kalerkantho

মিম ও সুলতান

কাল মুক্তি পাবে রাজা চন্দর ‘সুলতান’। ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন জিৎ ও বিদ্যা সিনহা মিম। এই ছবি ও তাঁদের রসায়ন নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০




মিম ও সুলতান

সোহম চক্রবর্তীর বিপরীতে করলেন ‘ব্ল্যাক’, প্রসেনজিতের সঙ্গে ‘ইয়েতি অভিযান’, এবার জিতের বিপরীতে ‘সুলতান’। জিতের নায়িকা হয়ে মিম একটু বেশিই উচ্ছ্বসিত—“জিত্দার ‘সাথী’ যখন মুক্তি পেয়েছিল, তখন আমি বড়জোর ফোর বা ফাইভে পড়ি। ছবির গান দেখলেই টেলিভিশনের সামনে নাচতে শুরু করে দিতাম। কোনো দিন ভাবিনি সেই নায়কের নায়িকা হব!”

‘সুলতান’-এর শুটিংয়ে নায়িকাকে ভক্তরূপেই পেলেন জিৎ। “শুটিংয়ে প্রায়ই জিত্দাকে একটা কথা বলতাম। সেই ছোটবেলায় পর্দায় যেমন দেখেছিলাম, এখনো উনি একই রকম! লুক বা চেহারায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ‘সুলতান’-এর গানগুলো দেখবেন, জিত্দাকে বড়জোর ২৫-২৬ বছরের যুবক মনে হয়। আমি তো রসিকতা করে তাঁকে বলতাম, ১০ বছর পর আমি বুড়ি হয়ে যাব, কিন্তু তুমি সেই ‘সাথী’র জিৎই রয়ে যাবে”—হাসতে হাসতে  বললেন মিম।

ছবিতে দুই নায়িকা—মিম ও প্রিয়াঙ্কা সরকার। প্রথমজন জিতের প্রেমিকা, দ্বিতীয়জন বোন। কেমন করেছেন মিম? ‘ওর সঙ্গে এটা আমার প্রথম ছবি। ও যথেষ্ট ভালো অভিনেত্রী। বাংলাদেশে তো বেশ জনপ্রিয়। মিম এককথায় মিষ্টি মেয়ে। কলকাতার মানুষ এরই মধ্যে ওকে আপন করে নিয়েছে। আশা করছি, এবার বাংলাদেশি দর্শকও ওকে নতুনরূপে পাবে’—মুঠোফোনে  বললেন জিৎ।

‘সুলতান’-এর জিৎ একেবারেই অন্য রকম। গাল ভর্তি দাড়ি, ছোট চুল, কানে কানবালি। জিৎ জানালেন, শুধু লুকই নয়, চরিত্রেও নাকি বেশ চমক আছে। সেটা কেমন? ‘ছবিতে দুটি জিৎ। একটা ভালো, সে ট্যাক্সি ড্রাইভার। আরেকটা জিৎ পুরোদস্তুর মাতাল, টাকা ছাড়া সে কিছু বোঝে না। দুটি চরিত্রের মধ্যে আবার একটা যোগসূত্র আছে। সেটাই তো ছবির গল্পের রহস্য’—বললেন জিৎ।

উকিলের চরিত্রে মিম। খুব জেদি, চঞ্চল মেয়ে। ভাবে, সব কিছু ঠিক করছে, কিন্তু কিছুই ঠিকঠাক হয় না। দুজনের চরিত্র বিশ্লেষণ করে অনেকে ধরেই নিয়েছেন, তামিল ছবি ‘ভেদালাম’-এর ফ্রেম ধরে ধরে ‘কপি’ করা হয়েছে ‘সুলতান’। সত্যি? “কপি করার বিষয়ে মন্তব্য করব না। বলিউডেও তো অনেক কপি ছবি হচ্ছে, সেগুলো সুপারহিটও হচ্ছে। আমার মতে, ছবির গল্প ও মেকিংটাই গুরুত্বপূর্ণ। ছবিটা দেখে দর্শক আনন্দ পাচ্ছে কি না, সেটাই আমার কাছে আসল! রোমান্স, অ্যাকশনে ভরপুর একটা ছবি। ঈদে দর্শক যে রকম ছবি দেখতে চায়, ‘সুলতান’ ঠিক তেমনই। পশ্চিমবঙ্গে ঈদের সময় ছবিটি মুক্তি পেলেও বাংলাদেশে মুক্তি পায়নি। যা-ই হোক, এখন মুক্তি পাচ্ছে। আশা করছি বাংলাদেশের দর্শক ছবিটা দেখবে”—বললেন জিৎ।

ঈদে ছবির প্রচারণায় কলকাতা গিয়েছিলেন মিম। এবার সবচেয়ে বেশি কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন? ‘প্রায় সবাই জিজ্ঞেস করছিল, জিৎ ও সুলতান নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহটা কেমন? আমি সেখানে থাকা অবস্থায় অনেকেই ফোন করে জানতে চেয়েছেন—ঈদে ছবিটা দেখতে পাব তো? বাংলাদেশের দর্শকের আগ্রহের কারণটা বুঝতে পারি। এখন পর্যন্ত জিত্দার যত ছবি বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে, প্রায় সবই সুপারহিট’—বললেন মিম।

প্রিয় নায়কের সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানালেন মিম, ‘জিত্দা তো সেই লেভেলের ফান করতে জানে। আর এত ইয়ার্কি করে। কিন্তু আমার সঙ্গে খুব একটা কিছু করতে পারত না। কারণ আমার কাছ থেকে উল্টো            রি-অ্যাকশন কম পেত।’

কলকাতায় শুটিংয়ে গেলে প্রচুর শপিং করেন মিম। নতুন কোনো ছবি মুক্তি পেলে হলে গিয়ে দেখেন। সর্বশেষ দেখেছেন ‘ভিরে দ্য ওয়েডিং’।

পশ্চিমবঙ্গে ‘সুলতান’ বেশ ভালো চলেছে। এবার বাংলাদেশের পালা। দুজনের কাছেই অভিন্ন প্রশ্ন, বাংলাদেশে কেমন চলবে এই ছবি? দুজনের উত্তরও প্রায় অভিন্ন, ‘আমাদের ছবি নিয়ে কোনো টেনশন নেই। কলকাতায়ও বেশ ভালো করেছে, বাংলাদেশেও ভালো রেসপন্স পাবে। কারণ বিনোদনের সব উপাদানই আছে ছবিতে।’



মন্তব্য