kalerkantho


আ. লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে মেয়র সমর্থকদের সংঘর্ষ

খাগড়াছড়ির আদালত সড়ক রণক্ষেত্র

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



খাগড়াছড়ির আদালত সড়ক রণক্ষেত্র

গতকাল খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষে একপক্ষ আরেক পক্ষের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শহরের আদালত সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জন্য দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাগড়াছড়ি পৌরসভা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক বেলাল হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মিছিলটি মাস্টারপাড়া মোড়ে পৌঁছার পর শাপলা চত্বরের দিক থেকে মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকরা হামলা চালায়। মেয়র সমর্থকরাও তখন বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিন রাউন্ড শর্টগানের গুলিও করে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনায় শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় একঘন্টারও বেশি সময় ধরে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কে থাকা একটি ট্রাকের কাচ ভাঙচুর করা হয়। এদিকে পুলিশের পক্ষ হতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলির কথা বলা হলেও অন্তত ৪/৫টি গুলির শব্দ শোনা গেছে।

ঘটনার সময় আদালত সড়কে প্রতিপক্ষের লোকজন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুথান চৌধুরীকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁর হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়। এ সময় মো. রুবেল নামে একজন পথচারী আহত হন। ইটের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। দুজনকেই খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়র রফিকুল আলম ও তাঁর ছোট ভাই দিদারুল আলমের নেতৃত্বে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করা হয়েছে। হামলাকারীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত।’ হামলায় রুথান চৌধুরীসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও একজন নিরীহ পথচারী আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

পাল্টা অভিযোগ করে পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার লোকজন গত কয়েকদিন ধরে আমার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০ জনকে আহত করেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে আজও (মঙ্গলবার) হামলা চালিয়েছে ওরা।’

হামলায় তাঁর কর্মী ও পথচারীসহ ছয়জন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে জেলা সদরের গঞ্জপাড়ায় হামলার শিকার হন পৌর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন। তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। তাঁকে ওই রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘মেয়র রফিকুল আলমের উপস্থিতিতে আমার ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। সেই সময় মেয়রের কাছে আকুতি করেও রক্ষা পাওয়া যায়নি।’

অন্যদিকে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মেয়র রফিকুল আলম।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের এএসপি (হেডকোয়ার্টার) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একটা অংশ শাপলা চত্বরের দিকে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের মিছিলে বাধা দিলে সংঘর্ষ ঘটে। তখন পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শর্টগানের তিন রাউন্ড গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়।’

ঘটনা চলাকালে মেয়র সমর্থকদের হাতে পুলিশের এএসপি এম এম সালাউদ্দিন লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে শোনা গেলেও বিষয়টি নিয়ে কিছু বলেননি এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, সংঘর্ষ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। 

উল্লেখ্য, বিগত পৌরসভা নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। মেয়র রফিকুল হলেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাময়িক বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের মেজভাই।



মন্তব্য