kalerkantho

দ্য প্রটেক্টর

কোটি ভিউ পাওয়া বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওর মডেল। অভিনয় করছেন চার ভাষায় নির্মাণাধীন ওয়েব সিরিজ ‘দ্য প্রটেক্টর’-এ। অন্তু করিমকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দ্য প্রটেক্টর

ফোন বন্ধ। পাওয়া গেল অনলাইনে। জানা গেল শুটিং ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য তিনি থাইল্যান্ড থেকে সবে চীন এসেছেন। হোটেল রুমে গিয়ে কথা বললেন। বিদেশে কিসের শুটিং? “থাইল্যান্ডে ওয়েব সিরিজ ‘দ্য প্রটেক্টর-সিজন ২’-এর কিছু অংশের শুটিং। থাইল্যান্ডে শুট শেষ করে আমি এখন চীনে।”

শিগগিরই অনলাইনে আসবে ওয়েব সিরিজ ‘দ্য প্রটেক্টর’। আগামী সপ্তাহে প্রকাশ পাবে টিজার। গল্পের প্রধান চরিত্র সাজিদ খানের ভূমিকায় দেখা যাবে অন্তু করিমকে। ‘গল্পটাও চমৎকার, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে এখানে। কারণ নির্মাণে কোনো খুঁত রাখতে চাননি নির্মাতা। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করতে হচ্ছে, তবে কাজটাকে বেশ উপভোগ করছি। পরিশ্রম সার্থক হবে যদি দর্শককে একটা ভালো কাজ উপহার দিতে পারি। আশা করি, অন্য রকম অন্তু করিমকে পর্দায় খুঁজে পাবেন দর্শক’—বললেন অন্তু।

‘দ্য প্রটেক্টর’-এর গল্প লিখেছেন অনিক কান্তি সরকার ও নোমান হোসেন। গল্পের পটভূমি ২০২০ সালের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চক্রান্ত করছে বহির্বিশ্বের কিছু কুচক্রীমহল। এক নবীন ব্যবসায়ী কিভাবে সময় ও দেশের প্রয়োজনে দেশরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন সে গল্পই ‘দ্য প্রটেক্টর’।

চারটি ভাষায় সিরিজটি দেখতে পাবে দর্শক—বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও পারসিয়ান। আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার একটি প্রয়াস।

সিরিজটি করতে গিয়ে হেয়ারস্টাইল বদলাতে হয়েছে অন্তুকে। বলেন, ‘আমার হেয়ারস্টাইল একটাই, আগে কখনো পরিবর্তন করিনি। এই সিরিজের জন্য চুল এত ছোট করতে হয়েছে যে আয়নায় নিজেকে অপরিচিত লাগছে। টেনশনে আছি কবে বড় হবে।’

কিছু গানের ভিডিওর শুটিং শেষ করেছেন সম্প্রতি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কোমল পানীয়সহ তিনটি বিজ্ঞাপনচিত্র আছে প্রচারের অপেক্ষায়। দেশে ফিরেই একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের প্রচারণায় অংশ নেবেন। 

গানের ভিডিওতে যতটা জনপ্রিয় হয়েছেন, অভিনয়ে ঠিক ততটা না। কারণ কী? অন্তু বলেন, ‘অভিনয়ই কিন্তু করছি। তবে নাটকে কম, মিউজিক ভিডিওতে বেশি। আমার বেশির ভাগ মিউজিক ভিডিও গল্পপ্রধান। বলতে পারেন দর্শক চাহিদার কারণেই মনোযোগ মিউজিক ভিডিওতে বেশি। তা ছাড়া মিউজিক ভিডিও এখন বেশ বড় একটি মাধ্যম, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রচুর লগ্নি করছে এ খাতে।’

চলচ্চিত্র নিয়ে তাঁর বিশেষ কোনো ভাবনা নেই, ‘আমি অভিনয়শিল্পী, মাধ্যম কোনো বিষয় নয় আমার কাছে। যেকোনো মাধ্যমে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দর্শক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলাম কি না, সেটাই মুখ্য।’

 শোবিজে কাজ করার পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ীও। আমদানি ও রপ্তানি তো করেনই, একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও আছে তাঁর। তাঁর প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কমনজেন্ডার-দ্য ফিল্ম’। নতুন আরেকটি ছবির কাজে হাত দিয়েছেন। শিশুতোষ এই ছবির সংগীত ও     পাণ্ডুলিপির কাজ চলছে। প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই ঘোষণা দেবেন।

অন্তুর মতে, ‘দেশে আন্তর্জাতিক মানের কাজ হচ্ছে প্রচুর। কিন্তু পোস্ট প্রডাকশনের কাজের জন্য দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে নির্মাতাকে। সরকার যদি এদিকে একটু সুনজর দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের পোস্ট প্রডাকশন ল্যাব স্থাপন করে দেয় তাহলে সময় ও খরচ বাঁচিয়ে আরো ভালো কাজ উপহার দেওয়া সম্ভব।’



মন্তব্য