kalerkantho


কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ। অবশেষে পদে পদে ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা

চকরিয়া ভূমি অফিসে ই-নামজারি চালু

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চকরিয়া ভূমি অফিসে ই-নামজারি চালু

গ্রাহকদের সেবা দিতে প্রস্তুত চকরিয়া ভূমি অফিস। ছবি : কালের কণ্ঠ

জমি কেনার মাধ্যম হিসেবে রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদনের পর সামনে আসে নামজারির (মিউটেশন) বিষয়টি। কিন্তু নামজারি করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে পেতে হয় পদে পদে চরম ভোগান্তি। নামজারির আবেদন কোথায় এবং কিভাবে করতে হয় এবং কি কি কাগজপত্র লাগে-সাধারণ মানুষের এসব বিষয় অজানাই থেকে যায়। এ কারণে প্রতিনিয়ত দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকের সর্বস্বান্ত হওয়ারও নজির রয়েছে। অনেক সময় মোটা অংকের উেকাচ দেওয়ার পরও সঠিক সময়ে নামজারি জমাভাগ খতিয়ান হাতে পেতে ভোগান্তির শেষ থাকে না সাধারণের।

এই অবস্থা এখনো সারাদেশে বিদ্যমান থাকলেও সুখবর আছে চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সাড়ে ছয় লাখ মানুষের জন্য। আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া ভূমি অফিসে চালু হচ্ছে ই-মিউটেশন (নামজারি)। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এতে এখন থেকে আর সাধারণ মানুষকে পোহাতে হবে না পদে পদে সেই ভোগান্তি। আর কাউকে মাধ্যম হিসেবে ধরতে হবে না নামজারি জমাভাগ খতিয়ান সৃজনের জন্য। ঘরে বসেই অ্যানড্রয়েড মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা বাইরে থেকে কম্পিউটার দোকান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে নামজারির জন্য। যাকে বলা হচ্ছে ই-নামজারি বা ই-মিউটেশন। অনলাইনে আবেদনের পর যাচাই-বাছাইয়ের সময় কাগজপত্র সঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের (৪৫ দিন) মধ্যেই হাতে পৌঁছে যাবে প্রতীক্ষিত খতিয়ান।

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত জানান, সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে সারাদেশের ১০০ এর বেশি উপজেলা ভূমি অফিসকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার মধ্যে চকরিয়া এবং সদর উপজেলা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিস ও এই অফিসের অধিভুক্ত চারটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ই-নামজারির আবেদন নিষ্পত্তিকল্পে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ নেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো, সার্ভেয়ার, অফিস সহকারী, চারটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী ও উপ-সহকারী কর্মকর্তাসহ ২০ জন কর্মকর্তা।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন বছর ২০১৮ সালের প্রথমদিন আগামীকাল (আজ) পহেলা জানুয়ারি থেকে ই-নামজারির আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর পর শুরু হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেই আবেদন নিষ্পত্তির পালা। একজন আবেদনকারী অনলাইনে আবেদনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাতে পাবেন নামজারি জমাভাগ খতিয়ানটি। এর আগে সৃজিত নামজারি খতিয়ানের বিপরীতে ১১৫০ টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পরিশোধ করে ডিসিআরও সংগ্রহ করবেন। এজন্য সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘চকরিয়ার মানুষ আসলেই ভাগ্যবান। কেননা অনলাইনে নামজারির আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমাভাগ খতিয়ান হাতে পেতে যাচ্ছেন এখানকার মানুষ। বিষয়টি অনেকটা স্বপ্নের মতো। তবে আমরা এই স্বপ্নকে সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করতে আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চকরিয়ার সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ভূমি অফিসে ই-নামজারি চালু হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে চকরিয়াবাসীর জন্য একেবারেই সুখবর। এটি চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষ পদে পদে নানা হয়রানি ছাড়াও ঘুষ-দুর্নীতি থেকে রেহাই পাবেন।’

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘সনাতন পদ্বতিতে নামজারি আবেদন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কি যে ভোগান্তিতে পড়তেন তা আমরা ভালো করেই জানি। অনেক সময় দালালের খপ্পরে পড়ে বেশুমার মানুষ সর্বস্বান্ত হওয়ারও নজির রয়েছে চকরিয়ায়। সেক্ষেত্রে ই-নামজারি চালু করার বিষয়টি সরকারের যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ। এতে করে ঘুষ-দুর্নীতি থেকে সাধারণ মানুষ পরিত্রাণ পাওয়ার পাশাপাশি এই উদ্যোগের ফলে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।’



মন্তব্য