kalerkantho

প্রথম টিভি লাইভ

টিভি চ্যানেলগুলোতে চলছে লাইভ সংগীতানুষ্ঠানের হিড়িক। প্রথম টিভি লাইভে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন আইয়ুব বাচ্চু, কনা, মুহিন ও বিউটি। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




প্রথম টিভি লাইভ

সারাক্ষণই মনে ভয় ছিল

কনা

টিভিতে প্রথম লাইভ সংগীতানুষ্ঠান করি ২০০৮-০৯ সালে। এটি ছিল আরটিভির ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান। আমার সঙ্গে অতিথি ছিলেন এলিটা। উপস্থাপনায় অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। সেবারই প্রথম কোনো টিভি লাইভ উপস্থাপনা করেন নাটকের কোনো তারকা। বিশেষ অনুষ্ঠান বলে সবার আগ্রহও ছিল বেশি। বিভিন্ন অঙ্গনের ১০-১২ জন সেলিব্রিটি কল করেছিলেন। সারাক্ষণই মনে ভয় ছিল। গাওয়ার আগে থেকেই মনে হচ্ছিল কিছু না কিছু ভুল হবে! ঠিকমতো সুরে গাইতে পারব কি না—এই চিন্তাটা ছিল সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে এলিটা থাকায় আমার জন্য সুবিধাই হয়েছে। দুজন মিলে টানতে পেরেছি। অনুষ্ঠান শেষে পরিচিতজনদের অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে লতা মুঙ্গেশকরের গাওয়া আমার অন্যতম প্রিয় গান ‘বাঁশি কেন গায়’ করেছিলাম। সে গানটি পরে কারা যেন ইউটিউবে আপ করেছে। মাঝে মাঝে নিজেই ইউটিউবে গিয়ে সে গানটি শুনি।

 

 

লিড গিটারের অ্যামপ্লিফায়ার নাই

আইয়ুব বাচ্চু

কোন চ্যানেলে প্রথম লাইভ গান করেছি সেটা এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। তবে সম্ভবত প্রথম শোতে আমরা নির্দিষ্ট সময়ের ৫ থেকে ১০ মিনিট পর হাজির হয়েছিলাম। প্রথম শো বলেই বিষয়টি বুঝে উঠতে পারিনি। সেটে গিয়ে দেখি আমাদের লিড গিটারের অ্যামপ্লিফায়ার নাই, যেটা দিয়ে সাউন্ডটা বাড়ানো হয়। বিষয়টি শুরুতে আমরা খেয়াল করিনি, বুঝেছেন প্রযোজক। পরে তিনি সেটা ম্যানেজ করেন। এ ছাড়া পুরো শোতে বাজানোর, গান করার অভিজ্ঞতা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম লাইভ হলেও এ নিয়ে কারো কোনো টেনশন ছিল না। দর্শক-শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়াও ছিল বেশ ভালো। এরপর একুশে টিভির একটি লাইভে রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত গান করেছি আমরা। বাংলাদেশে এত সময় ধরে আর কোনো শিল্পী গান করেননি। এটা আমার সারা জীবন মনে থাকবে।


 

হঠাৎ পৃষ্ঠাটি উল্টে যায়

বিউটি

২০০৭ সালের কথা। সবেমাত্র ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ থেকে বেরিয়েছি। একদিন প্রযোজক শাহরিয়ার ভাই ফোন করে বললেন, “আরটিভিতে ‘তোমার জন্য আমার এ গান’ শিরোনামের একটি লাইভ অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্বেই তোমাকে গাইতে হবে।” সাতপাঁচ না ভেবে সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি দিয়ে দিই। এখন যেমন একটি লাইভের আগে মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে গান নিয়ে বসি, প্র্যাকটিস করি, তখন সে সুযোগ ছিল না। সেটে গিয়েই সবার সঙ্গে আলাপ। উপস্থাপনায় ছিলেন রাজীব। গান শুরু করতে না করতেই ফোনের পর ফোন আসা শুরু হলো। একেকজনের একেক অনুরোধ। প্রথম দুটি গানের পর লালনের ‘ক্ষম অপরাধ’ ধরি। লিরিক দেখে দেখে গাইছিলাম। হঠাৎ পৃষ্ঠাটি উল্টে যায়, যা আমি বুঝতে পারিনি। এর কারণে ‘ক্ষম অপরাধ’-এর মুখ গাওয়ার পর লালনের আরেকটি গানের অন্তরা গাইতে শুরু করি। দুটির সুরও ছিল কাছাকাছি, তাই বুঝতে পারিনি। শো শেষ হওয়ার পর সবাই এটা নিয়ে বেশ হাসাহাসি করছিল! লাইভে গান করতে গেলে প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলার সময় মাইক্রোফোনটা দূরে রাখতে হয়, যাতে টেলিভিশনের শ্রোতারা না শোনে। এ ক্ষেত্রেও দু-একবার ভুল হয়েছে। প্রথম লাইভ বলেই একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম।

 

খুব সিরিয়াস ছিলাম

মুহিন

১১ বছর আগের কথা। এনটিভির একটি লাইভে প্রথম গান করার সুযোগ আসে। উপস্থাপনায় ছিলেন দেবাশীষ বিশ্বাস। জীবনের প্রথম লাইভ, তাই খুব সিরিয়াস ছিলাম। আগে থেকেই যে মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে গানগুলো তোলা ছিল, তাঁরাই অনুষ্ঠানে বাজিয়েছেন। তাই গাইতে গিয়ে কোনো অসুবিধা হয়নি। অনুষ্ঠানটি ছিল এক ঘণ্টার। আলোচনার পাশাপাশি গান করার সুযোগ ছিল আটটি। গান নির্বাচন করতে গিয়ে একটা দ্বিধায় পড়তে হয়েছিল—কোনটা রেখে কোনটা করি। শুরুতে গেয়েছিলাম আমার জীবনের প্রথম মৌলিক গান ‘তুমি ছাড়া এই দেহটা’। মৌলিক গানের পাশাপাশি কিছু পছন্দের গানও করেছি। অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় অনেকেই বলেছেন—মুহিন, খুব ভালো গেয়েছ। এটা ধরে রাখো। সেই অনুষ্ঠান থেকে সাহস নিয়ে জীবনে আরো অনেক লাইভে গেয়েছি।



মন্তব্য