kalerkantho


মেহেরপুরে এসএস বিদ্যানিকেতন

নানা অনিয়মের বেড়াজাল

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



কোচিং বাণিজ্য, বেশি বেতন নেওয়া, সরকারি বইয়ের বাইরে অন্যান্য বই পড়ানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের সদর উপজেলার কলাইডাঙ্গা-মোমিনপুর গ্রামের এস এস বিদ্যানিকেতন নামের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্য কক্ষগুলোতে প্লে থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, তৃতীয় শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কোচিং করানো হয়। দ্বিতীয় শিফটে তাদের পাঠদান চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সরকারি বইয়ের বাইরে বিদ্যালয় থেকে অন্যান্য বই কিনতে বাধ্য করা হয়। অফিস কক্ষের পাশে সরকারি বইয়ের বাইরে একটি বইয়ের তালিকা দেওয়া আছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্লে শ্রেণির ৩৫০ টাকা, নার্সারির জন্য ৩৮০ টাকা, প্রথম শ্রেণির ৪৩০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৭০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণীর ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ শ্রেণির বইয়ের মূল্য ৫৫০ টাকা। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ গোলাম কিবরিয়া জানান, প্লে থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির ৮৯ জন। তাদের মধ্যে ৬০ জন শিক্ষার্থী কোচিং করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য কোচিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী ৪৩৭ জন শিক্ষার্থীর অনুকূলে মাসিক বেতন ও কোচিং ফি বাবদ পৌনে দুই লাখ টাকার মতো আয় করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেই টাকা থেকে শিক্ষকদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় ৭০ হাজার টাকা। অথচ পরিচালক সেলিম মোল্লার দাবি, আয় তো দূরের কথা প্রতি মাসে স্কুল চালাতে গিয়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা ভর্তুকি দিচ্ছেন তিনি।

জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অ্যাসোসিয়েশন থেকে স্কুল চলাকালীন কোচিং চালানো নিষেধ করা আছে। আর দীর্ঘক্ষণ স্কুলে ছেলে-মেয়েদের ধরে রাখলে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও সচেতনতার অভাব রয়েছে।’ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আপিল উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি বিধি মোতাবেক কোনো কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কোচিং করানোর বিধান নেই। স্কুল টাইমে সরকারি বই পড়াতে হবে। যেহেতু দেশে একীভূত শিক্ষা চালু আছে তাই সেই সিলেবাসের ভেতরে অন্য কোনো বই অথবা গাইড অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। কেউ এর ব্যতিক্রম করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 



মন্তব্য