা হয়েছে জান্নাত নূর। তার উপরের ঠোঁটে প্রথম দফা অস্ত্রোপচার শেষে তাকে ফেনীতে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটিকে দত্তক নিতে নয়জন নারী সিভিল সার্জন বরাবরে আবেদন করেছেন।

শিশুটিকে যে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেন সেই প্রতিষ্ঠান স্মাইল ট্রেন-এর বিশেষজ্ঞরা সোমবার অবহিতকরণ সভায় নানা তথ্য জানান। শিশুটিকে গত ২১ ডিসেম্বর ফেনী সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের সিঁড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কালের কণ্ঠে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

শহরের ডক্টরস ক্লাবে সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বেসরকারি সেবা সংস্থা স্মাইল ট্রেন-এর প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক বিজয় কৃষ্ণ দাস। বক্তব্য দেন সংস্থার কান্ট্রি ম্যানেজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও সামাজিক সংগঠন উই ক্যান চেঞ্জ ইয়ুথ সোসাইটির উপদেষ্টা আশ্রাফুল আলম গীটার, সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশুতোষ দাস, বিএমএ ফেনী জেলা শাখার সহসভাপতি ডা. দোলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. বিমল চন্দ্র দাস, সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অসীম কুমার সাহা ও স্থানীয় সমাজকর্মী মঞ্জিলা আক্তার মিমি। সঞ্চালনা করেন সদর হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. কাজী মোহাম্মদ ইস্রাফিল।

প্রধান অতিথি বলেন, ‘সমাজের মানুষ হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। শিশুটিকে সেবা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ তিনি জানান, স্মাইল ট্রেন দুস্থ রুগীদের বিশেষ করে ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রুগীদের সেবা দিয়ে থাকে।

তিনি আরো জানান, জান্নাত নুরের প্রথম অস্ত্রোপচার ক্লেফট লিপ রাজধানীর কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। ওর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে তাকে পরবর্তী আরেকটি অস্ত্রোপচার ক্লেফট প্যালেট করা হবে। তিনি বিষয়টি তুলে ধরায় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘গত ২২ ডিসেম্বর আমরা পত্রিকায় প্রথম প্রতিবেদনটি দেখতে পাই।’

সিভিল সার্জন বলেন, ‘শিশুটির নাম রাখা হয়েছে জান্নাত নূর। আমরা ওর বাবা-মার সন্ধান করছি। তাদের না পাওয়া গেলে তাকে দত্তক পেতে যে ৯ নারী আবেদন করেছেন তাঁদের মধ্য থেকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একজনকে হস্তান্তর করা হবে।’

প্রসঙ্গত, মেয়েশিশুটি বর্তমানে ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ফেনীর স্থানীয় সংগঠন উই ক্যান চেঞ্জ ইয়ুথ সোসাইটির সদস্যরা এর দেখাশোনা করছেন।



মন্তব্য