kalerkantho


মেধা বৃত্তি মাত্র ১২০ টাকা!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে মাত্র ১২০ টাকা করে দিচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। এ যুগে তা যৎসামান্য বলে অনেক শিক্ষার্থীর মত। কারো কারো মতে, মেধাকে অপমান করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগের সংখ্যা ৩৩টি। এর মধ্যে ২৫টি (নতুন আটটি বাদ) বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিক্ষাবর্ষের প্রথম সাতজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। সে হিসেবে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২৫।

মেধা ও সাধারণ—এ দুই ভাগে দেওয়া হয় বৃত্তি। এর মধ্যে প্রতি শিক্ষাবর্ষ থেকে তিনজন করে মোট ২২৫ জনকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। আর প্রতি শিক্ষাবর্ষ থেকে চারজন করে মোট ৩০০ জন পায় সাধারণ বৃত্তি। মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসিক ১২০ টাকা করে বার্ষিক এক হাজার ৪৪০ টাকা দেওয়া হয়। তাদের শিক্ষাদান ফি অবশ্য মওকুফ করে দিয়েছে ইবি প্রশাসন। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ১০০ টাকা করে বার্ষিক এক হাজার ২০০ টাকা পায়।

এ নিয়ে আল ফিকহ অ্যান্ড আইন অধ্যায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের মন্তব্য, ‘আমি দ্বিতীয় বর্ষে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছি। শুনলাম, প্রথম সাতজনকে বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি দেয়। মাসে ১২০ টাকা দেওয়ার কথা শুনে আর আবেদন করিনি। কারণ এ যুগে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ১২০ টাকা বৃত্তি দেওয়া অপমানের সমান।’

১৯৯৬ সাল থেকেই এ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বৃত্তি দিয়ে আসছে ইবি প্রশাসন। তৎকালীন নীতিমালা অনুযায়ী এ বৃত্তি দেওয়া হয়। পরে নীতিমালাটির কোনো সংশোধন হয়নি। সে সময় সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃত্তির জন্য বার্ষিক ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় প্রশাসন। দুই যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও টাকার পরিমাণ বাড়েনি। সম্প্রতি এফসি সভার সুপারিশে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে আট লাখ করা হয়েছে। কিন্তু টাকার পরিমাণ বাড়েনি। উল্টো সাতজনের পরিবর্তে ৯ জনকে বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বৃত্তি শাখা থেকে প্রশাসনকে একাধিকবার বরাদ্দ করা টাকার পরিমাণ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রশাসন বরাদ্দ না বাড়ালে বৃত্তির টাকার পরিমাণ আরো কমানো হতে পারে। কারণ বরাদ্দ করা টাকাই আমাদের বণ্টন করে দিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অতিদ্রুত ফিন্যান্স কমিটির সঙ্গে কথা বলব।’ উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই বিবেচনাযোগ্য। উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসের বাইরে আছেন। তিনি এলে আমরা বসে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেব।’



মন্তব্য