kalerkantho


সীতাকুণ্ডে গৃহবধূকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হলো!

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সীতাকুণ্ডে গৃহবধূকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হলো!

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা জেলেপাড়ায় এক গৃহবধূকে হত্যা করে রাতারাতি লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটলেও কৌশলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

দুই দিন পর গতকাল শুক্রবার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশও জানতে পারে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ওই বাড়ির লোকজনকে পাওয়া যায়নি। তারা আত্মগোপন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা জেলেপাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী সুমন জলদাশের স্ত্রী ইমোলী জলদাশের (২৪) লাশ স্থানীয় মহাশ্মশানে গোপনে পুড়িয়ে ফেলেন তাঁর ভাসুর বিন্দু জলদাশ এবং কয়েকজন প্রতিবেশী। এলাকাবাসী জানতে চাইলে বিন্দু জলদাশ দাবি করেন, ইমোলী জলদাশ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাই লাশ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা থানাকে জানানো হয়নি। পরদিন বৃহস্পতিবার বিন্দু জলদাশ বিদেশে চলে যান। এদিকে এক কান দুই কান করে গতকাল ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়লে সর্বত্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশও। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানও এ বিষয়ে তত্পর হলে ওই পরিবারের সবাই ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

গত রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির দরজায় তালা ঝুলছে। সেখানে কেউ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন যুবক জানায়, নিহত ইমোলীর স্বামী সুমন জলদাশ প্রকৃতপক্ষে সন্দ্বীপের বাসিন্দা। তাঁরা বছর কয়েক আগে সীতাকুণ্ডের কুমিরা জেলেপাড়ায় এসে বসবাস শুরু করেন। ইমোলী জলদাশের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা মিনারপাড়ায়। তাঁর মা-বাবা কেউ নেই। সুমনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হওয়ার ১০ দিন পর স্বামী সুমন বিদেশে চলে যান। ইমোলীর সঙ্গে প্রদীপ নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্বামী বাড়িতে না থাকায় তাঁদের মেলামেশা চলতে থাকে। কয়েক দিন আগে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে যান ইমোলী ও প্রদীপ। এ নিয়ে বুধবার সালিস বসে। এতে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে সুমন বিদেশ থেকে ফিরে আসবেন, তত দিন ইমোলী রাঙ্গুনিয়ায় আত্মীয়ের কাছে থাকবেন। কিন্তু ইমোলী সেখানে যেতে রাজি হননি। ওই রাতেই ইমোলী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনকে না জানিয়ে গোপনে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন জানায়, ইমোলীর ভাসুর বিন্দুসহ কয়েকজন লাশটি সাগর উপকূলে জেলেদের শ্মশানে নিয়ে গিয়েছিলেন। যখন আগুন দেওয়া হচ্ছিল তখনো ইমোলীর শরীরে প্রাণ ছিল। কিন্তু নানা উপায়ে অর্ধ পোড়া করে লাশটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

এলাকার ইউপি সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আত্মহত্যা করলেও তো আমাদের জানানোর কথা। কিন্তু দুই দিনেও তারা কিছুই জানায়নি। আমি স্থানীয়দের কাছেই সব শুনেছি। ’ কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘অনেকেই বলছেন ভাসুর ও তাঁর পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে হত্যা করে পুড়িয়ে প্রমাণ লোপ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মেয়েটিকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলেছে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকদের সঙ্গে কথা বলেছি। লোক লজ্জায় মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে কেউ কেউ দাবি করেছে। ’

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবেই আমরা হত্যা, আত্মহত্যা এসব কথা শুনছি। কিন্তু মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবুও আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। খোঁজখবর রাখছি। তেমন কিছু হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য