kalerkantho


জকিগঞ্জ

চালুর আগেই ভবনে ফাটল

আব্দুল্লাহ আল মামুন, জকিগঞ্জ (সিলেট)   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চালুর আগেই ভবনে ফাটল

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি জকিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : কালের কণ্ঠ

জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় গত ছয় বছরেও স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যায়নি। ভবনটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথর, সিমেন্টের পরিমাণ কম, রড ও ঢালাইয়ের পুরুত্বে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটি উদ্বোধনের আগেই ছাদের কিছু জায়গা দেবে গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ছয় কোটি ৪৯ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৩ টাকা ব্যয়ের এ ভবনের কাজ ২০১২ সালের আগস্ট থেকে ১৮ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ছয় বছর পরও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ উপজেলাবাসী।

ভবনটি নির্মাণের সময় কাজের প্রাক্কলন ও নকশা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এলাকাবাসী, সংবাদকর্মীসহ কাউকে সরবরাহ না করে লুকোচুরির মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো কাজ করেছে। হাসপাতালের বর্ধিতকরণ কাজের মধ্যে ছিল আড়াইতলার ১৯ শয্যার একটি ভবন, চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন, বহির্বিভাগ সুবিধা, পরীক্ষাগার, পোস্ট অপারেটিভ থিয়েটার, কেবিন, নার্সদের বসার স্থান, গাড়ির গ্যারেজ ও রাস্তা নির্মাণ।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. খালেদ আহমদ জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন ৪৫-৫০ জন রোগী ভর্তি হয়। কিন্তু হাসপাতালটি এখনো ৩১ শয্যায় রয়েছে। জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় শয্যার অভাবে রোগীদের স্থান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তা ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসেন। কিন্তু থাকে না পর্যাপ্ত ওষুধ। চার বছর ধরে হাসপাতালের বৈদ্যুতিক লাইন ঝুঁকিপূর্ণ। খুঁটি ভেঙে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এসব সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, ‘ভবন নির্মাণের সময় স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকজন উপস্থিত না থাকায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা দ্রুত নতুন ভবন চালুর দাবি করছি।’

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, কাজে ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে কাজ বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে তদবির করে ওই প্রতিষ্ঠানই পুনরায় কাজ পায়।

বিএমএ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রফেসর ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘জোড়াতালি দিয়ে নতুন ভবনের কাজ হয়েছে। আপত্তির মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন হস্তান্তর না করায় তা চালু করা যাচ্ছে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মেহেদী বলেন, এ হাসপাতালে রোগীদের চাপ থাকে বেশি। সে তুলনায় জনবল নেই। তা ছাড়া প্রয়োজনীয় শয্যার অভাবে রোগীদের স্থান দিতে হিমশিম খেতে হয়। তবে নতুন ভবনটি চালু হলে কিছু কিছু সমস্যা দূর হবে।



মন্তব্য