kalerkantho


অবশেষে নোয়াখালীবাসীর ‘দুঃখ’ মোছন

প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালী খাল খনন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন আজ

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অবশেষে নোয়াখালীবাসীর ‘দুঃখ’ মোছন

ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেও উপচে পড়ে নোয়াখালী খাল।

নোয়াখালীবাসীর ‘দুঃখ’ নোয়াখালী খাল। সেই ‘দুঃখ’ মোছন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী খাল খনন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জানুয়ারি গণভবন থেকে নোয়াখালী খাল খননকাজ উদ্বোধন করবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ওই কাজ তদারকি করবে সেনাবাহিনী।’

তিনি জানান, নোয়াখালী খাল ও সংযুক্ত খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই এখানকার অনেক এলাকা ডুবে যায়। জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। ফসলি জমি জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তাঁর নির্বাচনী এলাকাসহ নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও বেগমগঞ্জের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে। কৃষির উৎপাদন বাড়বে। নদীভাঙন রোধ হবে। ফসলিজমি জোয়ার থেকে রক্ষা পাবে। সর্বোপরি মানুষের দুর্ভোগের অবসান হবে।

নোয়াখালী-৪ আসনের (সদর-সুবর্ণচর) সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘২০০৮ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে এ সমস্যা সমাধান করার অঙ্গীকার করি। সেই থেকে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমাধানের চেষ্টা করে যাই। অবশেষে আমাদের সেই দুঃখ মোছন হচ্ছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নোয়াখালীবাসী কৃতজ্ঞ।’

জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই জেলা শহরসহ সর্বত্র পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নোয়াখালীবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন।

শহরের প্রবীণ নাগরিক বিশিষ্ট সাংবাদিক জোবায়ের বলেন, ‘নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোপূর্বে অনেক প্রকল্প নেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। এ খালের জন্য প্রতিবছরই টাকা ও গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। এর মূল কারণ হচ্ছে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে কিছু খাল নামেমাত্র খনন হলেও পানি নামার মূল জায়গায় কখনো ড্রেজিং করা হয় না। ফলে আমাদের দুঃখও দূর হয় না। তবে এবার মনে হয় দুঃখ থেকে মুক্তি পাব।’

নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদউল্লাহ খান সোহেল বলেন, ‘এটি নোয়াখালীবাসীর প্রধান দাবি। আমরা যতই খাল খনন করি না কেন, সাগরের মুখ উঁচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কাঁচাপাকা সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি পূরণ করায় আমরা কৃতজ্ঞ।’

চরএলাহী গ্রামের কৃষক নুরউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। এতদিন আমরা ফসল উৎপাদন করলেও ঘরে তুলতে পারিনি। এছাড়া নদী ভাঙনের কারণে তিন বার জায়গা বদল করে এখন বেড়িবাঁধের ওপর পরিবার পরিজন নিয়ে থাকছি।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালী খাল, বরোপিট খাল, আলগীর খাল ও বামনী নদী পুনঃখননের পাশাপাশি শাখা খালগুলো যেমন দেবীপুর খাল, দত্তের খাল, রমজান বিবি খাল, কালামুন্সি খাল, গাবুয়া খাল, চৌমুহনী খাল, সায়েরা খাল, চাপরাশির খাল, বাদামতলী খাল, বাড়া খাল, বাঞ্চারাম খাল, মহিষমরা খাল, কবিরহাট খাল, ভানুবিবির খাল ও ছাগলমারা খাল পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া বামনী নদীতে ক্লোজার ও রেগুলেটার নির্মাণ করা হবে।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন জানান, প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রধান প্রধান খাল খননের পাশাপাশি প্রায় ১৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকার ২৩টি খাল পুনঃখনন, প্রকল্প এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধে বামনী নদীর চরলেংটায় ১৯ ভেন্ট ও ২ ভেন্ট রেগুলেটর, ১১.৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং ১০টি নদীর তীর সংরক্ষণ ও ছোট ফেনী নদীর উপর ক্রসড্যাম নির্মাণ করা হবে।

এটি বাস্তবায়িত হলে ১৬ হাজার হেক্টর জমি চাষযোগ্য হবে। ফলে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন করা যাবে। জেলার জলাবদ্ধতা দূর হবে, সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙনরোধ করে জনসাধারণের বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ, সাইক্লোন সেল্টার, আবাদি জমি, ফসল ও জানমাল রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপশি সামুদ্রিক জোয়ার জলোচ্ছ্বাসের হাত হতে এলাকার জনগণ রক্ষা পাবে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালী সফরে এলে স্থানীয় হাউজিং মাঠের জনসভায় দলমত নির্বিশেষে সবাই তাঁর কাছে নোয়াখালী খাল খননের জোর দাবি জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খাল খননসহ আনুষঙ্গিক কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলাবাসীর দুঃখ মোচনের কাজ শুরু হচ্ছে আজ।


মন্তব্য