kalerkantho


চুয়াডাঙ্গার সীমান্তপথে পাচার হচ্ছে সোনা

আড়াই মাসে উদ্ধার ৪৩ কেজি
ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘব বোয়ালরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সোনা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। মাঝেমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে বড় বড় সোনার চালান। গত আড়াই মাসে বিজিবি ও শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতে পাচারকালে ৪৩ কেজি সোনা ধরা পড়েছে। ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হলেও রাঘববোয়ালরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তপথে ভারতে যাওয়ার সময় দুজন পাসপোর্টধারী যাত্রীর কাছ থেকে যশোরের বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সেল দুই কেজি ২৭৮ গ্রাম সোনার বার জব্দ করে, যার মূল্য এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়। এরা হলো ঢাকার কেরানীগঞ্জের নুরুল ইসলাম ও মুন্সীগঞ্জের মাসুদ রানা। এর আগে গত ২৫ মে এক কেজি ওজনের ৯টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাজীপুরের আব্দুল মোতালেব নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শাহীন হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে দর্শনা সীমান্তে আটক করে সাতটি সোনার বার জব্দ করা হয়। এর এক দিন আগে ২৫ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা পরিত্যক্ত অবস্থায় কুড়িয়ে পায় ৩৭ কেজি ওজনের ৩২০টি সোনার বিস্কুট, যার মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। গত ১১ এপ্রিল দর্শনা সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আল আমিন সরদারের জুতার মধ্য থেকে ৯টি সোনার বিস্কুট জব্দ করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আটকরা সবাই ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মনে করেন, সোর্সের মাধ্যমে গোপন সংবাদ পাওয়ার পরই সোনা পাচারকারীদের আটক করা সম্ভব হয়। সোর্স কিংবা সীমান্তরক্ষীদের চোখ এড়িয়ে অনেক সোনা পাচার হয়ে যায় বলেও মনে করেন তাঁরা।

সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হলেও এর সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা ধরা পড়েনি। যারা ধরা পড়েছেন তাঁরা সবাই শ্রমিক শ্রেণির। রাঘব বোয়ালরা আড়ালে থেকে সোনা চোরাচালান ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা পাচারকারীদের গডফাদারদের ধরার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ইমাম হাসান বলেন, সোনা পাচারকারীরা দেশের সব সীমান্তপথেই পাচারের চেষ্টা করে থাকেন। ধরা পড়লে তাঁরা রুট পরিবর্তন করেন। তবে বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তপথে সোনা চোরাচালানচক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে।



মন্তব্য