kalerkantho

১ম ► ক লা ম

ক্ষোভ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আফাজ আলী (৬৫)। পেশায় কাঠ শ্রমিক। অসুস্থ স্ত্রী জয়তুন বিবি, ছেলে মিন্টু ও মেয়ে মমতাজকে নিয়ে যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার বালিয়াডাঙ্গায় যাপন করছেন মানবেতর জীবন। সংসারের খরচ মেটাতে এ বয়সেও কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। দীর্ঘ ৪৬ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়ায় হতাশা-ক্ষোভ ঝরল তাঁর কণ্ঠে। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলা শহরের কাঠের দোকানে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে আফাজ আলী জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলের কোতোয়ালি থানায় কর্মরত দারোগা আত্মীয়ের বাসায় থাকতেন। একপর্যায়ে থানার পাশের চায়ের দোকানদার বাবুর সঙ্গে যোগ দেন কাদেরিয়া বাহিনীতে। ১১ নম্বর সেক্টরে কাদেরিয়া বাহিনীর ৫ নম্বর কম্পানির অধীনে সম্মুখযুদ্ধে লড়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানী ও ১১ নম্বর আঞ্চলিক অধিনায়ক কাদের সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত স্বাধীনতাসংগ্রামের সনদপত্র এবং রণাঙ্গনের (৫ নম্বর কম্পানি) কমান্ডার রবিউল আলম গেরিলা স্বাক্ষরিত সনদ আছে তাঁর কাছে। সব সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার জমা দিয়েও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নিজের নাম উঠাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। শরীরে যুদ্ধের সময়ের ক্ষতচিহ্ন এখনো বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি।’ হতাশার সুরে আফাজ আলী বলেন, ‘আমি আর কাঠ শ্রমিকের কাজ করতে পারছি না। আমার সামনে কত অমুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ অর্থের অভাবে নিজের ও অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাই মৃত্যুর আগে শুধু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিটুকু পেতে চাই। মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেলে সব কষ্ট লাঘব হবে।’


মন্তব্য