kalerkantho


টাকাসহ সরঞ্জাম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১১

গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ-ডাকাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণসহ সর্বস্ব কেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ‘ডিবি’ লেখা জ্যাকেট, হ্যান্ডকাপ, একটি ওয়ারলেস সেট, খেলনা পিস্তল ও ডাকাতির  ৩২৫০০ টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মোটরসাইকের উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হল হারাধন দাশ ধনি, মো. মামুন উদ্দিন, কাইছার হামিদ রাজু, মো. জাহেদুল আজম, মো. শাহেদ রানা, মো. শওকত আলী মানিক, সেলিম মাহমুদ, রেজাউল করিম, মো. রুবেল, মো. জাসেদুল করিম বাবুল ও মো. মাসুদ। সবাই চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার বাসিন্দা।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) হাসান মো. শওকত আলী জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা নিজদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে তুলে নেয় এবং সর্বস্ব কেড়ে নেয়। তাদের গায়ে ‘ডিবি’ লেখা জ্যাকেট থাকে। দিন-দুপুরে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের কাজ করে।

তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার কোতোয়ালী থানার লাভলেন এলাকায় কাদিয়ানি মসজিদের সামনের রাস্তা থেকে বিকেল চারটায় তিন নম্বর রুটের টাউন বাসের যাত্রী চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র ইমতিয়াজ উদ্দিন ইমনকে (২২) ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে ফেলা হয়। এরপর ইমনকে একটি সিএনজিতে তুলে নেয় ওরা। পরবর্তীতে তাঁর কাছে ইয়াবা আছে অভিযোগ তুলে তাঁর কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে। দুবাই থেকে ইমনের মামার পাঠানো এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা ও বই খাতা ছিল ওই ব্যাগে। তল্লাশির নাম করে ব্যাগ থেকে টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় কথিত গোয়েন্দা পুলিশ। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর লাভলেন থেকে অটোরিকশায় সিআরবি পলোগ্রাউন্ড সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অটোরিকশা পৌঁছার পর ব্যাগ নিয়ে এক ডাকাত অন্য একটি মোটরসাইকেলে উঠে যায়। আর কদমতলী ফ্লাইওভারে অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার মাঝপথে ইমনকে মারধর করে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। অটোরিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর ইমন অটোরিকশার নম্বরটি দেখে মুখস্থ রাখে এবং পরে তিনি আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানান। এর সূত্র ধরে ইমনের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়। মামলার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াছ খানের নেতৃত্বাধীন একটি দল অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে অটোরিকশার নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ একে একে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

এক প্রশ্নের জবাবে হাসান মো. শওকত আলী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নগরীর বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থান নেয়। তারা ব্যাংকে আসা যাওয়া লোকজনের গতিবিধি নজরে রাখে। এরপর কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করা হলে দলের অন্য সদস্যরা টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে। টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে করতে নির্জন বা সুবিধাজনক স্থানে পাওয়া গেলেই তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেয় ওরা।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মামুনের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা আছে। আর কায়ছার হামিদ রাজু দলটির নেতৃত্বে ছিল।


মন্তব্য