kalerkantho

facebook থেকে

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




facebook থেকে

আপগ্রেড

আপগ্রেড

থ্রিলার, অ্যাকশন, হরর

               

♦   নিকট ভবিষ্যতের কোনো এক শহর গল্পের পটভূমি, যখন এই শহরে মানুষ টেকনোলজি দ্বারাই চালিত হচ্ছে। এই সাইবারপাংক ওয়ার্ল্ডে গ্রে ট্রেস প্রযুক্তিভীত এক লোক, হোম মেকানিক। কম্পিউটারাইজড    প্রযুক্তির এই দিনেও গাড়ির রোগ নিজ হাতে সারাতে পছন্দ করে ট্রেস। প্রযুক্তির কাছে নিজের মানবিকতা বিসর্জন দিতে একেবারেই নারাজ সে। বিশাল ধনী আর প্রযুক্তিবিদ এক ক্লায়েন্টের গাড়ি ঠিকঠাক করে ফেরার পথেই ভয়াবহ ছিনতাইয়ের শিকার হয় ট্রেস। স্ত্রী প্রাণ হারায়, ট্রেস প্যারালাইজড অবস্থায় বেঁচে ফেরে। তখনই ট্রেসের ওই ক্লায়েন্ট তাকে ‘স্ট্যাম’-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ‘স্ট্যাম’ এক ধরনের কম্পিউটার চিপ, যা শরীরে স্থাপন করার পর সেটি সহায়ক ব্রেন হিসেবে কাজ করে। প্যারালাইজড অবস্থায়ও সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে, কারণ এই কম্পিউটার চিপ শরীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়! টেকনোফোবিক ট্রেস কিলিং মেশিনে রূপান্তরিত হয় স্ট্যাম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। আর স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নিতে বেরিয়ে পড়ে।

‘আপগ্রেড’-এর এই গল্প নতুন নয়। প্রতিবছরই অনেক রিভেঞ্জ স্টোরি তৈরি হয়। তবে ‘আপগ্রেড’ খুবই ডার্ক, একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই গভীরতা বজায় ছিল। পরিচালক লি ওয়ানেল ‘ইনসিডিয়াস’ হরর সিনেমাগুলোর লেখক। স্বল্প পরিসরে কিভাবে হরর পরিবেশ দাঁড় করাতে হয়, ভালোই জানা আছে তাঁর। একেবারে লো বাজেটেও এই সাইফাই সিনেমাকে সস্তা মনে হয়নি। বরং প্রচণ্ড ডার্ক সেটিং আর স্বল্প পরিবেশ অনেকটা সত্তরের ‘গ্রাইন্ডহাউস’ ঘরানার হরর সিনেমার কথা মনে করিয়ে দেয়। অ্যাকশন সিনে স্ট্যাডিক্যামের ব্যবহার দারুণ লেগেছে। ট্রেসের চরিত্রে লোগান মার্শাল গ্রিন অনবদ্য। ট্রমাটাইজড দৃশ্যগুলোতে তিনি দুর্দান্ত। অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে নিজের শরীরের ওপর তাঁর দখল নেই। তাঁর হাত-পা তাঁর নিজের অজান্তেই দৌড়ঝাঁপ করছে—পর্দায় এমন দৃশ্য দেখতে দারুণ লেগেছে। তবে ট্রেস চরিত্রটা ছাড়া সিনেমার বাকি চরিত্রগুলো ঠিকঠাকভাবে দাঁড়ায়নি। এখানে গল্পের ত্রুটির কথাও বলা যায়। গল্পে বাকি চরিত্রগুলোর কোনো ব্যাকস্টোরি উপস্থাপন করা হয়নি।

মামুনুর রশিদ তানিম

সিনেমাখোর গ্রুপের পোস্ট

 

 



মন্তব্য