kalerkantho


মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প

২৫ জানুয়ারি নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাশেদুল তুষার, মাতারবাড়ী থেকে ফিরে   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণকাজ এ মাসেই উদ্বোধন করা হচ্ছে। দুই বছর ধরে জমি অধিগ্রহণ, সম্ভাব্যতা যাচাই আর উপকূলবর্তী এলাকাটিকে প্রকল্প উপযোগী করা হয়। অবশেষে আগামী ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সেখানে জনসভায় বক্তব্যও দেবেন।

জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকা ও সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার প্লান্ট’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে গতকাল শুক্রবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আসেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্পের ১৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় নয়, এটা জাইকার এ যাবৎকালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। কয়লানির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রটিতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যাতে পরিবেশের কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়।

নসরুল হামিদ বলেন, প্রকল্পে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে। মজুদসহ এই বিপুল পরিমাণ কয়লা বিদেশ থেকে আমদানি করতে বিদ্যুেকন্দ্রের পাশেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই গভীর সমুদ্রবন্দরে শুধু কয়লাবাহী জাহাজ ভিড়বে। পরে এই সমুদ্রবন্দরকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মাতারবাড়ীতে বিশাল এ কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে অবহেলিত উপকূলীয় এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে উপকূলীয় এলাকাটি দুবাই-সিঙ্গাপুরের মতো হয়ে উঠবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইউজুমি বলেন, সমীক্ষায় পরিবেশের বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের যে অগ্রগতি তা নিয়েও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। জাইকা প্রতিনিধি কাকাতো নিশিকাতা মাতারবাড়ীতে তাঁদের সবচেয়ে বড় বাজেটের প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণ হিসেবে বলেন, এ ক্ষেত্রে তাঁরা বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও অগ্রগতিকেই বিবেচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে এই জায়গাটি অন্তত আকর্ষণীয়। যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে তাতে নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ হবে বলে আমি আশা করছি।’

নির্মাণ এলাকা পরিদর্শনের সময় জাপানি রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইউজুমি, মহেশখালীর স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জাইকা প্রতিনিধি কাকাতো নিশিকাতা, পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, কোল পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের এমডি আবুল কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকারের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি তিন লাখ টাকা। আর সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হবে সাত হাজার ৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। গত ১০ আগস্ট জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করে সরকারি সংস্থা কোল পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। জাপানি কনসোর্টিয়ামে রয়েছে সুমিতোমো করপোরেশন, তোশিবা করপোরেশন ও আইএইচআই করপোরেশন।



মন্তব্য