kalerkantho


কাপ্তাই সড়কে পরিবহন ধর্মঘট দিনভর দুর্ভোগ

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কাপ্তাই সড়কে পরিবহন ধর্মঘট দিনভর দুর্ভোগ

গতকাল পরিবহন ধর্মঘটে যানবাহনশূন্য চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক। ছবি : জাহেদুল আলম

বুধবার সকালে শহর থেকে রাউজানের বাড়িতে ফিরছিলেন দিদারুল আলম। এ সময় তাঁকে বেশ কয়েকটি গাড়ি বদল করে কয়েক গুণ ভাড়া বাড়তি দিয়ে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে। বুধবার সারাদিন চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে এরকম হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের অবরোধের সময় গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং ভাঙচুরকৃত গাড়ির ক্ষতিপূরণের দাবিতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই বাস মালিক সমিতি ও অটোরিকশাচালক সমিতি যৌথভাবে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চুয়েট কর্তৃপক্ষ, ছাত্র, বাস, অটোরিকশা, ট্রাক, মাইক্রো মালিক সমিতি ও প্রশাসনের যৌথ বৈঠক বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৈঠকে চুয়েটের রেজিস্ট্রার ড. ফারুকজ্জামান চৌধুরী, এএসপি মসিউদৌলা, রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ, পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবারের ঘটনা সুরাহার জন্য চুয়েট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে। ছাত্ররা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’

এদিকে ধর্মঘটের কারণে বুধবার সারাদিন যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ চরম বিপাকে পড়েন। তবে নোয়াপাড়া, পাহাড়তলী ও শান্তিরহাটে বেশ কয়েকটি অটোরিকশা, নছিমন,

পিক-আপকে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে তিন গুণ, চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করেন তাঁরা।’

মোহাম্মদ ইসমাঈল নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গশ্চি নয়াহাট থেকে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালীর দিকে রওনা হয়ে গোচরাতে এসে বাধা পাই। পরে সেখান থেকে তিনটি গাড়ি পরিবর্তন করে নোয়াপাড়ায় ফিরে আসি। এক্ষেত্রে ২০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা পরিশোধ করতে হয়।’

নোয়াপাড়া অটোরিকশা চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘যখন তখন চুয়েটের ছাত্ররা আমাদের মারধর করে গাড়ি ভাঙচুর করে। পেটের দায়ে গাড়ি চালাই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমাদের ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেন তাঁরা। আমরা জীবন ও গাড়ির নিরাপত্তা চাই।’



মন্তব্য