kalerkantho


কুষ্টিয়ায় ১২ বছরের পশুহাট অস্থায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

১৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



১২ বছর ধরে অস্থায়ী নামে চলছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চড়াইকোল পশুহাট। ২০০৬ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অনুমতিতে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের পাশে এ পশুহাট বসানো হয়েছিল। এর পর থেকে আর বন্ধ হয়নি। এখনো চলছে অস্থায়ী নামেই।

এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের লোকজন শুরু থেকে এ হাটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে এ নিয়ে তৎকালীন নন্দলালপুর ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই সময় চেয়ারম্যানের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা পর্যন্ত করে। পরে পুলিশ চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করে অবৈধ মালামাল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে। কিছুদিন হাটের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, কুমারখালী থেকে কুষ্টিয়া যেতে ২৫-৩০ মিনিট লাগে। কিন্তু হাটের দিন (বুধবার) চড়াইকোল অতিক্রম করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আবারও ডিসির অনুমতি নিয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় দরপত্রের মাধ্যমে অস্থায়ী এ হাটের ইজারা দেয়। এর আগে হাট পরিচালনার জন্য ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হলে ইউএনও কার্যালয় তহশিলদারদের মাধ্যমে খাজনা আদায় করে। অস্থায়ী হাটের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর হাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কথা। কিন্তু ইউএনওর কার্যালয়ের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কিছুদিন হাটে টাকা আদায় করার পর ইজারা দেন। এ বিষয়ে ইউএনও মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘ডিসির কাছ থেকে অস্থায়ী পশুহাট বসানোর অনুমতি নিয়ে দরপত্রের মাধ্যমে তা ইজারা দেওয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বরে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় এ পশুহাটের দরপত্র শেষ হয়েছে।’

কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান বলেন, ‘জনস্বার্থে ডিসি অস্থায়ী পশুহাট বসানোর অনুমতি দিয়েছেন।’

এদিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে চলাচলকারী পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা জানায়, আঞ্চলিক মহাসড়ক হলেও এটি অনেক ব্যস্ত। বেহালের কারণে এমনিতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এর ওপর পাশে হাট-বাজার থাকায় সময় অপচয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।



মন্তব্য