kalerkantho

প্রথম ভোট

৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রথম ভোট

চলছে ভোটের মাস। চারদিকে নির্বাচনী আমেজ। শোবিজের উঠতি তারকাদের অনেকেই এবার প্রথমবার ভোট দেবেন। এমন ৫ তারকা বলেছেন তাঁদের এক্সাইটমেন্টের কথা, কেমন প্রার্থীই বা তাঁদের পছন্দ। এর মধ্যে তিনজন নতুন ভোটার। দুজন আগে ভোটার হলেও এবারই প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে তাঁদের কথা  লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

 

তাঁরা নতুন ভোটার

শান্তি জিতলে জিতবে দেশ

ঐশী ফাতিমা তুজ জাহরা গায়িকা

রাজনৈতিক বিষয়ে কিছু বলার বয়স আমার এখনো হয়নি, নিজেকে এখনো ছোটই মনে করি। কাকে ভোট দেব, সেই বিবেচনাবোধ আসেনি আমার মধ্যে। তবে যে বছর আমার ১৮ বছর হলো, খুবই এক্সাইটেড ছিলাম, কী মজা, আমি ভোট দিতে পারব! এমনকি সেবারের জন্মদিনেও আমার ভোটার হওয়ার বিষয়টা বারবার মাথায় এসেছিল। কিন্তু এরপর কয়েক বছর কেটে গেল, নির্বাচনের দেখা পেলাম না। এক্সাইটমেন্টটা কেটে গেল। এবার নির্বাচনের ডামাডোলে আবার সেই এক্সাইটমেন্টটা ফিরে এসেছে। আমি মহাখালীতে থাকি, ভোটকেন্দ্র সম্ভবত তেঁজগাও এলাকায়। আমি আসলে তরুণ প্রার্থীর পক্ষে। আমার মনে হয়, ইয়াংরা দারুণভাবে দেশটাকে নেতৃত্ব দিতে পারবে।

তবে সাদা চোখে দেখলে আমি দেখব আমার দেশের উন্নতি। ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থীদের অতীত ও ভবিষ্যৎ মেলাব, কার শাসনামল কেমন ছিল। আমার ভোটটা যেন কাজে লাগে সেটা মাথায় রাখব।

এবার নির্বাচনে ‘শান্তি চাই’ শিরোনামে একটি জিঙ্গেল করলাম। টিভিতে খুব প্রচারিত হচ্ছে এটি। গানটি কোনো দলকে ভিত্তি করে নয়। সেখানে বলা হচ্ছে, ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ।’ এটা কিন্তু দারুণ মেসেজ। জাতীয় নির্বাচনে আমার এই কন্ট্রিবিউশনের জন্যও বেশ ভালো লাগছে।

 

আমার পছন্দ তরুণ প্রার্থী

প্রীতম হাসান গায়ক-সুরকার

আমি আসলে ঘরমুখো ছেলে। নির্বাচন নিয়ে এক্সাইটমেন্ট কখনোই ছিল না। কোনো দিন ভোটকেন্দ্রেও যাওয়া হয়নি। এবারের নির্বাচন আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবার আমি ভোটার। আমার বাসা আফতাবনগর, এই এলাকারই ভোটার। ভোট দিতে যাব। আশা করছি, সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট হবে। আমার পছন্দ তরুণ প্রার্থী। কারণ তরুণরা সুযোগ পেলে দেশকে এই সময়ে একটু বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। সিনিয়রদের সম্মান রেখেই বলছি, নতুনরা ডিজিটাল যুগের সুবিধা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। ভালো-মন্দ শোনার ক্ষমতা থাকতে হবে প্রার্থীর। সবার কাছে যেন যেতে পারেন। শুধু এক দিনের জন্য নয়, সারা বছরই তিনি আমাদের নেতা থাকবেন।

 

প্রার্থীর অতীত দেখে নেব

জেফার রহমান ইউটিউবার

এ বছরই ভোটার হলাম। ভোট নিয়ে আমার কখনোই মাথাব্যথা ছিল না। ভোটার ছিলাম না বলেই মাথাব্যথা ছিল না। আমাদের জেনারেশনের অনেকেই ভাবে—ধুর, একটা ভোট না দিলে কী হবে! এটা মোটেও ঠিক নয়। প্রত্যেকের ভোট দেওয়া উচিত। আমি ভোট দিতে যাব। কাকে ভোট দেব এখনো চূড়ান্ত করিনি। তুলনামূলকভাবে দেশের জন্য যিনি ভালো কিছু করতে পারবেন, তাঁকেই ভোট দেব। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তরায়। এ এলাকারই ভোটার। এমন কাউকে চাই, যিনি মানুষের কাছাকাছি থাকবেন। শুধু সংসদ আর সমাবেশে নয়, রুট লেভেলের কাছেও যাবেন। নির্বাচন এলেই ভোট চাইতে আসেন যাঁরা তাঁদের ভোট দেব না। বছরে একবার হলেও যিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেন, এমন লোককে ভোট দেব। প্রার্থীর অতীতটাও দেখে নেব।

 

প্রথমবার ভোট

আমাদের এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা

মেহজাবীন চৌধুরী অভিনেত্রী

ভোটার হয়েছি আগেই। তবে এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেব। জাতীয় নির্বাচন তো হয়েছে অনেক দিন আগে, তখন ভোটার ছিলাম না। এবার আশা করি ভালো পরিবেশ থাকবে, সবাই ভোট দিতে পারব। এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই, যাঁর ভাবনায় শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যত্টাও থাকবে। দেশে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। কাজের জন্য কত মানুষই দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। তারা যেন দেশেই কাজ করতে পারে, দেশের জন্য কাজ করতে পারে। আমি উত্তরার ভোটার। দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল আমার এলাকায় যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে আশা করি। আমার বেড়ে ওঠা দেশের বাইরে। দেশে ফিরেই শোবিজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। সে কারণে ভোট নিয়ে মজার কোনো অভিজ্ঞতা হয়নি। ভোটকেন্দ্রে কখনোই যাইনি। তবে ভোটটা উৎসবমুখরই হওয়া উচিত বলে মনে করি। ভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক অবস্থা খারাপ হবে, সেটা কখনোই কাম্য নয়। আমাদের এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।

 

বাক্স্বাধীনতা দিতে হবে

শবনম ফারিয়া অভিনেত্রী

ছোটবেলা মফস্বলেই কাটিয়েছি। মা-বাবা ভোট দিতে গেলে আমাকেও নিয়ে যেতেন। খুশি করার জন্য তাঁরা আমার আঙুলেও কালি লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আঙুলে পানি লাগাতাম না, যেন দাগটা অনেক দিন থাকে। সবাইকে বলতাম, আমিও ভোট দিয়েছি।

গতবারই ভোটার ছিলাম। কিন্তু সেবার আমার এলাকায় ভোট হয়নি। একজনই ছিলেন প্রার্থী, তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এবার আমি ভোট দিতে চাই। এখন পর্যন্ত বুঝতে পারছি না, আদৌ ভোট হবে কি না। শান্তিনগরে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যেত। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এলাকার সবারই দাবি ছিল জলাবদ্ধতার অবসান। বিজয়ী প্রার্থী কথামতো সমাধানও করে দিয়েছেন। এখন সমস্যা যানজট, রাস্তাঘাটও ভেঙে যাচ্ছে। যাঁরা আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসবেন, তাঁদের কাছে একটাই দাবি, এলাকার সমস্যার সমাধান। আমি তো রাজনীতির লোক নই। দল দেখে নয়, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেব। যাঁর সম্পর্কে জেনে মনে হবে দেশের জন্য কাজ করবেন, তাঁকেই মূল্যবান ভোটটা দেব। আমাকে বাক্স্বাধীনতা দিতে হবে, এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত কয়েক বছরে দেশ এগিয়েছে, সেটাও বিবেচ্য।

 



মন্তব্য