kalerkantho

মুমতাজের মায়া

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মুমতাজের মায়া

মাসুদ পথিকের ছবি ‘মায়া’তে অভিনয় করতে ওপারের মুমতাজ সরকার এখন ঢাকায়। পি সি সরকার জুনিয়রের মেয়ে তিনি। অভিনয় করেছেন টালিগঞ্জের ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘কয়েকটি মেয়ের গল্প’র মতো ছবিতে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ, ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

 

কী পারেন না তিনি! বক্সিং জানেন, জুডো জানেন, গোলক নিক্ষেপে জিতেছেন স্বর্ণপদক, আছে শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে পুরস্কারও। আর অভিনয় তো এখন তাঁর পেশা। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মুমতাজ। বাবা জুনিয়র পি সি সরকার খুব আদর করেন মেয়েকে। তাঁর ইচ্ছাতেই এত কিছু শিখেছেন মুমতাজ। শাহবাগ ছবির হাটে চলছে মাসুদ পথিকের ‘মায়া’ ছবির শুটিং। সেখানেই কথা হচ্ছিল মুমতাজের সঙ্গে। ঢাকা এসেছেন ২০ ফেব্রুয়ারি। সেদিনই নেমে পড়লেন শুটিংয়ে। টানা ৯ মার্চ পর্যন্ত শুটিং, এরপরই ফিরবেন কলকাতা।

শুটিং বিরতির এক ফাঁকে মুমতাজ বললেন, ‘এবার নিয়ে মোট দুবার এসেছি বাংলাদেশে। বছর দুয়েক আগে এসেছিলাম এক দিনের জন্য। এত টাইট শিডিউল ছিল যে কোথাও বেড়াতে যেতে পারিনি। ছোটবেলায় বাবার কাছে বাংলাদেশের অনেক গল্প শুনেছি। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের কথা। অনেক স্মৃতি শেয়ার করতেন আমাদের সঙ্গে। বাবার পৈতৃক ভিটা ছিল টাঙ্গাইলে। সেখানে বাবার অনেক বন্ধু আছেন। এখনো যোগাযোগ করেন বাবার সঙ্গে। বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ অনেক। কাকতালীয়ভাবে শোবিজে আমার ক্যারিয়ারও শুরু বাংলাদেশে। ২০০৬ সালে মেহরীনের একটি গানে মডেল হয়েছিলাম। যদিও শুটিং হয়েছিল বাইরে। তার পরও বাংলাদেশে তো প্রকাশিত হয়েছে! বারবার এ দেশে বেড়াতে আসতে চেয়েছি। কিন্তু সময় এবং সুযোগ করে উঠতে পারিনি। এবার এলো সেই সুযোগ।’

‘মায়া’ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত মুমতাজ, “গল্পটা দারুণ। মাসুদ পথিকের প্রথম ছবি ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ অনেক পুরস্কার পেয়েছিল, শুনেছি। পরিচালক হিসেবে অবশ্যই তিনি দক্ষ। এই ছবিটিও প্রথমটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।”

ছবিতে মুমতাজ একজন সমাজসেবী। কলকাতার একটি অভিজাত পরিবারে বড় হয়েছেন। যুদ্ধশিশু হিসেবে সেখানকার একটি পরিবার তাকে দত্তক নিয়েছিল। পরে নিজের শেকড় খুঁজতে আসেন বাংলাদেশে। চরিত্রটির জন্য পরিচালক তাঁকে পছন্দ করায় অবাকই হয়েছিলেন। ‘কলকাতার অনেক নায়িকাই বাংলাদেশে অভিনয় করছেন। শ্রাবন্তী, শুভশ্রীরা তো রীতিমতো দর্শক তৈরি করে ফেলেছে। ওরা থাকতে আমি কেন? পরিচালক যখন গল্প বললেন, চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে কল্পনা করে দেখলাম, বাহ! অনায়াসে মানিয়ে নিতে পারব। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম’, বললেন মুমতাজ।

ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি ‘নো প্রবলেম’ আজও আলোর মুখ দেখেনি। অবশ্য এ নিয়ে মন খারাপ নেই তাঁর। কারণ ঝুলিতে আছে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘কয়েকটি মেয়ের গল্প’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর মতো ব্যবসাসফল ছবি। হাতে আছে ‘দ্য প্লে’, ‘শেষ অঙ্কের খেলা’, ‘রাজবাড়ির রহস্য’, ‘জলে জঙ্গলে’সহ আরো কিছু ছবি। মুমতাজ বলেন, ‘শুরুতে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেব বলে ভাবিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা হয়ে গেল। তবে আমার ছবিগুলো দেখলে বুঝবেন। আমি মসলা ছবির নায়িকা নই। আমার ছবির গল্প, নির্মাণশৈলী থাকে অন্য রকম। এই যে মাসুদ ভাইয়ের ছবিটি করছি, এর গল্পটাও দেখেন! অবশ্য তার মানে এই নয় যে আমি নাচ-গানের ছবি করব না। যদি আমার চরিত্রের গুরুত্ব থাকে, নিজেকে উপস্থাপন করার মতো জায়গা থাকে করব। নইলে দুটা গান আর পাসিং শট দেওয়ার জন্য রাজি নই।’

অনেক ইচ্ছে ছিল এবার পৈতৃক ভিটা টাঙ্গাইলে যাবেন। কিন্তু সম্ভব নয় বলে জানালেন মুমতাজ। ‘টানা শিডিউলে কাজ করছি। টাঙ্গাইল যাওয়া-আসা মিলিয়ে নাকি কমপক্ষে এক দিন লাগবে। কিন্তু সেই এক দিন বের করা সো টাফ। পরিচালক ফেঁসে যাবেন। আবার আমি যে শুটিং শেষ করে একদিন যাব সেটাও হচ্ছে না। কারণ ফিরতি টিকিট কাটা। কারণ ১১ মার্চ কলকাতা গিয়েই শুটিং করতে হবে। আশা করছি পরেরবার এলে টাঙ্গাইলই ফার্স্ট প্রায়োরিটি’, বলেন মুমতাজ।


মন্তব্য