kalerkantho


‘চট্টগ্রামের স্বার্থরক্ষায় মহিউদ্দিন ছিলেন আপসহীন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘চট্টগ্রামের স্বার্থরক্ষায় মহিউদ্দিন ছিলেন আপসহীন’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে কাঁদছে চট্টগ্রাম, কাঁদছে দেশ। তাঁর দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মুনাজাত করা হয়।  

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘অবহেলিত চট্টগ্রামের কাণ্ডারী মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাঁর হাত ধরেই চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে চট্টগ্রামবাসী একজন সফল সেবক ও অভিভাবককে হারাল।’

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণ জনগণের অধিকার আদায়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি ছিলেন জনগণের স্বার্থরক্ষার ধারক ও বাহক।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রশ্নে মহিউদ্দিন রাজনীতির ঊর্ধ্বে অবস্থান গ্রহণ করতেন।’

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেন, ‘মহিউদ্দীন চৌধুরী ছিলেন নিরহংকারী ও চট্টগ্রামদরদি মানুষ।’

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম বলেন, চট্টগ্রাম হারালো এক মহান কৃতীপুরুষকে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, মাহবুবুর রহমান শামীম ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, মহিউদ্দিনের বিদায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশাল অপূরণীয় ক্ষতি।

এছাড়া শোক জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, অধ্যাপক এম ডি এম কামাল উদ্দিন, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা হাসান চৌধুরী, মীর্জা মো. আকবর প্রমুখ।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক সুমন প্রমুখ বলেন, জাতি একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিককে হারাল। চট্টগ্রামবাসী হারাল তার প্রিয় অভিভাবককে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল হেলাল মোরশেদ খান বীর বিক্রম, মহাসচিব এমদাদ হোসেন মতিন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ চট্টগ্রামের সভাপতি হারুন অর রশিদ ভূঁইয়া, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের সদস্য এ কে.এম. সরওয়ার কামাল, খোরশেদ আলম, সাধন চন্দ্র, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি নাসরিন সুলতানা, সহসভাপতি রিমন মুহুরী, নাছির উদ্দিন মিনিক, গোলাম কিবরিয়া, জাফর আহমদ, রকি চক্রবর্তী, হরিদাশ প্রমুখ বলেন, মহিউদ্দিনের মতো নেতা আর চট্টগ্রামে জন্ম নেবে না।

মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক উল্লেখ করে এম এ লতিফ এমপি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন মহিউদ্দিন।’

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুুবুল আলম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম, সহসভাপতি  সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সম্মানপ্রদ জীবনসদস্য মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রকৃত রাজনৈতিক নেতাকে হারিয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক  মো. আবু তাহের বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্রসমাজের অভিভাবক ছিলেন।

আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মহসিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ তবিবুল আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, মহিউদ্দিন ইসলামদরদি ছিলেন।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আল্লামা এম এ মতিন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার মরহুমের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মময় জীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তৈয়বিয়া সোসাইটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সেলিম খান চাটগামী বলেন, ‘চন্দন গাছ যেমন বনে বনে জন্ম নেয় না, তেমনি মহিউদ্দিনও জনে জনে হয় না। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামপ্রেমিক রাজনীতিবিদ।’

ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মান্নান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব স উ  ম আবদুস সামাদ বলেন, তাঁর মতো নেতার বড় বেশি প্রয়োজন এখন দেশে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ‘চট্টলবীরের এই শূন্যস্থান সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সারাজীবন তিনি গণমানুষের জন্য রাজনীতি করে গেছেন।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও নগর জাতীয় পার্টি সভাপতি মাহজাবীন মোরশেদ এমপি বলেন, মহিউদ্দিন শুধু একটি নাম নয় তিনি ছিলেন শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের মহানায়ক।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মেয়র ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী সব কিছুর ঊর্ধ্বে চট্টগ্রামবাসী ও চট্টগ্রামের স্বার্থ দেখতেন।’

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নির্মাণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবদান স্মরণ করেন।

এছাড়া শোক জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম এ রশীদ, প্রকৌশলী উদয় শেখর দত্ত, সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, বাকবিশিস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল মনসুর মো. হাবিব, জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তড়িৎ ভট্টাচার্য, মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নোমান আহমদ সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অজিত দাশ প্রমুখ।



মন্তব্য