kalerkantho


শ্রমিকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

খুলনা-যশোরে পরিবারগুলোতে আনন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



খুলনা-যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ কারণে ঈদের আগে শ্রমিক পরিবারগুলোতে আনন্দের জোয়ার বইছে।

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন খুলনার আঞ্চলিক লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন জানান, টাকা বরাদ্দের কথা তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত নির্দেশনা পাননি। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি-বোনাস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস মিলে বকেয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকা। ঈদের আগে সব পাওনা পরিশোধ করতে পারলে মিলগুলোর উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।’

উল্লেখ্য, মিলগুলোতে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। এ ছাড়া বদলি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে প্রায় ২৭ হাজার। বিএনপি সরকারের আমলে এ অঞ্চলের জুটমিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার গঠনের পর বন্ধ মিলগুলো আবারও চালু করা হয়। মিলগুলো প্রতিযোগিতামূলকভাবে যাতে টিকে থাকতে পারে সে জন্য অর্থ বরাদ্দসহ বেশ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর একটি হচ্ছে পাটপণ্য দিয়ে মোড়কজাত করা এবং পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা।

মিলের উৎপাদন যথাযথ না হওয়া, উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়া প্রভৃতি কারণে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি-বেতন-ভাতা আবারও বকেয়া পড়ে। পাওনা আদায়ে শ্রমিকরা রাজপথের কর্মসূচি দেয়। সর্বশেষ এপ্রিলে তারা পাওনা আদায়ের দাবিতে রাজপথে নামে। তখন সরকার ত্বরিতগতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের পদক্ষেপ নেয়। আসন্ন ঈদের আগেই শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও মজুরি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবারও প্রায় ১০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছেন। খুলনার খালিশপুর, ফুলবাড়ী গেট ও আটরা এবং যশোরের রাজঘাটে জুটমিলগুলোর অবস্থান। টাকা বরাদ্দের খবর পেয়ে শ্রমিকরা বেশ হাসিখুশি।

ক্রিসেন্ট জুটমিলের শ্রমিক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগে আমাদের কাজের মজুরি পাওয়ার জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষায় থাকতে হতো। মজুরি না পেয়ে দোকানিরা বাকিতে পণ্য দিতে চাইত না। তখন ভয়ে থাকতাম, কখন না মিল বন্ধ হয়ে যায়! এখন আর ভয় নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘চার সপ্তাহ বিল (মজুরি) আটকে আছে। কিন্তু আশা করি, আমরা খুব শিগগিরই বিল পেয়ে যাব।’

ক্রিসেন্ট জুটমিলের প্রকল্প প্রধান গাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই মিলে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে তিন হাজার ৮০০ এবং বদলি শ্রমিক রয়েছে প্রায় চার হাজার। চলতি সপ্তাহের মজুরিসহ শ্রমিকদের চার সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আশা করছি, ঈদের আগেই তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে।’



মন্তব্য