kalerkantho


চুরি যাওয়া ছেলেবেলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে শিশুরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারই বয়ান ‘ক্যাপেনিউম’। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন অংগন মাহমুদ

৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



চুরি যাওয়া ছেলেবেলা

ক্ষমতাসীনদের লোভের যুদ্ধে যখন জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য, তখন সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। রঙিন এক পৃথিবীতে বেড়ে ওঠার বদলে সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিনি শিশুদের লড়াই করতে হচ্ছে একমুঠো ভাতের আশায়, কখনো বা স্রেফ বেঁচে থাকার আশায়। এ গল্পই ফুটে উঠেছে নাদিন লেবাকির ‘ক্যাপেনিউম’-এ। লেবাননের ১২ বছর বয়সী শিশু জেইনের জীবনসংগ্রাম ঘিরে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। প্রধান চরিত্র করেছে ১২ বছর বয়সী জেইন আল রাফিয়া।

‘ক্যাপেনিউম’-এ যে বাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন পরিচালক তা পশ্চিমা বিশ্বের অনেকের কাছেই ছিল জাদুবাস্তবতার কোনো গল্প। কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটি দেখানোর পর উপস্থিত দর্শকরা ১৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে চলচ্চিত্রটিকে। লেবাকি বলেন, ‘দিন শেষে সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা লোভের চরমতম মূল্য দিচ্ছে এই শিশুরা। তাদের হয়ে বলাটাকে নিজের দায়িত্ব মনে করেছি।’

রুপালি পর্দায় গল্পটি ফুটিয়ে তোলার জন্য নির্ভর করেছেন সব নবিশ অভিনেতার ওপর। বিভিন্ন চরিত্রে রূপদানকারী বেশির ভাগ অভিনেতার জন্যই এটা ছিল ক্যামেরার সামনে প্রথমবার দাঁড়ানো। অভিনেতাদের সঙ্গে চরিত্রগুলোর গল্পের যেন মিল থাকে সেদিকেও খেয়াল রেখেছেন চলচ্চিত্রকার। প্রধান চরিত্র করা জেইন আল রাফিয়া নিজেই একজন সিরিয়ান শরণার্থী, যে মাত্র চার বছর বয়সে যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসে লেবাননে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক খালেদ মৌজনার নিজের বাড়িটা বন্ধক রেখেছিলেন চলচ্চিত্রটি নির্মাণে অর্থের সংস্থানে।

চলচ্চিত্রটির একটি দৃশ্য নিয়ে পৃথিবীজুড়েই আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে। একটি পর্যায়ে আদালতে জেইন তার মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। মামলা ঠোকার কারণ জানতে চাইলে জেইন উত্তর দেয়, ‘আমাকে পৃথিবীতে আনার অপরাধে আমি তাঁদের শাস্তি চাই।’ শিশুদের জন্য বর্তমান পৃথিবী যে কতটা নিষ্ঠুর তার পুরোপুরি উপলব্ধি করা যায় জেইনের এই উক্তির মাধ্যমে।



মন্তব্য