kalerkantho


শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পুরুষ ওয়ার্ডে নারী রোগী

বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পুরুষ ওয়ার্ডে নারী রোগী

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরুষ ওয়ার্ডে নারী রোগীদেরও ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জায়গা ও শয্যা (বেড) সংকটে রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় রাখা হয়েছে। পুরুষ ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে নারী রোগীদের। অন্যদিকে ৫০ শয্যার জনবল না থাকায় রোগীর চাপ সামাল দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। বহির্বিভাগে (আউটডোর) ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে রোগীদের।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসককে (ডাক্তার) পাওয়া যায়নি। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক শিশুকে নিয়ে তার স্বজনরা চিকিৎসকের জন্য এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিল। জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. এম সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী। তাঁকে পাওয়া গেল দোতলায় ইনডোরে ওয়ার্ড ভিজিটে। পরে তিনি নিচে নেমে এসে শিশুটিকে দেখেন। দোতলায় মহিলা ওয়ার্ডের বারান্দায় একটি শয্যায় ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন উপজেলার হুগলিয়া গ্রামের নাজমা বেগম (২৬)। তাঁর পাশের শয্যায় বসে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন শহরের উকিলবাড়ি রোডের নিলু বেগম (৩৫)। তাঁর পুরো মাথা ছিল ব্যান্ডেজে মোড়ানো। পুরুষ ওয়ার্ডের বারান্দায় স্থান দেওয়া হয়েছে ভুড়ভুরিয়া চা বাগানের কুন্তি রিকিয়াসনকে (৩২)। গত মঙ্গলবার থেকে তাঁর ওখানে ঠাঁই হয়েছিল। পুরুষ ওয়ার্ডে ছিল আরো কয়েকজন নারী রোগী। রোগীরা জানায়, রুটিন ভিজিট ছাড়া চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পানিতে খুব বেশি আয়রন। পানি ব্যবহার করা যায় না। টয়লেট খুবই নোংরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে থাকতে হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় আউটডোরে প্রচুর রোগীর চাপ। ২০০-২৫০ রোগী টিকিট হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরই একজন মুসলিমবাগ এলাকার শামীমা বেগম। তিনি জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে (৪) কোলে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দুটি কক্ষে ডা. মো. মহসিন এবং ডা. রোকসানা পারভীন রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো তাঁর কক্ষে দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে রোগী দেখছেন।

জানা যায়, প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার জেলা সফরকালে এর উদ্বোধন করেন। কিন্তু ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী সেবক-সেবিকা-চিকিৎসকসহ অন্যান্য নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বরং ৩১ শয্যার যে জনবল প্রয়োজন, এখন তাও নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরটি কয়েক বছর ধরে নষ্ট। এক্স-রে মেশিন অকেজো। আলটাসনোগ্রামের চিকিৎসক না থাকায় এটি কখনো ব্যবহার করা হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৩১ শয্যার জনবলও নেই। মেডিক্যাল অফিসার দুটি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) পদটি শূন্য। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার নেই। একজন মেডিক্যাল অফিসার প্রেষণে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন অফিসে আছেন। তিনজন চিকিৎসক গেছেন ছুটিতে।

পুরুষ ওয়ার্ডে নারী রোগী প্রসঙ্গে ডা. টিটো বলেন, মহিলা ওয়ার্ডে শয্যা খালি নেই। তাই বাধ্য হয়েই পুরুষ ওয়ার্ডে তাদের জায়গা দিতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘জনবল না বাড়ালে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন চিকিৎসক ও ৩২ জন নার্স প্রয়োজন। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসে। এখন পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা) আউটডোরে ১০১ জন রোগী দেখা হয়েছে। ইনডোরে প্রসূতি বিভাগসহ ৬৭ জন রোগী ভর্তি আছে। আমরা আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিচ্ছি।’ তিনি জানান, হাসপাতালের সমস্যা বিষয়ে অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জানানো হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে।



মন্তব্য