kalerkantho


এই সময়ের চরিত্রহীন

হইচই অ্যাপে চলছে ‘চরিত্রহীন’। শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা অবলম্বনে ওয়েব সিরিজটির ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই আলোচনায়। লিখেছেন লতিফুল হক

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



এই সময়ের চরিত্রহীন

সেই ১৯১৭ সালে ‘চরিত্রহীন’ লিখেছিলেন শরত্চন্দ্র। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা উপন্যাসটি নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয় বিতর্ক। ১০০ বছর পরে এসেও বিতর্ক থেকে মুক্তি নেই ‘চরিত্রহীন’-এর। সাহসী দৃশ্যের জন্য ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় ওয়েব সিরিজটি। শরত্চন্দ্রের কাহিনি থেকে হুবহু তৈরি হয়নি সিরিজটি, পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য এটাকে সাজিয়েছেন আজকের সময়ের মতো করে। তবে প্রধান চরিত্র হারান, সরোজিনী, কিরণময়ী, সাবিত্রী—সবাই আছে। সপ্তাহ দুই আগে প্রচার শুরুর পর ফলও দারুণ। শো যেদিন প্রচারিত হয় সেদিন ‘হইচই’ অ্যাপে রেকর্ড সাবস্ক্রিপশন হয়। অভিনেতা সৌরভ দাস বলছেন—এটা বিশেষ কিছু, ‘প্রায় সবাই পুরো পর্ব দেখেছে। এমন না যে শুধু সাহসী দৃশ্যের জন্য এটা দেখছে। সাহসী দৃশ্য তো অনেক ছবিতেই থাকে। এটা এমনভাবে বানানো হয়েছে, যাতে দর্শক শেষ পর্যন্ত দেখতে বাধ্য হয়। প্রথম দিন দেখার জন্য দুই লাখের বেশি সাবস্ক্রিপশন হয়েছে।’ শোর পরিচালক দেবালয়ের এটাই সবচেয়ে হিট কাজ বলার অপেক্ষা রাখে না। বড় পর্দায় তিনি ‘রোগা হওয়ার সহজ উপায়’ বা ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ দিয়ে ততটা মন জয় করতে না পারলেও ওয়েব সিরিজ ‘দুপুর ঠাকুরপো’ এবং ‘জাপানী টয়’ দিয়ে আলোচনায় ছিলেন। ‘চরিত্রহীন’ যেন সেটাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিরিজের গল্প হারান ও কিরণময়ী দম্পতিকে নিয়ে। এক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়ার পর হারান-কিরণময়ীর সম্পর্কে ফাটল ধরে। স্বামীকে ভালোবাসলেও কিরণময়ী সম্পর্কে হারানের সন্দেহ হতে থাকে। অন্যদিকে ম্যাসাজ পার্লারের কর্মী সাবিত্রীকে ভালোবাসে সতীশ। কিন্তু হঠাৎ কিরণময়ীর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তার দিকে আকৃষ্ট হয়। তৈরি হয় সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। ছবিতে কিরণময়ী চরিত্র করেছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁকে ট্রেলারে সাহসী ভূমিকায় দেখা গেছে। বাঙালি অভিনেত্রী হলেও এটাই বাংলায় তাঁর প্রথম কাজ। দক্ষিণে ক্যারিয়ার শুরু করা অভিনেত্রী কাজ করেছেন রামগোপাল ভার্মার একটি ছোট ছবিতে। এ ছাড়া তামিল ও হিন্দি আরো কিছু কাজও আছে। বাংলায় ‘চরিত্রহীন’-এর মতো সিরিজ পেয়ে দারুণ আনন্দিত তিনি, ‘আগে আমি যা করেছি, প্রায় সবই লাভ স্টোরি। এটা একেবারেই আলাদা, অনেকগুলো স্তর আছে। কিরণময়ী চরিত্রটাই দারুণ। এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাকে প্রতিদিনই নানা কিছু নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়।’ পর্দায় তাঁর উত্তাপ ছড়ানো পারফরম্যান্স নিয়ে নানা আলোচনা হলেও নিরুত্তাপ অভিনেত্রী, ‘আমার কাজ চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা, সেটার জন্য যা দরকার করেছি। অবশ্যই শুরুতে অস্বস্তি ছিল। কিন্তু পরিচালক আর সহ-অভিনেতা মিলে সেটা কাটিয়ে দিয়েছেন।’

সিরিজ নিয়ে পরিচালক বলছেন, ‘এত বছর ধরে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা লেখা রয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে বাংলায় তেমন কোনো কাজ হয়নি। আমার মনে হলো ওয়েবটাই সঠিক মাধ্যম, যেখানে এটা তুলে ধরা যাবে। দেখা যাচ্ছে, ঠিকই ভেবেছিলাম।’



মন্তব্য