kalerkantho


স্কুলে স্কুলে পাঠ্যপুস্তক উৎসব

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্কুলে স্কুলে পাঠ্যপুস্তক উৎসব

নতুন বই পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ছোট্ট সোনামণিরা। গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর বৌদ্ধ মন্দির সড়কের ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বছরের প্রথম দিন স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ অনুষ্ঠান রূপ নেয় বই উৎসবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সকাল সকাল অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলে হাজির হয়। বই হাতে পেয়ে সবাই উচ্ছ্বসিত। এ এক অন্যরকম আনন্দ! বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে : 

চট্টগ্রাম : ২০১৮ সালের প্রথম দিনে চট্টগ্রামে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি থেকে মাধ্যমিকের দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৯৪টি স্কুলে ২ কোটি ৩৮ লাখ ২ হাজার ৯৪১টি বই স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, নগরীর ৬টিসহ চট্টগ্রামের ২০ শিক্ষা থানার ৪ হাজার ৭২৫টি প্রাথমিক স্কুলের প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৫১ লাখ ৩৬৬টি পাঠ্যপুস্তক দিচ্ছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

অপরদিকে মাধ্যমিকে নগরীসহ চট্টগ্রামের ২০ শিক্ষা থানার ১ হাজার ১৬৯টি স্কুলের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯২ শিক্ষার্থীর হাতে ১ কোটি ৮৭ লাখ ২ হাজার ৫৭৫টি পাঠ্যপুস্তক তুলে দিচ্ছে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত ৪৭টি মাধ্যমিক ও ৮ প্রাথমিক স্কুলের প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান সোমবার সকালে নগরীর কলেজিয়েট স্কুল সংলগ্ন প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠ্যবই উৎসব।  ছবি : কালের কণ্ঠ

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘সারা দেশে এক সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতে সব নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া সরকারের অনেক বড় সাফল্য।’

এছাড়া নগরীর ডা. খাস্তগীর স্কুলে বই উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক ড. গোলাম ফারুক। কলেজিয়েট হাই স্কুলে বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি), চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. আজিজ উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেন গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে। এ সময় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আরা বেগমসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ রজভিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা।  ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের বড় সাফল্য হচ্ছে নতুন বছরে উৎসবের মাধ্যমে প্রথম দিন স্কুল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া।’ সোমবার বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসব উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

সীতাকুণ্ড : সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া। প্রধান শিক্ষক দিদারুল আলম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জরিনা আখতার, সাইদ মিয়া, রতন মিত্র, মো. মুরাদ, শিক্ষক ইয়াহিয়া নিজামী প্রমুখ। থানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান। বক্তব্য দেন পৌর মেয়র বদিউল আলম, কাউন্সিলর জুলফিকার আলী মাসুদ (শামীম), উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি রেজাউল করিম বাহার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুচ্ছাফা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা ইয়াসমিন, শিক্ষক দীপক কান্তি ভট্টাচার্য। 

রাউজান উপজেলা পরিষদ মাঠ।  ছবি : কালের কণ্ঠ

রাউজান : উপজেলা প্রশাসন উপজেলা পরিষদ মাঠে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে স্কুল, মাদরাসা, এবতেদায়িসহ ১০৪টি মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের ৪১ হাজার ৮০০ ছাত্র-ছাত্রীর হাতে ৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭০টি এবং প্রাইমারি পর্যায়ে ২৩৩টি স্কুলের ৪২ হাজার ৪৯৫ ছাত্রছাত্রীর হাতে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৪শ ৩৫টি বই বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া খানম মিনা, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জোনায়েদ কবির প্রমুখ।

নোয়াখালী: ‘বই জ্ঞানের আধার, শিক্ষা মোদের অধিকার’ স্লোগানকে সামনে রেখে বছরের প্রথম দিনে নোয়াখালীতে নতুন বই উৎসবে মিলিত হয় শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে জেলা সদরের চর করমূল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দিয়ে জেলায় বই উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার। এ সময় ছাত্রছাত্রীরা নূতন বই হাতে পেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে যায়।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির, শাহীনুল ইসলাম মজুমদার, এওজবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুস জাহের।

অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চর করমূল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এম এম খায়রুল্যা, করমূল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুল্যা, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান।

খাগড়াছড়ি : জেলার প্রায় ৭০৫ প্রাথমিক ও ১২২ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ের শিশুরা পেয়েছে নতুন বই। সোমবার সব কটি বিদ্যালয়ে একযোগে বই বিতরণ করা হয়। মাতৃভাষার বইও এদিন বিতরণ করা হয় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখ ২২ হাজার শিশুর মাঝে ৪ লাখ ৯৮ হাজার বই বিতরণের কথা রয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪৮ হাজার ৭০৩ জন ছাত্রছাত্রী পেয়েছে নতুন বই।

সকাল সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি সদরের কুকিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। এসময় পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান, উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রাক-প্রাথমিকের পাহাড়ি শিশুদের হাতে মাতৃভাষার বই বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ২১ হাজার ৭৫২জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিশু মাতৃভাষার বই পাওয়ার কথা। মাতৃভাষার বই এর সাথে মাতৃভাষার বর্ণমালাভিত্তিক খাতাও বিতরণ করা হচ্ছে। গত বছর থেকে সারাদেশের ৫টি মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও পড়াশোনার উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি। অপর দুটি মাতৃভাষা হলো সমতলের সাদরি ও গারো। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, বই এর কোনো ঘাটতি নেই। মাতৃভাষার বইও পর্যাপ্ত পাওয়া গেছে এবার।


মন্তব্য