kalerkantho


১৭ বছর পর ইবিতে তিন বিদেশি মুখ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিন বিদেশি মুখ পেল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন নেপালের আকাশ কুমার মণ্ডল আর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সোমালিয়ার ইব্রাহিম আবু বকর। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইআইইআর) অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগ দিয়েছেন চীনের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক লিন হাইজুন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষেই আরো সাত বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হবে বলে জানিয়েছেন ভর্তির দায়িত্বে থাকা ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই নেপালের, আর দুজন সোমালিয়ার। খুব দ্রুতই তাঁদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও শিক্ষক রেজাউল করিম জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্বমানের পাঠদানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই এখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের থাকা-খাওয়ার কথা চিন্তা করেই ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে আছে আন্তর্জাতিক ব্লক। এ ব্লকে মোট ৬৪টি রুম আছে। প্রতিটি রুমে দুজন করে মোট ১২৮ বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন। কিন্তু বিদেশি শিক্ষার্থী না থাকায় রুমগুলো এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাদের দখলে ছিল। তবে বিদেশি শিক্ষার্থী আসতে থাকায় খালি করা হয়েছে ৩২টি রুম। 

আরো জানা যায়, দীর্ঘদিনেও সেই অর্থে বিদেশি শিক্ষার্থীর দেখা পায়নি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন নেপালের জাকাউল মোস্তফা। ২০০০-০১ শিক্ষাবর্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিক্ষার্থী আনিসা আনসারী ভর্তি হয়েছিলেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। আনিসা অনার্স-মাস্টার্স শেষ করলেও জাকাউল অনার্স না করেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবার তিন বিদেশির দেখা পেল বিশ্ববিদ্যালয়টি।

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়েছেন নেপালের আকাশ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ফলিত পুষ্টি এবং খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগে সোমালিয়ার ইব্রাহিম ভর্তি হয়েছেন। দুজনই শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। বেশ ভালো বাংলা বলতে পারেন আকাশ। তিনি বলেন, ‘আমি আগে থেকেই হিন্দি সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত। হিন্দি ও বাংলা ভাষার অনেক মিল আছে। তাই বাংলা ভাষা শিখতে আমার কষ্ট হয়নি।’ বাংলা শিখতে সহপাঠীরা অনেক সহযোগিতা করেছে বলে তিনি জানান।

সোমালিয়া থেকে আসা ইব্রাহিম বলেন, ‘ফুড ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি বাংলাদেশে এসেছি এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। বাংলাদেশ আমার অনেক ভালো লেগেছে। এখানকার মানুষগুলো খুবই আন্তরিক। বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীরা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করে।’ তবে বাংলা ভাষা অনেক কঠিন বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে চীনের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক লিন অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগ দিয়েছেন ‘আইআইইআর’-এ। ইনস্টিটিউটের অধীনে ভর্তি হওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষা শিখাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে দুই ভাষা শিখে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে চীনে গেছেন। শিক্ষার্থী আবু হুরাইরা বলেন, ‘দুই মাস লিন হাইজুন স্যারের সংস্পর্শে এসে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর মাধ্যমে জানলাম চীনাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে। জেনেছি চীনাদের সাফল্যের চাবিকাঠি সম্পর্কেও।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘সামনের বছরগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে।’



মন্তব্য