kalerkantho


কপোতাক্ষ নদে বাঁশের সাঁকো

ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের ওপর তৈরি করা হয়েছে ২১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো। সাঁকোটি তৈরি করেছে সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটি ও নদের দুই পারের মানুষ সম্মিলিতভাবে। এই সাঁকো দিয়েই নদ পারের তালা, কলারোয়া ও কেশবপুরের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত করতে হয়। পারাপারের একমাত্র উপায় এ সাঁকোটি মাঝেমধ্যে নষ্ট হয়ে গেলে ভোগান্তির অন্ত থাকে না তাদের। তা ছাড়া সাঁকোর ওপর দিয়ে শিশু, বৃদ্ধ, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি তাদের দীর্ঘদিনের।

এলাকবাসী জানায়, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে অবস্থিত পর্যটনকেন্দ্র, মধুপলী, ডাকবাংলো, কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, সোনালী ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। বর্ষা মৌসুমে এলাকার স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের তিন-চার কিলোমিটার পথ ঘুরে এ বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। মধুকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিবছর সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় বাঁশের সাঁকো দিয়েই হাজার হাজার মানুষ পার হয় মেলা উপভোগ করার জন্য। সাঁকো দিয়েই হাট-বাজার থেকে এলাকাবাসীর মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর দিয়ে মালামাল আনা-নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের পড়তে হয় বিপাকে। দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করা হলেও তা কেউ কানে নিচ্ছে না। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাগরদাঁড়ি হাটের কাঁচামাল ব্যবসায়ী শার্শা গ্রামের প্রদীপ সাহা ও সঞ্জয় দাস বলেন, নদের ওপর ব্রিজ না থাকায় তাদের মালামাল আনতে হয় কাঁধে বা মাথায় করে। সাগরদাঁড়ি বাজারে নদের ওপারের প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী হাটে ব্যবসা করে। ওপারের কৃষক অতুল ও রামপদ জানান, বর্ষা মৌসুমে সাঁকোর ওপর দিয়ে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শার্শা গ্রামের বাসিন্দা কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক রমেশ চন্দ্র দাস জানান, ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের। সাগরদাঁড়ির বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করছে। নদের দুপারের মানুষ বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।

বাজার কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ জানান, গত এক মাস আগে বাজার কমিটির উদ্যোগে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ২১০ ফুট লম্বা ওই সাঁকোটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবছর মধুমেলায় আগত অতিথিদের কাছে একটি ব্রিজ তৈরির দাবি করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। সাগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত বলেন, ‘কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমিতে অবস্থিত সব প্রতিষ্ঠানসহ বাজারটিও উন্নত হতো এবং প্রতিবছর মধুমেলায় জনগণের দুর্ভোগ কমত। ব্রিজ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হবে।’



মন্তব্য