kalerkantho

এক বাসায় চারদিন ধরে চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঘরের সদস্যদের বিদেশ অবস্থানের সুযোগ নিয়ে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি বাসায় চারদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে ৫০ ভরি স্বর্ণ ও তিন লাখ টাকা চুরির ঘটনার ১২ দিন পর মালামালসহ দুই চোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা  হল সাইফুল ইসলাম (১৮) ও তপন ধর (৪৫)। তপন ধর চোরাই স্বর্ণক্রেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন জানান, থানার হাজীপাড়া এলাকায় মুনস্টার বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয়তলায় জনৈক মো. সেলিমের বাসায় চুরির অভিযোগে ১৯ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন তাঁর বড় ভাই মো. সোলায়মান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আইয়ুব বলেন, ‘একই ফ্লোরের দুটি বাসায় দুই ভাই থাকেন। সেলিম ৮ অক্টোবর স্ত্রীকে নিয়ে থাইল্যান্ড বেড়াতে যান। ১৯ তারিখ ওই বাসা পরিষ্কার করতে সোলায়মানের স্ত্রী রীনা তালাবদ্ধ বাসা খুলে দেখতে পান ভেতরে আলমিরা ভাঙা। আসবাবপত্র এলোমেলো। তিনি বিষয়টি স্বামীকে জানানোর পর থানায় মামলা হয়।’

টানা ১২ দিন তদন্ত ও বিভিন্নভাবে অভিযান শেষে গত সোমবার সকালে সাইফুলকে বায়েজিদ থানার পূর্ব শহীদনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সাইফুলের তথ্যে সোমবার গভীর রাতে তপন ধরকে নগরীর বিবিরহাটে অন্তু স্বর্ণশিল্পালয় নামে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ ভরি চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

এসআই আইয়ুব জানান, চুরির সঙ্গে মামলার বাদী সোলায়মানের কার্টন ফ্যাক্টরির নিরাপত্তারক্ষী মো. বাবুল (৬০) এবং নূরনবী (২২) ও মোক্তার হোসেন (২০) নামে আরও দুজন জড়িত ছিল। বাবুল সোলায়মানদের বাসায়ও নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করে। বাবুল পেশাদার চোর। বেশ কয়েকদিন ধরে বন্ধ থাকা বাসাটিতে বাবুলই চুরির পরিকল্পনা করে। চুরির দায় স্বীকার করে সাইফুল মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই আইয়ুব।

জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানিয়েছে, তারা চারদিন বাসাটিতে প্রবেশ করেছে। একজনের কাঁধের ওপর পা দিয়ে আরেকজন দোতলায় উঠেছে। তারা রেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কাটতে গিয়ে সেটি ভেঙে যায়। প্রথমদিন অভিযান ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়দিনও রডগুলো কাটতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। তৃতীয়দিন গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করে। চতুর্থদিন গভীর রাতে ঢুকে চুরি সংঘটিত করে। চারজন মিলেই বাসায় ঢুকেছিল।


মন্তব্য