kalerkantho


রুপুর স্মরণে রিন্টু

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রুপুর স্মরণে রিন্টু

আলী আকবর রুপুর সঙ্গে লিটন অধিকারী রিন্টু

আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে আলী আকবর রুপুর সঙ্গে জুটি বেঁধে গান লিখেছেন। দুজনের তৈরি গানের সংখ্যাও অনেক। প্রয়াত বন্ধুকে স্মরণ করে নিজেদের করা পাঁচটি গানের গল্প শুনিয়েছেন লিটন অধিকারী রিন্টু। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

 

গান লেখার আগে থেকেই রুপুর সঙ্গে বন্ধুতা। সে গিটার বাজাত, আমিও বাজাতাম। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দুজনের দেখা হতো। প্রয়াত শেখ ইশতিয়াকের উৎসাহে গান লেখা শুরুর পর প্রথমে মকসুদ জামিল মিন্টু ও ফরিদ আহমেদ এবং পরবর্তী সময়ে রুপুর সঙ্গে কাজ শুরু করি। দুজনে প্রচুর গান বানিয়েছি। সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারব না। সব গানের গল্পও মনে নেই।

 

যারে ঘর দিলা—কুমার বিশ্বজিৎ

‘যারে ঘর দিলা সংসার দিলা রে/তারে বৈরাগী মন কেন দিলা রে’—কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর একটি। রুপু জানান, ১৯৯৫ সালের দিকে গানটি তৈরি করেছিলেন তাঁরা। একদিন সন্ধ্যায় তিনজন মিলে বসেন রুপুর বাসায়। হঠাৎই রুপু বলে ওঠেন, ‘আমাদের জীবনে কিছু বিষয় আছে—যেমন বিধি সংসার জীবন দিল কিন্তু মনটা দিল বৈরাগী।’ রুপুর এক শিক্ষক নাকি একদিন তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।’ এমন থিমে রিন্টুকে গানটি লিখতে বলেন। সেখানে বসেই লেখাটি শেষ করেন রিন্টু। রেকর্ডিং হয় অডিও আর্ট স্টুডিওতে। বিটিভির মাধ্যমেই গানটি চারদিকে ছড়িয়ে যায়।

 

কখনো জীবন যেন সুরভিত ফুল—রুনা লায়লা

‘কখনো জীবন যেন সুরভিত ফুল/কখনো যেন ভুল শুধু ভুল’। রিন্টু জানান, বছর দশেক আগে একদিন রুপু ফোন করে বলেন, ‘বাংলাভিশনের জন্য একটি গান বানাব, গাইবে রুনা লায়লা। সুন্দর কিছু কথা দে।’ তারপর কয়েকটি গান পাঠান রিন্টু। সেখান থেকেই এ গানটি বাছাই করা হয়। রেকর্ডিং হয় মালিবাগে আশরাফ বাবুর স্টুডিওতে। বাংলাভিশনের ফিলার সং হিসেবে গানটি বেজেছে দীর্ঘদিন। গানটির জন্য ভক্ত-শ্রোতাদের অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন বলেও জানান রিন্টু।

 

কখনো কখনো একটি কথায় কত কিছু ঘটে যায়—নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী ও শাকিলা জাফর

রিন্টু জানান, এই গানটি করতে গিয়ে বেশ ভাবতে হয়েছে। নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর গানের ছাত্রী শাকিলা জাফর। আগে থেকেই গানটির জন্য এই দুই শিল্পীকে চূড়ান্ত করায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। কারণ গুরু-শিষ্যের মতো দুজনকে দিয়ে প্রেমের গান বিষয়টা ভালো নাও হতে পারে। পরে সিদ্ধান্ত হয় শিক্ষামূলক একটি গানের। এই গানটিও ইত্যাদিতে প্রচারের পর বেশ প্রশংসিত হয়।

 

ডাল ভাত ভর্তা ভাজি—অনুপ বড়ুয়া

‘ডাল ভাত ভর্তা ভাজি কী যে মজাদার/দেশের বাইরে গেলে বেশি মর্ম বুঝে তার’—অনুপ বড়ুয়ার গাওয়া এই গানটি ছিল রুপু-রিন্টু জুটির অন্যতম ফোক গান। রিন্টু বলেন, ‘এই গানটিও বছর দশেক আগের। একদিন আমার অফিসে এসে ফোক গান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন অনুপ বড়ুয়া। শোনানোর পর তিনি গানটি পছন্দ করেন। এরপর সুরের জন্য দেওয়া হয় রুপুকে। সুরটাও বেশ মনে ধরে অনুপদার। গানটি রুপুরও খুব প্রিয় ছিল।’

 

শহর এখন বিদেশমুখী—আজম খান ও মমতাজ

রুপু-রিন্টু জুটির আরেকটি আলোচিত গান—‘শহর এখন বিদেশমুখী দেখি যেদিক যাইরে/গ্রামের মধ্যে শহুরে ভাব দেখতে আমি পাইরে/আমার দৃষ্টি গায়ের দিকে অন্য কোথাও নাইরে’। ‘ইত্যাদি’র জন্য গানটি করতে বলেন হানিফ সংকেত। শিল্পীদের একজন ব্যান্ডসংগীত করেন, আরেকজন ফোক। দুজনের সঙ্গে যায় এমন কথা ও সুর করাটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। গানে গানে দুই শিল্পী দুজনের কথার জবাব দিয়েছেন। ফুটিয়ে তুলেছেন শহর ও গ্রামের প্রেক্ষাপট। সবচেয়ে মজা লেগেছে গানটির চিত্রায়ণে আজম খানের নাচ দেখে। তিনি সচরাচর যে ধরনের নাচ করেন এর বাইরে গিয়ে নাচটি করেছিলেন। দেখতে দেখতে খুব হাসছিলাম’—বলছিলেন রিন্টু।

 

এর বাইরে দুজনের করা উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে—কুমার বিশ্বজিতের ‘দরদিয়া’, ‘দস্যু যেমন মুখোশ পরে’, ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ফকির আলমগীরের ‘বাঘের পিছে বাঘ লাগে না’, সামিনা চৌধুরী ও কুদ্দুস বয়াতীর ‘দেশের বাড়ি দেশেই আছে’, মো. শোয়েব ও ডলি শায়ন্তনীর ‘বিশ্বাস জড়ানো ভালোবাসা’, বাদশা বুলবুলের ‘রাতের খবরে আবহাওয়া বার্তা যা-ই থাক’, ডলি শায়ন্তনীর ‘সাপ এখন বনের চেয়ে বেশি থাকে মনে’ প্রভৃতি।



মন্তব্য