kalerkantho


বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বিনা মূল্যে সেবা পাচ্ছেন প্রসূতিরা

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর)   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিনা মূল্যে সেবা পাচ্ছেন প্রসূতিরা

দেশের অন্য উপজেলার মতো যশোরের বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জনবল সংকট রয়েছে। তবে এই হাসপাতাল একটি দিকে অনন্য। তা হচ্ছে, প্রসূতিদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা। এমনকি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করলেও কোনো ফি দিতে হয় না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানোন্নয়নে এক সভার মাধ্যমে গঠন করা হয় ‘স্বাস্থ্য ত্রাণ তহবিল’। এর পৃষ্ঠপোষক স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়। তহবিলে তিনি পাঁচ লাখ টাকা দেন। যার মধ্যে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয় অবেদনযন্ত্র। তহবিলে জমা করা টাকার লভ্যাংশ দিয়ে সেবা করা হয় দরিদ্র রোগীদের।

একই সময় গঠন করা হয় ‘রোগী কল্যাণ সমিতি’। এর সভাপতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সদস্যসচিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান। এই কমিটিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ রয়েছে। যারা হাসপাতালে গিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেয়। এ কারণে সেবার মান বেড়েছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১০ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে উন্নীত হয় ৫০ শয্যায়। কিন্তু, জনবল বাড়ানো হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে প্রতি রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। ওষুধ দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। সরকারি ফি কেটে নেওয়া হয় ত্রাণ তহবিল থেকে।

হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সেবিকা তানজিরা খাতুন বলেন, ‘চলতি বছর ১৩৬ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। আর ২০ জন প্রসূতির অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর গ্রামের জান্নাতুল মাওয়া মুক্তি গত ৪ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রথম সন্তান প্রসব করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ভালো সিজার হবে কি না—এ নিয়ে প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। পরে ডাক্তারসহ সবার আন্তরিকতা দেখে ভালো লেগেছে।’

বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সাত বছর ধরে এক্স-রে বিকল। পাঁচ বছর ধরে নেই আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা। সাতজন সহকারী সার্জনের বদলে আছে তিনজন। নেই পরিসংখ্যানবিদ ও ক্যাশিয়ার। তিনজন ওয়ার্ডবয়ের সবকটিসহ শূন্য রয়েছে মালির পদ। স্বাস্থ্য সহকারীর ৩৫ জনের স্থলে রয়েছেন ১৪ জন। এত সমস্যার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায় বলেন ‘আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কিভাবে শতভাগ উন্নয়ন করা যায়।’



মন্তব্য