kalerkantho

মৌসুমী এখন

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



মৌসুমী এখন

একটি কাজই এখন মনোযোগ দিয়ে করছেন—‘বসুন্ধরা তারকাদের রান্নাঘর’। স্বামী-সংসার-সন্তান সামলে রমজানে আর কিছুই করছেন না এই অভিনেত্রী। এটিকেই বলছেন তাঁর মনের মতো কাজ। ‘অনুষ্ঠানটা করে বেশ তৃপ্তি পাচ্ছি। প্রতি পর্বে তারকাদের কেউ না কেউ আমার গেস্ট হন। সবাই মিলে একটা আইটেম রান্না করি, তারপর খাই। পুরো বিষয়টার তত্ত্বাবধান করি আমিই। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, শুধু অনুষ্ঠান করার জন্যই এই অনুষ্ঠান নয়, এখানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদেরও নিয়ে আসা হয়’—বললেন মৌসুমী।

সুবিধাবঞ্চিত বিভিন্ন বয়সী মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন মৌসুমী। বলেন, ‘আমরা যদি তাঁদের পাশে দাঁড়াই, তাঁদের জীবনটাও সুন্দর হলো, আমাদেরও দায়িত্ব পালন করা হলো। এভাবে সমাজের সবাই যদি একে অন্যের পাশে দাঁড়াই তাহলে দেশটাই বদলে যাবে।’

এ ধরনের অনুষ্ঠানে আরো বেশি বেশি অংশ নিতে চান জানিয়ে বলেন, ‘যদি এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত হয় আমরা পাশে থাকব। সব তারকার উচিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’

প্রতি ঈদের অনুষ্ঠানমালায় টিভি পর্দায় পাওয়া যায় এই অভিনেত্রীকে। তবে এবার কোনো নাটক-টেলিফিল্ম করেননি। বলেন, ‘একটা টেলিফিল্মে কাজ করার কথা ছিল। সময় করে উঠতে পারিনি, তাই করা হয়নি। এরপর ভালো কোনো প্রস্তাবও পাইনি। দেখি, এই কদিনের মধ্যে যদি ভালো কিছু পাই তাহলে অবশ্যই ঈদে আমাকে পাবে দর্শক।’

মাঝে মাঝে টুকটাক সিনেমা, বিজ্ঞাপনচিত্র বা টেলিফিল্মে অভিনয় করেন। কিছুদিন আগেই তিনি ও ওমর সানী শুভেচ্ছা দূত হয়েছেন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের। এদিকে ‘পোস্টমাস্টার ৭১’, ‘রাত্রীর যাত্রী’সহ মৌসুমী অভিনীত কয়েকটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। কবে মুক্তি পাবে এগুলো? “কবে মুক্তি পাবে সেটা নির্ভর করছে প্রযোজকদের ওপর। যতটুকু জানি ‘রাত্রীর যাত্রী’ সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। ঈদে মুক্তি পেতে পারে। ‘পোস্টমাস্টার-৭১’ মুক্তি পাবে বছরের শেষের দিকে”—বললেন মৌসুমী।

নতুন করে কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হননি। পুরনো প্রায় সব ছবির শুটিংই প্রায় শেষ। বাকি আছে ‘নায়ক’ আর ‘নোলক’ ছবির শুটিং।

চলচ্চিত্রের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। একের পর এক ছবি মুখ থুবড়ে পড়ছে বক্স অফিসে। সবাই ব্যর্থতার জন্য পরিচালকদের দোষ দিলেও ভিন্নমত পোষণ করেন মৌসুমী। তিনি বলেন, “শুধু বাজে ছবিই যে নির্মিত হচ্ছে না তা নয়, ভালো ছবিও নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু দর্শকদের চাহিদামতো ছবি দিতে পারছেন না পরিচালকরা। এর পেছনে অবশ্য প্রযোজকরাই দায়ী। কারণ এখন সব কিছু প্রযোজকদের হাতে। গল্প কী হবে, নায়িকা কে, শুটিং কোথায় হবে সবই প্রযোজকরা ঠিক করে দিচ্ছেন। আবার বাজেটস্বল্পতার ব্যাপারটাও আছে। পরিচালকদের কিছু করার থাকে না। আর্টিস্ট আর গল্পের ভার যদি পরিচালকের হাতে না থাকে তাহলে ভালো ছবি হয় না। আবার অনেকে ভালো ছবি বানালেও হল সমস্যাসহ আরো নানা কারণে ছবি চলছে না। এই যেমন গিয়াসউদ্দীন সেলিম ভাইয়ের ‘স্বপ্নজাল’ ভালো ব্যবসা করেনি, তাই বলে কি ছবিটা খারাপ? অবশ্যই না। পুরো সিস্টেমটাই এর জন্য দায়ী।”

 


মন্তব্য