kalerkantho


সীতাকুণ্ড মহাসড়কে প্রায় রাতেই গণডাকাতি!

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সীতাকুণ্ড মহাসড়কে প্রায় রাতেই গণডাকাতি!

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রায় প্রতি রাতেই যানবাহনে হানা দিচ্ছে ডাকাতদল। মাঝে কিছুদিন ডাকাতদের তত্পরতা বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে যানবাহনে একের পর এক গণডাকাতি।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই রাতে বেশ কয়েকটি যানবাহনে হানা দিয়েছে ডাকাতরা। এ সময় ডাকাতদের কবলে পড়েছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও বেশ কিছু নিরীহ যাত্রী। এক গাড়িচালককে কুপিয়ে জখম করে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে ডাকাতদল। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ডাকাতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে রাতে চলাচলকারী যানবাহনে ডাকাতদলের হানা দেওয়ার ঘটনা দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের পদক্ষেপের সুবাদে মাঝে কিছুদিন এই অপতত্পরতা বন্ধ ছিল। সম্প্রতি তা আবার শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গত দুই রাতে উপজেলার দুটি এলাকায় ডাকাতরা বেশ কয়েকটি যানবাহনে হানা দিয়েছে। অন্য আরেক ঘটনায় পাঁচটি গাড়িতে ডাকাতরা হানা দিলেও চালকদের উপস্থিত বুদ্ধিতে রক্ষা পায় যাত্রীরা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলাধীন মহাসড়কের টেরিয়াইল সিপি কারখানাসংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করার চেষ্টা করে একদল ডাকাত। গাড়িচালক ডাকাতদের বাধা দিলে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেয় ডাকাতরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে গত বুধবার রাত ১টার দিকে মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় ২০-২৫ জনের একটি ডাকাতদল বেশ কয়েকটি যানবাহনে হানা দেয়। তারা গাড়ি থামানোর উদ্দেশ্যে দূর থেকে লোহার পাইপ ছুড়ে মেরে কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে। এ ঘটনা ডাকাতরা ঘটিয়েছে বুঝতে পেরে চালকরা দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে। ফলে ডাকাতরা যাত্রীদের মালামাল কেড়ে নিতে পারেনি।

বারৈয়াঢালা ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রেহান বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনা পুলিশের মাধ্যমে শুনেছি। ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে একযোগে কাজ করব। ’

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (অপারেশন) আবদুল হামিদ বলেন, ‘মহাসড়কের ওই এলাকায় সড়কের পাশে ঝোপঝাঁড় বেড়ে যাওয়ায় ডাকাতরা সেখানে লুকিয়ে থেকে অতর্কিতে যানবাহনে হামলা চালাচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। মহাসড়কের দুই ধার পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুতই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। তাহলে ডাকাতরা আর অতর্কিতে সড়কে উঠে আসার সুযোগ পাবে না। ’


মন্তব্য