kalerkantho


জানা-অজানার গোলকধাঁধায়

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



জানা-অজানার গোলকধাঁধায়

পঞ্চমবারের মতো বড় পর্দায় জুটি বেঁধেছেন পেনেলোপি ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। তার চেয়েও বড় কথা, এটা আসগর ফরহাদির ছবি। আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘এভরিবডি নোজ’ নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

 

মনের অন্তর্নিহিত নানা বিষয় রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে তাঁর জুড়ি নেই। ৪৬ বছর বয়সী ইরানের পরিচালক আসগর ফরহাদির বিশ্বজুড়ে পরিচয় ‘আ সেপারেশন’ এবং ‘দ্য সেলসম্যান’ দিয়ে। ছবি দুটি অস্কারে শ্রেষ্ঠ বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের খেতাবও জয় করেছে। এবার একটু ভিন্ন রূপে পর্দায় আসছেন ফরহাদি। তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘এভরিবডি নোজ’ একেবারে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার। স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল।

ছবির গল্পটা এমন—স্পেনের নাগরিক লরা চাকরির সুবাদে থাকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে। ছোট বোনের বিয়ে উপলক্ষে দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বহুদিন পর লরা ফিরে আসে নিজের শহরে। বিয়েতে দেখা হয় পুরনো প্রেমিক পাকোর সঙ্গে। লরা হারিয়ে যেতে থাকে সেই যৌবনের দিনগুলোতে। তবে হুট করে ছোট মেয়েটার অপহরণ সব কিছু বদলে দেয়। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার এই লড়াইয়ে লরার এমন এক অতীত আছে, যাকে গোপন করতে প্রতিদিনই যুদ্ধ করে চলেছে সে। একদিকে টান টান উত্তেজনার এক অপহরণের গল্পের সঙ্গে ছবিটিতে মানুষের মনের দ্বৈত সত্তার গল্পও আছে। ছবির প্রধান চরিত্র লরা করেছেন পেনেলোপি ক্রুজ। তাঁর সাবেক প্রেমিক পাকোর চরিত্রে আছেন বাস্তব জীবনে পেনেলোপির স্বামী অস্কারজয়ী অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম।

‘দ্য পাস্ট’-এর পর এটি দ্বিতীয় ছবি, যা ইরানের বাইরে শুটিং করেছেন ফরহাদি। ফারসি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় নির্মিত দ্বিতীয় ছবিও এটি।

স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত হলেও চলচ্চিত্রটির অর্থায়ন হয়েছে তিনটি দেশ থেকে—ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের কাজ অর্ধেক শেষ করে একবার বিরতি নিয়েছিলেন ফরহাদি। উদ্দেশ্য ছিল ইরানে ফিরে গিয়ে ‘দ্য সেলসম্যান’ পরিচালনা করা। পরে সেই ছবির জন্য অস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। ‘এভরিবডি নোজ’ নির্মাণের পর থেকেই চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে রাজত্ব করে আসছে। মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে গেল বছর এই ছবি দিয়েই পর্দা ওঠে।

‘নো কান্ট্রি ফর ওল্ডম্যান’-এর জন্য অস্কার পাওয়া স্প্যানিশ তারকা হাভিয়ের বারদেম অত্যন্ত খুশি ফরহাদির সঙ্গে কাজ করতে পেরে। দুজন একে অন্যের ভাষা না বুঝলেও অনুবাদকের জন্য কাজ করতে সমস্যা হয়নি। তবে চলচ্চিত্রটিকে নিছক একটি থ্রিলার ভাবতে নারাজ এই নন্দিত তারকা, ‘এতে উত্তেজনা যেমন রয়েছে, তেমনি আছে মানুষের গল্পও। একটা সত্তাকে নিজের সত্যর সামনে দাঁড় করানোর গল্পটা ফরহাদির চেয়ে ভালো কেউ বলতে পারে না।’

পেনেলোপি ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম এবার পঞ্চমবারের মতো বড় পর্দায় জুটি বাঁধলেন। ২০১০ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর ‘এভরিবডি নোজ’-এ তৃতীয়বারের মতো জুটি হয়েছেন।

 



মন্তব্য