kalerkantho


বাসায় ডাকাতির চেষ্টা পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনকে ধরল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাসায় ডাকাতির চেষ্টা পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনকে ধরল জনতা

একটি বাসায় ডাকাতির চেষ্টা করার সময় মো. শামীম ভূঁইয়া (২৭) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জনতা। নগরীর হালিশহর থানার শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

শামীমের সহযোগী মো. গোলাম মোস্তফা সাবেক পুলিশ কনস্টেবল। একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িয়ে তিনি পুলিশ বাহিনী থেকে চাকরি হারিয়েছিলেন। এবার ধরা পড়লেন ডাকাতির চেষ্টা করার সময়। গত শনিবার সন্ধ্যায় ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটে।

ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে একজন পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘একটি বাসায় ঢুকে ডাকাতির চেষ্টার সময় স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে থানায় আনে। জিজ্ঞাসাবাদের পর একজন আরআরএফ-এ প্রেষণে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল এবং অন্যজন সাবেক পুলিশ কনস্টেবল বলে পরিচয় পাওয়া যায়। ’ এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ’

শনিবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি প্রকাশ পায় আসামিদের গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় আদালতে সোপর্দ করার পর। এর আগে পুলিশ বিষয়টি চেপে যায়। গ্রেপ্তারকৃত শামীম বান্দরবান জেলা পুলিশের সদস্য। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে আরআরএফ-এ কর্মরত আছেন। এছাড়া গোলাম মোস্তফা ২০১১ সালে কোতোয়ালী থানার জেলরোড এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর তিনি চাকরিচ্যুত হন।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার অবসরপ্রাপ্ত আয়কর কর্মচারী আবদুর রাজ্জাকের বাসায় শামীম ও গোলাম মোস্তফা যান। বাসায় প্রবেশের আগে ভবনের নিচে নূরুন্নবীর কাছে নিজেদের হালিশহর থানার পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। তাঁরা ভবনের চতুর্থ তলার আবদুর রাজ্জাকের বাসায় গিয়ে দরজা খোলতে বলেন। এ সময় দরজা খুলতে বিলম্ব হওয়ায় দরজায় লাথি মারেন তাঁরা। পরে ভেতরে প্রবেশ করে রাজ্জাক ও তাঁর মেয়ের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে বেডরুমে গিয়ে আলমিরা ভাঙার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আবদুর রাজ্জাক, দারোয়ান নূরুন্নবীসহ ঘরের বাসিন্দাদের চিৎকার চেচামেচিতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুজনকে আটক করে।

পরে স্থানীয়রা হালিশহর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে হালিশহর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ সদস্যদের পরিচয় বেরিয়ে আসে। পরে দুজনের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩৯২ ধারায় মামলা দায়ের করেন আবদুর রাজ্জাক। এ মামলায় দুজনকে রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত হাকিম সাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


মন্তব্য