kalerkantho


বদলগাছীতে দুই লাখ মানুষের চিকিৎসক দুজন

মো. এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী, (নওগাঁ)   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৩টি পদ রয়েছে। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন চিকিৎসক। এর মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন থাকায় দুজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। এ ছাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে আটটি মেডিক্যাল অফিসার পদের বিপরীতে একজনও কর্মরত নেই। চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অথচ উপজেলার প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলো।

সরকার চিকিৎসকদের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে কোয়ার্টার তৈরি করেছে। কিন্ত সেখানে ডা. রুহুল আমিন (আরএমও) ছাড়া অন্য কেউ থাকেন না। এ কারণেও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা বিপাকে পড়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর এ মোরশেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমিসহ যে তিনজন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন তাঁদের দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে অনেক কষ্টে।’ তিনি বলেন, হাসপাতালের দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় কাজ হয় না। এ জন্য চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখে কাজ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও ফল হচ্ছে না। ১৯৯২ সালে পাওয়া একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্সটির লক্কড়ঝক্কড় অবস্থা। এটি দিয়ে জরুরিভাবে কোনো রোগীকে নওগাঁ বা রাজশাহী নেওয়া সম্ভব হয় না।

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন কাজী মিজান বলেন, ‘৩৬তম বিসিএসে ১৮০ জন ডাক্তার নিয়োগ পেয়েছেন। আমরা নওগাঁর কয়েকটি উপজেলার জন্য ডাক্তার চেয়ে চাহিদাপত্র দিয়ে রেখেছি। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অ্যাম্বুল্যান্সের বিষয়টি একাধিকবার পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মাসুম আলী বেগ বলেন, উপজেলায় দুই লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবা দুজন চিকিৎসক দিয়ে চলতে পারে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম বলেন, ‘বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুল্যান্স বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আগামী বাজেটে অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যেতে পারে। ডাক্তার সংকটের বিষয়টি শুধু বদলগাছী নয় সব উপজেলার একই চিত্র। ৩৬তম বিসিএসে অনেক ডাক্তার নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের পোস্টিং হলে আশা করি ডাক্তার সংকটের সমাধান হবে।’



মন্তব্য