kalerkantho

মনোজের সুসময়

দুই বছর আগে রঙের মেলার ‘নূতনের কেতন’-এ ফিচার হয়েছিলেন মনোজ কুমার প্রামাণিক। আর এখন টিভি নাটকের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেতাদের একজন। গেল এক বছরে অভিনয় করেছেন এ সময়ের প্রায় সব জনপ্রিয় পরিচালকের নাটকে। লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



মনোজের সুসময়

‘রোমান্টিক নাটকেই কিন্তু বেশি দেখা যাচ্ছে’—মন্তব্যটাকে অভিযোগই ধরে নিলেন। ‘সব ধরনের চরিত্রই করতে চাই। কিন্তু আমরা অভিনয়শিল্পীরা তো এক ধরনের পরাধীন। নিজের পছন্দমতো চরিত্রে অভিনয় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না সব সময়। গল্প আর স্ক্রিপ্টের ওপর নির্ভর করতে হয়। আমার কাছে বেশির ভাগ পরিচালকই রোমান্টিক গল্প নিয়ে আসেন’—বললেন মনোজ।

তবে রোমান্টিক চরিত্রের বাইরেও যে অভিনয় করেননি তা নয়। আয়নাবাজি অরিজিনাল সিরিজের ‘ফুল ফোটানোর খেলা’ করেছিলেন। দ্বৈত চরিত্র, পারফরম করেও বেশ তৃপ্ত মনোজ। সৈয়দ আহমেদ শাওকীর নাটক ‘কথা হবে তো’তে উবারচালক, শাফায়াত মনসুর রানার ‘শহরে নতুন গান’-এ হয়েছেন মূক। রেদওয়ান রনির ‘বিয়ের দাওয়াত রইলো’তে ইভেন্ট ম্যানেজার। সব কটিতেই বেশ ভালো রেসপন্স পেয়েছেন। ‘নিয়মিত অভিনয় করতে গেলে ভালো-মন্দ মিলিয়েই করতে হয়। সেভাবেই চলছে। অনেক কাজ করতে পারছি। কাজ করার মধ্যে আনন্দ আছে বলেই কাজ করি’—বললেন মনোজ।

আইফ্লিক্সের চারটি শর্টফিল্মও করেছেন। উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় রাখলেন সেগুলোও—রিহান রহমানের ‘মাকড়সা’, আশফাক নিপুণের ‘কে?’, ইফতেখার আহমেদ ফাহমির ‘একটি সবুজ ব্যাগ’, সর্বশেষ করলেন মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘পাসওয়ার্ড’। আইফ্লিক্সের জন্য কাজ করতে ভালোই লাগে মনোজের, ‘কারণ গল্পগুলো হয় আউট অব দ্য বক্স। বেশ এনজয় করছি। টিভি নাটকে অনেক সময় সব গল্প বলা যায় না, এখানে সেটা সম্ভব হয়।’

ময়মনসিংহে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে। সে খবর অনেকেরই জানা। অভিনয়ে ব্যস্ততা বাড়লেও শিক্ষতা ছাড়তে রাজি নন।

শুধু ছোট পর্দায়ই নয়, মনোজের আছে বড় পর্দার খবরও। ২৩তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় মনোজ অভিনীত ‘ইতি তোমারই ঢাকা’। ঢাকার নিম্নমধ্যবিত্তদের জীবন নিয়ে চলচ্চিত্রটি। মনোজ করেছেন এক চাকরিজীবীর চরিত্র। কর্মব্যস্ততার জন্য যাকে রাত করে বাড়ি ফিরতে হয়।

সামনের বছর মুক্তি পাবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’। এখানে মনোজ জঙ্গি। ছবিটি নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত এই অভিনেতা, ‘চেহারায় পুরোপুরি জঙ্গি লুক আনতে প্রায় দুই মাস কসরত করতে হয়েছে। ছোট ছোট শট নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা হয়, এটা সবাই জানেন। কিন্তু এই ছবি ব্যতিক্রম। এক শটে পুরো ছবি। মঞ্চনাটকের মতো আমরা টানা কাজ করেছি। এ এক দারুণ অভিজ্ঞতা!’

আরো দুটি সিনেমার কথা চলছে। কার ছবি? নাম কী? চূড়ান্ত হওয়ার আগে কিছুই জানাতে চান না।

 



মন্তব্য