kalerkantho


বকেয়ার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

রাষ্ট্রায়ত্ত আট পাটকলে কাজে ফেরেনি শ্রমিকরা

খুলনা অফিস   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি পাটকলের উৎপাদনের চাকা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রবিবার তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করে। সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে। দাবি আদায় না হলে রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে স্টার, প্লাটিনাম, দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট, ইস্টার্ন, জেজেআই ও আলীম নামের সাতটি জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। তবে শুরুতে কার্পেটিং এবং খালিশপুর জুট মিল চালু থাকলেও গত শনিবার থেকে সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিকরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে আট সপ্তাহের মজুরির দাবিতে প্লাটিনাম জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। পরে একে একে ক্রিসেন্ট, দৌলতপুর ও স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা তাদের মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করে। এ চারটি মিল বন্ধের খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে আটরা-গিলাতলা শিল্পাঞ্চলের ইস্টার্ন এবং যশোরের অভয়নগরের জেজেআই জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আলীম জুট মিলের উৎপাদনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত শনিবার খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

স্টার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন মল্লিক বলেন, শ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ন্যায্য পাওনা পরিশোধে মিল কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে। তার মিলের আট সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।

বিজেএমসি খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা গাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, অহেতুক শ্রমিকরা মিল বন্ধ করে পরিবেশ উত্তপ্ত করছে। কেউ কেউ ফায়দা লোটার জন্য এ আন্দোলন করছে। বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাটকলগুলোর সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে ক্রিসেন্ট জুট মিলে প্রায় পাঁচ হাজার, প্লাটিনামে সাড়ে চার হাজার, স্টারে সাড়ে চার হাজার, দৌলতপুর জুট মিলে ৬৫০, ইস্টার্নে দুই হাজার, আলীমে দেড় হাজার এবং জেজেআই জুট মিলে দুই হাজার ৬০০ এবং খালিশপুর জুট মিলে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক রয়েছে। এসব পাটকলের শ্রমিকদের চার থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।


মন্তব্য