kalerkantho


রাঙামাটিতে যুবলীগের শান্তিপূর্ণ ‘কড়া হরতাল’

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাঙামাটিতে যুবলীগের শান্তিপূর্ণ ‘কড়া হরতাল’

গতকাল রাঙামাটিতে হরতাল চলাকালে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ ‘কড়া হরতাল’ পালন করেছে স্থানীয় যুবলীগ। জুরাছড়িতে দলীয় নেতাকে হত্যা এবং বিলাইছড়িতে আরেক নেতাকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ডাকা হয় এই হরতাল।

কিন্তু বুধবার দিনগত রাতে খোদ রাঙামাটি শহরেই জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ঝর্না খীসাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় বৃহস্পতিবারের হরতাল আরো কঠোর আকার ধারণ করে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের প্রায় প্রতিটি অলিগলিতে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রতিটি মোড়ে ছিল পিকেটিং। কোথাও কোথাও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ স্থানে টায়ার সরিয়ে দিতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের।

শহরের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেছেন যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের গাড়ি ছাড়া সড়কে আর কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

হরতালে যুবলীগ নেতাকর্মীদেরকে মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে। ছিলেন ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের কর্মীরাও।

নেতৃত্ব দিয়েছেন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা।

রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই হরতাল অবৈধ অস্ত্র আর গুণ্ডামির বিরুদ্ধে। এই হরতাল আমাদের সহযোদ্ধারের রক্তাক্ত করার প্রতিবাদ। ’

এখন থেকে প্রতিটি আঘাতের জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু বারবার এমন হামলা আমরা মেনে নেব না। ’

এদিকে শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাঁড়িয়ে কিংবা হেঁটে হরতাল উপভোগ করতে দেখা গেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শাহ আলমকে দেখা গেল কাঁঠালতলী মোড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। হাসতে হাসতে তিনি বললেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের হরতাল বেশ উপভোগ করছি। ’ 

শুধু রাঙামাটি শহর নয়, জেলার প্রতিটি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও ‘কড়া হরতাল’ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন। হরতালকে কেন্দ্র করে কাপ্তাইয়ের সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। শুধু পরীক্ষার্থী ও রোগী বহনকারী গাড়ি চলতে দেওয়া হয়। হরতালের সমর্থনে মিছিল উপজেলা সদর বরইছড়ি হতে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অংসুইচাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল হক বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন দীপ্তিময় তালুকদার, আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, কাজী মাকসুদুর রহমান বাবুল, বিপ্লব মার্মা, মো. হানিফ, তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, ফজলুল কাদের মানিক, এ আর লিমন, মনোয়ারা জাহান প্রমুখ।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন। সমাবেশে জুরাছড়ি উপজেলায় জেএসএসের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ কর্তৃক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা হত্যা এবং বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাসেল মারমার ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

বুধবার বিকেলে উপজেলার মিনি মার্কেট দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেস ক্লাব চত্বরে সমাবেশ করে দলটি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুইপ্রু চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কলমপতি চেয়ারম্যান ক্যজাই মারমা, যুগ্ম সম্পাদক শামছুদ্দোহা চৌধুরী, মো. বেলাল উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যসিমং মারমা। আরো বক্তব্য দেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে অশান্ত করার নীল নকশা হিসেবে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) খুন, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মাত্রা অতীতকে ছাড়িয়ে গেছে। ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তিতে সন্তু লারমার উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর থেকে পাহাড়ে নতুন করে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে।

বক্তারা আরো বলেন, বিজয়ের মাসে জুরাছড়ি আওয়ামী লীগ নেতা অরবিন্দু চাকমাকে হত্যার মাধ্যমে সবুজ শ্যামল পার্বত্য জেলা আজ রক্তে রঞ্জিত। সন্তু লারমা যদি ভেবে থাকেন, নেতাকর্মীদের হত্যা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে পিছু হটাবেন তাহলে ভুল করবেন।

বক্তারা অবিলম্বে অরবিন্দু চাকমার হত্যাকারীদের ফাঁসি এবং রাসেল মারমার ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।


মন্তব্য