kalerkantho


সীতাকুণ্ডে ইয়াবাসহ পাচারকারীদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা

সেই পুলিশ সার্জেন্টের শাস্তিমূলক বদলি

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সেই পুলিশ সার্জেন্টের শাস্তিমূলক বদলি

ইয়াবা পাচারকারীদের হাতেনাতে ধরেও ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সীতাকুণ্ডের কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট মো. জাহাঙ্গীর আলমকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর রাত আড়াইটায় কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই জামশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ জোড়ামতল যাত্রী ছাউনির সামনে থেকে ঢাকামুখী একটি পিকআপ ভ্যানের (ঢাকামেট্রো-ন-১৭-৩২৩২) গতিরোধ করে ৩০৮০০ ইয়াবাসহ দুই মাদক পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। পরে কাভার্ড ভ্যানসহ তাঁদেরকে ফাঁড়িতে একরাত আটক করে রাখেন। সেখানে দেনদরবার শেষে পরদিন ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেন। নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের গাড়ি বা আসামি আটক করা ও ছাড়ার সময় থানায় জিডি করা জরুরি হলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রমাণ থানার রেকর্ডে নেই। অন্যদিকে এই অপকর্ম করতে ইনচার্জকে সহযোগিতা করেন ফাঁড়ির এটিএসআই মো. জামশেদ, কনেস্টবল মো. অলি উল্লাহ, মো. আনোয়ার, মো. সাজেদুল ইসলাম ও মো. গোলাম কবির। ঘটনার পর থানার কিছু পুলিশ সদস্য আটক পিকআপ ভ্যান এবং ছেড়ে দেওয়া আসামিদের ছবি তুলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান। ছবি পেয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরেআলম মিনা তাৎক্ষণিকভাবে কুমিরা ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য এটিএসআই মো. জামশেদ, কনেস্টবল মো. অলি উল্লাহ, মো. আনোয়ার, মো. সাজেদুল ইসলাম ও মো. গোলাম কবিরকে প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে উত্তরের ডিআইজির কার্যালয় এবং হাইওয়ে পুলিশ, কুমিল্লার এডিশনাল এসপি মো. রহমত উল্লাহর নেতৃত্বে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লার এডিশনাল এসপি মো. রহমত উল্লাহ টানা দুই সপ্তাহ তদন্ত করে সম্প্রতি সার্জেন্ট মো. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এর ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ সার্জেন্ট মো. জাহাঙ্গীরকে শাস্তিমূলক বদলি করে।

জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লার এডিশনাল এসপি মো. রহমত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সাক্ষী-প্রমাণের প্রেক্ষিতে এবং তিনি স্পষ্টতই নিয়ম লঙ্ঘন করায় আমি প্রতিবেদন দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ তাঁকে মাদারীপুর রেঞ্জে বদলি করেছে।’

এদিকে বদলির পর গত সোমবার থেকে জাহাঙ্গীরের স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন কুমিরা ফাঁড়ির এসআই মো. শরীফ।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে মাদারীপুর বদলি করায় তার স্থলে এসআই মো. শরীফ দায়িত্ব পালন করছেন।’


মন্তব্য