kalerkantho


এক দিনেই এলো সহস্রাধিক

ভেলার বৈঠা কেড়ে নিল বিজিপি দিনভর ভেসে ছিল রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভেলার বৈঠা কেড়ে নিল বিজিপি দিনভর ভেসে ছিল রোহিঙ্গারা

ভেলায় চড়ে এবং নৌকায় করে গতকাল শুক্রবার এক দিনেই মিয়ানমার থেকে আরো সহস্রাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভেলায় চড়ে এবং নৌকায় করে গতকাল শুক্রবার এক দিনেই মিয়ানমার থেকে আরো সহস্রাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এর আগে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ১০টি ভেলার মধ্যে তিনটি ভেলার বৈঠা কেড়ে নেওয়ায় শতাধিক রোহিঙ্গা দিনভর নাফ নদে ভেসেছিল।

সন্ধ্যার দিকে সাগরের জোয়ারের পানিতে ওই ভেলা তিনটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ভিড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের নৌযান নিয়ে রোহিঙ্গাদের আনার সময় উখিয়ার ইনানী সৈকতে এক মানবপাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার।

নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা গতকাল সকালে রোহিঙ্গাবাহী তিনটি ভেলার বৈঠা কেড়ে নেয়। ওই তিন ভেলায় শতাধিক রোহিঙ্গা ছিল। বৈঠা না থাকায় ভেলা তিনটি নাফ নদে ভেসে ছিল। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুটি ভেলা শাহপরীর দ্বীপে ভিড়েছে। ওই দুই ভেলার অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা বিজিবির স্থানীয় কম্পানি কমান্ডার আবদুল জলিলের জিম্মায় রয়েছে। আরেকটি ভেলার রোহিঙ্গারা কাছাকাছি সময়ে শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ায় উঠে পড়ে।

এপারে আসা রোহিঙ্গারা আরো জানায়, টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদের ওপারে ধাওনখালী নামক এলাকায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

এই রোহিঙ্গাদের কোনো কেনো অংশ প্রতিদিনই এপারে আসছে।

জানা গেছে, কিছুদিন ধরে নাফ নদের ওই এলাকায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা উৎপাত বাড়িয়েছে। এ কারণে রোহিঙ্গাদের পারাপারে নৌযানের সংকট দেখা দেয়। তাই  রোহিঙ্গারা প্লাস্টিকের পট ভাসিয়ে বাঁশ ও তক্তার সাহায্যে ভেলা বানিয়ে নাফ নদ পাড়ি দিচ্ছে।

রোহিঙ্গারা জানায়, গতকাল সকালে নাফ নদীর ওপার থেকে এক সঙ্গে ১০টি ভেলায় চড়ে কয়েক শ রোহিঙ্গা টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। একপর্যায়ে মিয়ানমারের ফাতেনছা ক্যাম্পের বিজিপি সদস্যরা তিনটি ভেলা আটকে বৈঠা কেড়ে নেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা নৌকার মাঝি মোহাম্মদ আলম জানান, বিজিপি সদস্যরা বৈঠা কেড়ে নেওয়ায় রোহিঙ্গাবাহী তিনটি ভেলা নাফ নদে সারা দিন ধরেই ভাসছিল।

ভেলা তীরে ভিড়লে রোহিঙ্গারা জানায়, তারা সারা দিন উপোস ছিল। শিশু ও নারীরা বেশি কষ্ট পেয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দুটি নৌকায় কয়েক শ রোহিঙ্গা টেকনাফে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মানবপাচারকারীকে আটক করার কথা জানিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে উখিয়া ও টেকনাফের কিছু মানবপাচারকারী মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নাফ নদের ওপার থেকে রোহিঙ্গাদের নৌযানে করে নিয়ে আসছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল এরকম দুটি নৌযানে করে পাচারকারীদল প্রায় ২০০ রোহিঙ্গাকে সাগরপথে উখিয়ার ইনানী ইমামের ডেইল এলাকায় তুলে দেয়। একটি নৌকার পাচারকারীরা পুলিশের ধাওয়ার মুখে পালিয়ে গেলেও একজন নৌকার মাঝিকে পুলিশ সুপার হাতেনাতে ধরে ফেলেন। আটক মাঝি আবদুর মাজেদ (৩৫) উখিয়ার সোনারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, চলতি রোহিঙ্গা সংকটে বেশ কিছু মাছ ধরার নৌকা অর্থের বিনিময়ে ওপার থেকে রোহিঙ্গাদের এপারে এনেছে। মাঝখানে নানা কারণে ডুবে গেছে রোহিঙ্গাবোঝাই ২৮টি নৌকা। এতে মারা গেছে দুই শতাধিক নারী-শিশু ও পুরুষ। অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়াতে  নৌকার মালিক, মাঝি, দালালসহ ৪৫২ জনকে এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য