kalerkantho


সাতক্ষীরা শহরের ভাগাড় প্রাণসায়ের খাল

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সাতক্ষীরা শহরের ভাগাড় প্রাণসায়ের খাল

সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবহমান প্রাণসায়ের খাল ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবহমান প্রাণসায়ের খাল এখন গোটা শহরতলির পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে খাল ঘুরে দেখা গেছে, একসময়ের খরস্রোতা প্রাণসায়েরের দুই মুখে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। খালের দুই তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা। জানা গেছে, ১৮৬৫ সালে অবিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রাণসায়ের খালটি খনন করেন। সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গি থেকে সাতক্ষীরা শহর হয়ে এল্লারচর পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ খাল। ভারতের কলকাতা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সে সময় বড় বড় বাণিজ্যিক নৌকা এ খাল দিয়েই যাতায়াত করত। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সদস্যসচিব নুর খান বাবুল বলেন, ‘১৯৬৫ সালের প্রথম দিকে স্থানীয়দের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণের নামে খালের দুই প্রান্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইস গেট নির্মাণ করে। এতে খালে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে এটি বদ্ধ খালে পরিণত হয়। এরপর জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নামমাত্র খনন করে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই লোপাট করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। খাল খননের নামে খালের দুই ধারে শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে খালটি বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘প্রাণসায়েরের খালে দখল ও দূষণের মাত্রা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা থেকে খালটিকে উদ্ধার করতে সমন্বিত পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা দরকার।’

ব্যবসায়ীর লাশ

সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে ফুল ব্যবসায়ী রিপন খানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে লাশটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের সাঈদ আলী খানের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরে থেকে ফুলের ব্যবসা করছিলেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মারুফ আহমেদ জানান, রিপন একাধিক বিয়ে করেছিলেন। এসংক্রান্ত কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



মন্তব্য