kalerkantho


ভালো লাগা ঈদের নাটক

ঈদে টেলিভিশন ও অনলাইনে প্রচারিত হলো কয়েক শ নাটক-টেলিফিল্ম। কেমন হলো সেগুলো? ১০ জন তারকা নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী বলেছেন তাঁদের ভালো লাগা দুটি নাটকের কথা। কেন ভালো লেগেছে, কী হলে আরো ভালো হতো—বলেছেন সেটাও। শর্ত ছিল একটাই, নিজের কাজ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। সবার কথা শুনেছেন মীর রাকিব হাসান

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভালো লাগা ঈদের নাটক

‘পাতা ঝরার দিন’-এ রুমানা রশীদ ঈশিতা

পাতা ঝরার দিন ও সোনালি ডানার চিল

শিহাব শাহীন পরিচালক

‘পাতা ঝরার দিন’-এর নির্মাণে গল্পের সঠিক ট্রিটমেন্ট দিয়েছে রেদওয়ান রনি। ইমোশনেও আছে পরিমিতিবোধ। এ রকম একটা গল্প নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে ছিল আমারও। আমাদের পরিচিত এক মেয়ে কাজ করে ‘গ্রে’তে। ওর বাবা এভাবে হারিয়ে গিয়েছিল। যদিও পরে খুঁজে পেয়েছিল। গল্পটাকে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে রনি। সবচেয়ে ভালো দিক, ইমোশনটা একটা জায়গায় গিয়ে স্টপ করে দিয়েছে, ওটাকে নিয়ে টানাটানি করেনি। আমার জানা গল্পটায় ছিল হ্যাপি এন্ডিং। ‘পাতা ঝরার দিন’-এর স্যাড এন্ডিংটা অবশ্য মনে আরো বেশি গেঁথে রইল। ঈশিতা তার চরিত্রটা যথেষ্ট ইফোর্ট দিয়ে তুলে ধরেছে। বলতে হবে সৈয়দ হাসান ইমাম সাহেবের কথা। রনি যেমন গল্পটাকে তুলে এনেছে, সেখানে হাসান ইমাম মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছেন। একবারও মনে হয়নি উনি অভিনয় করেছেন, মনে হয়েছে বাস্তবেই উনি এমন। তাঁর হারিয়ে যাওয়া, ব্ল্যাংক লুক—অসাধারণ। তবু বলব, মেকিংটাই বেস্ট।

‘সোনালি ডানার চিল’-এর সাবজেক্ট কারেন্ট ইস্যু—প্রশ্নপত্র ফাঁস। আশফাক নিপুণ দারুণভাবে ডিল করেছে। গল্পের সঙ্গে অভিনয়শিল্পীরাও ভালো করেছেন। রাইসুল ইসলাম আসাদ ভাই, সাবেরী আলম ও মেহজাবীন—তিনজনই পরিচ্ছন্ন সুন্দর অভিনয় করেছেন। তবে গল্পের শেষটা অপরিহার্য ছিল না। বাবার অপরাধের জন্য একটা মেয়ে কেন সুইসাইড করবে? এটা ঠিক মেনে নিতে পারিনি।

 

‘আয়েশা’য় নুসরাত ইমরোজ তিশা

আয়েশা ও পাতা ঝরার দিন

সুমন আনোয়ার পরিচালক

অনেক দিন পর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী টেলিভিশনে কাজ করেছেন। এই অস্থির সময়ে সবাই একের পর এক হাইপার স্টোরি নিয়ে টেলিভিশনে হাজির হচ্ছে, এই সময়ে দরকার স্বস্তিদায়ক গল্প। সেটা রিয়ালাইজ করেই ‘আয়েশা’ নিয়ে এসেছেন ফারুকী। আমি স্বস্তি পেয়েছি। গল্প বলা, অভিনয়, লোকেশন, ক্যামেরার কাজ—সবটা মিলে অসাধারণ একটা প্যাকেজ।

রেদওয়ান রনির ‘পাতা ঝরার দিন’ ভালো লেগেছে। একদম কাছের মানুষের গল্প। আলঝেইমার রোগটা যে সচরাচর হয় এমন নয়, কিন্তু এটা তো আমারও এক দিন হতে পারে অথবা আমার কাছের অন্য কারো হতে পারে। সেই ‘হতে পারা ভাবনা’ থেকে হাসান ইমাম সাহেবের পেছনে ছুটে চলা পর্যন্ত সবটাই মুগ্ধ করেছে। কাছের মানুষের গল্প দেখতেই পছন্দ করে মানুষ, আমরা তো কাছের মানুষের গল্প বলি না। পলিসি মেকার এবং এজেন্সির লোকেরা দর্শকের ওপর একটা দূরের ফ্যান্টাসি গল্প চাপিয়ে দেয়। এখানে আমরা ‘কলাবাবা’, এই বাবা, সেই বাবা দেখাচ্ছি। ‘পাতা ঝরার দিন’ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, পর্দায় কেমন বাবা দেখানো উচিত। একে ওকে থাপ্পড় মারছে, এভাবে প্রেম করছে, ওইভাবে বিয়ে করছে, দুর্বোধ্য-মুশকিল শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, খামোখা হাসানোর চেষ্টা—এই সব ভাড়ামোই নাকি দর্শক পছন্দ করে। কোন দর্শক বলেছে যে তারা এগুলো পছন্দ করে? তাহলে আমরা কেন এগুলো দেখাচ্ছি তাদের জোর করে! এর বাইরেও যে গল্প বলা যায়, ‘পাতা ঝরার দিন’ তার উত্কৃষ্ট উদাহরণ।

 

আয়েশা ও কলি ২.০

রেদওয়ান রনি পরিচালক

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের ‘আয়েশা’। টেলিভিশনে সাধারণত আমরা যে ধরনের গল্প দেখি, সম্পূর্ণ তার বাইরের একটা কাজ। গল্পটা খুবই পাওয়ারফুল। ১৯৭৭ সালের গল্প। ওই সময়ের গল্প আমরা যখন এখন দেখি, মনে হয় রাজনৈতিক সিচুয়েশনটা একই। গল্পের মেয়েটা ১৯৭৭ সালে যে ক্রাইসিস সাফার করেছিল, ২০১৮ সালে এসেও আমরা গল্পটাকে সমানভাবে রিলেট করতে পারি। সরয়ার ভাই অনেক দিন পর টেলিভিশনের জন্য কাজ করেছেন। একদম নির্লিপ্ত একটা গল্প বলেছেন। অনেক রংঢং, শক্তি সামর্থ্য দিয়ে তিনি একটা কাজ করতে পারতেন। এগুলো যে উনি জানেন না, তা নয়। উনি জানেন, এগুলো দিলে দর্শক হয়তো পছন্দও করবে। এসবের লোভে না পড়ে তিনি খুবই সাধারণভাবে অসাধারণ কিছু ফুটিয়ে তুলেছেন। এটা এই প্রডাকশনের অন্যতম পাওয়ারফুল জায়গা। কমপ্লিটলি ভালো একটা প্রডাকশন।

আরেকটা হচ্ছে আবরার আতহারের ওয়েব থ্রিলার ‘কলি ২.০’। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আমরা কোন ধরনের গল্প বলব, কতটুকু সাহস দেখাব—সেটার দারুণ উদাহরণ ‘কলি ২.০’। এমন অনেক সিচুয়েশন, সংলাপ আছে এখানে, যেটা আমরা টেলিভিশনে, ইউটিউবের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আগে করিনি। দারুণ সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে আবরার, এখানে যাওয়ার দরকারও আছে। নেটফ্লিক্স, আইফ্লিক্সের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে আছে। অনলাইনে বাধা-বিপত্তি ছাড়াই আমরা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ঢু মারি। কিন্তু আমাদের দেশের নেক্সট লেভেলটা কী? আমি মনে করি ‘কলি ২.০’ নেক্সট লেভেলের একটা কাজ হয়েছে।

 

পাতা ঝরার দিন ও মডার্ন টাইমস

আশফাক নিপুণ পরিচালক

সবচেয়ে ভালো লেগেছে রেদওয়ান রনির ‘পাতা ঝরার দিন’। এতটা বছর ধরে আমি যে রনিকে জানি, তার থেকে পুরোটা বেরিয়ে কাজটা করেছে। খুবই মানবিক একটা গল্প। নির্মাণের ক্ষেত্রে বলব, বাবাকে খুঁজে পাবে কি পাবে না, সেই গতিটাও ধরে রেখেছে। গল্পটা তো দুই দিনের, বিকেলে হারিয়ে যায়, পরের দিন দুপুরে স্টেশনে শেষ হয়। এই টাইমিং জোনটাও রনি এত সুন্দর করে হ্যান্ডেল করেছে! মনেই হয়নি ৪০ মিনিটের একটা ফিকশন দেখেছি। সব কিছু এত স্মুথ, মুগ্ধ করেছে আমাকে। অনেকেই বলছে, অভিনয় ভালো হয়েছে। আমার কাছে স্ক্রিপ্টিংটাই বেশি এক্সাইটিং লেগেছে। ক্লাইমেক্স তো ভয়াবহ। শেষ হয়েও হইল না শেষ। ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে দর্শক মন। অভিনয়ে ঈশিতা, সৈয়দ হাসান ইমাম দুর্দান্ত। বন্যা মির্জা, মৌসুমী হামিদ, শাহেদ আলী খুব অল্প সময়ের জন্য এসেও কাজটা সুন্দরভাবে করে দিয়েছেন। যেভাবে এক শ্বাসে একটা গল্প দেখেছি, রেলস্টেশনে আরেকটু সময় পেলে ভালো হতো।

‘আয়েশা’ নিয়েও বলা যায়। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাই ভালো কিছু করবেন, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ঈদের বেশ কিছু কাজ দেখেছি। যার মধ্যে ‘মডার্ন টাইমস’ও বেশ ভালো লেগেছে। এই শহরের, এই সময়ের, এই পৃথিবীর গল্প। প্রধান চরিত্র এ সময়ের এক প্র্যাকটিক্যাল তরুণ। সময়টাকে সে কিভাবে দেখে, সেটাই দেখানো হয়েছে। বাস্তবতা আর আবেগের দ্বন্দ্ব দারুণভাবে সামলেছে দুই তরুণ নির্মাতা নাজমুল নবীন ও মাহমুদুল হাসান আদনান। এমন সাবজেক্ট চুজ করার জন্যই ওদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় কল্পর অভিনয়। ও অভিনয় করেছে বলেই চরিত্রটা এত সুন্দর মনে হয়েছে। সময়ের অন্যতম সেরা একটি ফিকশন এটি।

 

আমার নাম মানুষ ও যমজ ১০

জাকিয়া বারী মম অভিনেত্রী

ঈদের পরপরই নেপালে যেতে হয়েছিল। খুব বেশি নাটক দেখা হয়নি। যা দেখেছি তার মধ্যে শাফায়েত মনসুর রানার টেলিফিল্ম ‘আমার নাম মানুষ’ বেশি ভালো লেগেছে। সমস্যা, অসচেতনতা, নিরাপত্তাহীনতা, দুর্নীতিতে ভরে আছে আমাদের চারপাশ। আমরা সবাই কমবেশি ভুক্তভোগী, কিন্তু কেউ কিছু বলছি না বা বলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। এসব নিয়েই টেলিফিল্মটি। অভিনয়ে জন কবির, অপর্ণা ঘোষ, শাফায়েত রানা, ইরফান সাজ্জাদসহ প্রত্যেকেই সাবলীল। সংলাপগুলো অনেক যৌক্তিক ও পরিমিত। টেলিফিল্মের শেষের দিকে প্রতিটি প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের যোগ করার ব্যাপারটা পুরো বিষয়টাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। সমাজ নিয়ে আমি যা বলতে চাই, টেলিফিল্মটায় অনেকটা তাই বলেছেন পরিচালক।

আরেকটি নাটকের কথা বলব—‘যমজ ১০’। নাটকটি ভালো লাগার একমাত্র কারণ মোশাররফ করিম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ফাটিয়ে অভিনয় করেছেন। মন খারাপ থাকলে এই নাটকটা দেখব বলে লিস্টে রেখে দিয়েছি। আমি বলব, এমন নাটকেরও দরকার আছে।

 

পাতা ঝরার দিন ও আয়েশা

মেহজাবীন চৌধুরী অভিনেত্রী

‘পাতা ঝরার দিন’কেই এগিয়ে রাখব। নাটকটি দেখে মনে হয়েছে অ্যালঝেইমার রোগটা যদি আমার হয়, আমি যদি হারিয়ে যাই, আমার বাবা যদি এমন হারিয়ে যায়! এই হারিয়ে যাওয়া আর খোঁজার মধ্যেই কিন্তু নাটকটি সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি ছোট ছোট দৃশ্য এতটা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, সাধারণত টিভি নাটকে খুব কমই এমন দেখানো হয়। সৈয়দ হাসান ইমাম আংকেল অসাধারণ, তাঁর বড় মেয়ের চরিত্রে ঈশিতা আপুও দারুণ। ব্যক্তিজীবনে একা থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় আছেন। অফিসের কেউ কেউ এর ফায়দা নিতে চাচ্ছেন বা বাবাকে খোঁজার সময় অনেকে অন্য রকম নজরে দেখছেন ওনাকে। অনেক নারীকে এসব ফেস করতে হয়। এই বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন পরিচালক। শেষের সিনটা এমনিতেই মন খারাপ করার মতো। সেখানে পরিচালক আরেকবার দর্শকের সঙ্গে খেলেছেন। নাটকটি শেষ করার পর আমি নিজেই কয়েকটা গল্প ভেবে ফেলেছি, তারপর কী হতে পারে।

‘আয়েশা’ও ভালো লেগেছে। বাংলাদেশে নাটকের রেটিং যাচাইয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাটকটির একের পর এক প্রশংসামূলক রিভিউ দেখে বোঝা যায়, নাটকটি শুধু মুগ্ধই করেনি দর্শকদের বরং তাদের হূদয়ও ছুঁয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রীর ছোট ছোট খুনসুটি দিয়ে সহজভাবে শুরু হয় গল্প, একদিন ঝড়ের মতো সব কিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। দারুণ একটা কাজ।

 

সোনালি ডানার চিল ও লালাই

ইরফান সাজ্জাদ অভিনেতা

ঈদের আগে টানা কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তাই খুব বেশি নাটক দেখতে পারিনি। যা দেখেছি তার মধ্যে ভালো লেগেছে আশফাক নিপুণের ‘সোনালি ডানার চিল’ ও মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘লালাই’।

অনলাইনে অনেক আলোচনা দেখে ‘সোনালি ডানার চিল’ দেখেছিলাম। আসলেই আলোচনায় আসার মতো নাটক। পত্রিকায় অনেক মানবিক গল্প দেখি, সমাজের অনেক সমস্যার কথা আসে—যেগুলো নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরলে সমাজের কর্তাব্যক্তিরা একটু হলেও সাবধান হবেন। আশফাক নিপুণ ভাই সেই কাজটাই করেছেন।

এরপর বলব ‘লালাই’-এর কথা, আফরান নিশো ভাইয়ের অভিনয় সঙ্গে বান্নাহ ভাইয়ের নির্মাণে দারুণ একটি নাটক। জীবিকার তাগিদে কৃষকরা গরু-ছাগল পালন করে। এই পোষা প্রাণীর প্রতি কৃষকের ভালোবাসা নিজের সন্তানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়—নাটকে সেটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই সাবজেক্ট নিয়ে আগে যে কাজ হয়নি তা নয়, তবে নতুন করে দেখতে পেয়ে ভালো লেগেছে।

‘বিনি সুতোর টান’-এ অপূর্ব ও আয়াশ

বিনি সুতোর টান ও আয়েশা

শবনম ফারিয়া অভিনেত্রী

শিহাব শাহীন ভাইয়ের কাজ নিয়মিত দেখি। এবার ঈদে তাঁর ‘বিনি সুতোর টান’-এ অপূর্ব ভাইয়ের ছেলে আয়াশ অভিনয় করেছে। ওর অভিনয় দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি। অপূর্ব ভাই বা অন্য যাঁরাই ছিলেন, বলব না তাঁরা যা করেছেন তা আগে কেউ করেননি। কিন্তু আমার কাছে নাটকটি ভালো লাগার মূল কারণ আয়াশ। গল্পটাও বেশ স্পর্শকাতর।

আর আমি বরাবরই তিশা আপুর অভিনয়ের বড় ভক্ত। এবার ঈদে ‘আয়েশা’য় তাঁর সঙ্গে যোগ হয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়া। এবার ঈদের অন্যতম সেরা কাজ ‘আয়েশা’। টেলিভিশনে দেখতে পারিনি। দুটি পার্টই পরে অনলাইনে দেখেছি। মনে হলো যেন কোনো সিনেমা দেখছি। একটা জার্নির গল্প। ছাদের ওপর তিশা আপুর কান্নার দৃশ্যটা বারবার মনে পড়ে। স্বামীর জন্য অপেক্ষা, স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা, পরে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ, স্বামীর লাশ না দেখা, কবর খুঁজে না পাওয়া এবং পরে ৫৬ হাজার বর্গমাইলকেই স্বামীর কবর ভাবা—পুরো নাটক দেখার সময়টা যেন একটা ঘোরের মধ্যে কাটল।

 

আয়েশা, পাতা ঝরার দিন ও বিনি সুতোর টান

সাবিলা নূর অভিনেত্রী

‘আয়েশা’ আর ‘পাতা ঝরার দিন’ দুটি নাটক নিয়ে আমার ফিলিংস একই। দুটিই ভালো লেগেছে। ‘পাতা ঝরার দিন’-এর সঙ্গে আমার পরিচয় প্রচারের আগেই। রেদওয়ান রনি ভাইকে অনেক দিন ধরে জানি। নাটকটি প্রচারের আগেই একবার রনি ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি যেভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন, মনে হয়েছে ভালো কিছুই হবে। তখনই তিনি বলছিলেন, ‘নাটকটা করে আমি তৃপ্ত।’ নাটকটির প্রথম থেকে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত চোখ ফেরানো যায়নি। ‘আয়েশা’ও দুর্দান্ত রকমের নাটক। খুবই ভালো লেগেছে।

‘বিনি সুতোর টান’ও বেশ ভালো লেগেছে। শিহাব শাহীন ভাইয়ের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা আছে। আমি জানি উনি নির্মাণে কতটা এফোর্ট দেন। অপূর্ব ভাইয়ের চেয়েও আমাদের আয়াশ বাবাকে এ নাটকে এগিয়ে রাখব। আয়াশ এত সুন্দর অভিনয় করেছে, বাবাকেও ছাড়িয়ে গেছে। পুরো নাটকের কেন্দ্রবিন্দু আয়াশ। ওর প্রতিটা সংলাপ স্পষ্ট, যে জায়গায় যে অভিব্যক্তি দরকার সেটাই দিয়েছে। বাবার কাছে বারবার ছুটে যাওয়া, মা হারানোর কান্না—সবখানেই দারুণ। ও আমাদের ভবিষ্যৎ স্টার।

 

বিনি সুতোর টান ও এবার তোরা মানুষ

তানজিন তিশা অভিনেত্রী

‘বিনি সুতোর টান’ একটু বেশিই ভালো লেগেছে আয়াশের কারণে। অপূর্ব ভাইয়ের ছেলেটা দুর্দান্ত অভিনয় করেছে। আমি তো স্ক্রিনে তাকিয়েই ছিলাম, কখন আয়াশ আসে। শিহাব শাহীন ভাইয়ের নির্মাণও ভালো লেগেছে। সহজ-সরল কিন্তু একটা টানের গল্প, যে টানটা কেউ ছিঁড়তে চায় না। কাকে রেখে কাকে অসাধারণ বলব বুঝতে পারছি না, তবে আয়াশকেই এগিয়ে রাখব। মম আপুর খালি গলায় গাওয়া গানটা অসাধারণ। অপূর্ব, সৈয়দ হাসান ইমাম, লায়লা হাসান আন্টির পারিবারিক দ্বন্দ্বটা খুবই বাস্তবিক।

মাবরুর রশীদ বান্নাহ ভাইয়ের ‘এবার তোরা মানুষ হ’ও বেশ ভালো লেগেছে। নাটকটিতে শিক্ষণীয় একটা ব্যাপার আছে। আফরান নিশো ভাইয়ের অভিনয় দারুণ। নিশো ভাইয়ের অভিনয়ের কথা বললে ‘লালাই’ ও ‘ট্যাটু ৩’ নাটকটির কথাও বলতে হয়। ‘লালাই’তে যদিও আমি অভিনয় করেছি, কিন্তু আমার জন্য নয়, এটাকে নিশো ভাইয়ের নাটক বলতেই পারি। উনি এত ভালো অভিনয় করেছেন!



মন্তব্য