kalerkantho


এবার নাটকে তানভীর

মডেলিং থেকে সরাসরি চলচ্চিত্রে। ‘গহীন বালুচর’-এ প্রশংসিতও হয়েছেন। তবু হাতে নেই নতুন ছবি। এখন অভিনয় করছেন নাটকে। আবু হুরায়রা তানভীরকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এবার নাটকে

তানভীর

হলিউড অভিনেতা জনি ডেপের বড় ভক্ত। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মতো অভিনয় করার চেষ্টা করেন। পরিচিত মানুষজন জানে, ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ অভিনেতাকে ভালোই কপি করতে পারেন তানভীর। শুধু জনি ডেপের সিনেমাই নয়, প্রচুর ইংরেজি সিনেমা দেখেন। এসব দেখতে দেখতেই চলচ্চিত্রের প্রেমে পড়ে গেলেন। নিজেই নায়ক বনে গেলেন বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’-এ। প্রথম ছবি তাঁকে কতটা নায়ক বানিয়েছে আর কতটা অভিনেতা? ‘কিছুটা হলেও আমি অভিনেতা হতে পেরেছি। ছবি কতটা ব্যবসাসফল হয়েছে সেটার বিচার করব না। বিচার করব দর্শকের রেসপন্স। যাঁরাই ছবিটি দেখেছেন, আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। সমালোচকদের মতেও এটা ভালো ছবি’—বললেন তানভীর।

গত বছরের শেষ শুক্রবার মুক্তি পাওয়া ছবিটির এখনো প্রশংসা পান। এইতো কিছুদিন আগের ঘটনা। একটা রেস্টুরেন্টে গেছেন খেতে। খাওয়াদাওয়া শেষে আর বিল নেবেন না রেস্টুরেন্ট কর্মকর্তারা। বিল নিতে বারবার অনুরোধ করলেন তানভীর। কর্মকর্তারা বললেন, ‘আপনার ছবিটা দেখেছি। আপনি আমাদের রেস্টুরেন্টে এসেছেন, আমরা এতেই খুশি।’

কথা ছিল ‘গহীন বালুচর’-এর পর সিনেমাই করবেন নিয়মিত। দুটি সিনেমা করার জন্য পাকা কথাও দিয়েছেন। শেষ মুহূর্তে আর হয়নি ছবিগুলো। কী আর করা! নাম লেখালেন ছোট পর্দায়। টিভি নাটকে খুব যে ব্যস্ত, তা কিন্তু নয়। গেল দুই ঈদের নাটক করেছেন গুনে গুনে—শিহাব শাহীনের ‘কিছু দুঃখ সবার থাকে’ এবং রুবেল হাসানের ‘যে কথা হয়নি বলা’। তানভীর বলেন, ‘ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে নাটকে নিয়মিত হতে চাই। গত দুই ঈদে সেই প্র্যাকটিস শুরু করেছি। আমার ধারণা, নাটকে রেগুলার হলে অভিনয়দক্ষতা একটু হলেও বাড়বে। প্র্যাকটিসটাও থাকবে। সিনেমার অফার না পেলে তো ঘরে বসে থাকতে পারব না। তা ছাড়া আমি থিয়েটার থেকে আসিনি। অভিনয়দক্ষতা বাড়াতে টিভি নাটকের বিকল্প নেই। ফিল্মেও এটা হেল্প করবে।’

আগামী মাসে তাঁর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘ছায়া মুখোশ’ প্রকাশিত হওয়ার কথা। ১০ পর্বের সিরিজটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন ‘গহীন বালুচর’-এর নায়িকা নীলাঞ্জনা নীলা। রচনা ও পরিচালনায় আছেন বদরুল আনাম সৌদও। তানভীর মূল চরিত্রে অভিনয় করলেও সুবর্ণা মুস্তাফা, শাহাদাত হোসেনের মতো সিনিয়র শিল্পীরাও আছেন। ‘এটা অনেকটা রোমান্টিক থ্রিলার। আমার চরিত্রটা একই সঙ্গে পজিটিভ ও নেগেটিভ। অসাধারণ একটা সিরিজ হয়েছে।’

ছোট পর্দায় নিয়মিত হয়ে গেলে কি বড় পর্দায় সুবিধা করা সম্ভব? ‘ছোট পর্দায় অভিনয় করে বড় পর্দায় যাওয়া যাবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তা ছাড়া আমার শুরুটা তো ফিল্ম দিয়েই। এই যে চঞ্চল চৌধুরী, তিনি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেন, আবার সিনেমাও করেন। তাঁর ছবি কিন্তু প্রশংসিত ও ব্যবসায়িকভাবে সফলও হয়’—বললেন তানভীর।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সিনেমায় অভিনয়ের জন্য মাঝখানে বেশ অনেকটা সময় গ্যাপ গিয়েছিল। পড়াশোনা শেষে অন্য কোনো পেশা নয়, অভিনয়েই নিয়মিত থাকতে চান। জোর গলায় বললেন, ‘পেশাদার অভিনেতা হতেই এসেছি, শখে নয়। অভিনয়ের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতেই রাজি।’



মন্তব্য