kalerkantho


কুষ্টিয়ায় কারাগারে প্রশিক্ষণ

আলোর পথে হাজতিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কুষ্টিয়া জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ সেখানকার ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী সাধারণ হাজতিদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্বাক্ষরজ্ঞানহীনদের স্বাক্ষর ও অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার কাজ করছে। এরই মধ্যে ৬০ জন হাজতি বেকারত্ব ঘুচিয়েছে। তারা ওই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করে স্বাবলম্বী হয়েছে। তা ছাড়া ছয় শতাধিক হাজতি ও কয়েদি স্বাক্ষরজ্ঞান নিয়েছে। প্রশিক্ষিত কারারক্ষী ও দুর্ধর্ষ কয়েকজন শিক্ষিত কয়েদি এখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারা সুপার জাকের হোসেন গত ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে যোগদানের পর মার্চ থেকে নিজের তত্ত্বাবধানে তিন মাস মেয়াদি এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সহায়তায় প্রশিক্ষিত কারারক্ষী পীযুষ কান্তি মণ্ডল এসব হাজতিকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তাঁরা জামিনে মুক্ত হয়ে কেউ নিজে দোকান দিয়ে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামত করে রেকারত্ব ঘোচাচ্ছে, আবার কেউ অন্যের দোকানে চাকরি নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের বেকার কিশোর নাজমুল আলমকে এলাকায় মারামারি মামলার আসামি হিসেবে আটক করে পুলিশ জেলহাজতে পাঠায়। নাজমুল পাঁচ মাস ১০ দিন হাজতে ছিলেন। সেখানে তিনি তিন মাসের ফ্রি ইলেকট্রিক্যাল ও হাউস ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ নেন। জামিনে মুক্ত হয়ে নাজমুল কয়া বাজারে একটি ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি মেরামতের দোকানে কাজ নিয়ে এখন ভালো আছেন। নাজমুল বলেন, ‘আগে বেকার ছিলাম। এলাকায় গ্রাম্য বিবাদে জড়িয়ে মামলায় পড়ে জেলহাজতে গিয়ে দেখি সেখানে ফ্রি ইলেকট্রিক্যাল কোর্স করানো হচ্ছে। আমিও শিখতে শুরু করলাম। পাঁচ মাস ১০ দিন পর জেল থেকে মুক্ত হয়ে এখন গ্রামের দোকানে কাজ করছি।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সুপার জাকের হোসেন বলেন, ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ—এ ধারণা কাজে লাগিয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিনের নির্দেশে চেষ্টা করে যাচ্ছি এখানে আসা অল্প বয়সী হাজতিদের হাতে-কলমে কিছু শিক্ষা দিতে। যাতে তারা পরে কিছু একটা করে খেতে পারে। আর এখানকার শিক্ষিত কয়েদিদের দিয়ে অশিক্ষিত নিরক্ষর বন্দিদের স্বাক্ষর শেখানো এবং অক্ষর চেনানোর কাজও শুরু করেছি। নিয়ম করে দিয়েছি অশিক্ষিত কোনো বন্দি এখানে এলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে অক্ষর চেনা ও স্বাক্ষর করা শিখতে হবে।’



মন্তব্য