kalerkantho

গানের ঈশিতা

পাঁচ বছর পর ফিরেছেন গানে। ‘জেগে থাকা মন’-এ কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও পরিচালনা করেছেন রুমানা রশীদ ঈশিতা নিজেই। লিখেছেন রবিউল ইসলামরোথী মোস্তফা

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



গানের ঈশিতা

বয়স মাত্র আট বছর হলেও আমার ছেলে খুব সুন্দর গান গায়, গান বোঝে। আমি যখন গান শুনতে থাকি সে এসে আমাকে বলে—এটা ভালো গান, শুনবে না?

 

ঈশিতার ছেলে জাবিরের বয়স এখন আট বছর। মায়ের মতো তারও ঝোঁক গানের দিকে। দুই বছর ধরে গিটার শিখছে নিজের ইচ্ছাতেই। এখন ভালোই বাজাতে পারে। একটু সময় পেলেই এখন মা-ছেলে বসে যায় গান নিয়ে। মা গান ধরেন তো ছেলে গিটার। কখনো কখনো দ্বৈত কণ্ঠে গেয়ে ওঠে দুজন। নিজেদের পছন্দের গানগুলো গেয়ে আইপ্যাডে রেকর্ড করে রাখে। ছেলের সঙ্গে এভাবে গান করার সময়টা দারুণ উপভোগ করছেন বলে জানান ঈশিতা। বলেন, ‘বয়স মাত্র আট বছর হলেও আমার ছেলে খুব সুন্দর গান গায়, গান বোঝে। আমি যখন গান শুনতে থাকি সে এসে আমাকে বলে—এটা ভালো গান, শুনবে না? ও বেশির ভাগ সময় ইংলিশ গান গায়। আমি নব্বইয়ের দশকের কিংবা দুই হাজারের শুরুর দিককার গানগুলো করি। সে আমার কাছ থেকে শুনে শুনে শেখে। তারপর আমার সঙ্গে গায়।’

ঈশিতার কন্যা আজরিনের বয়স এখন দুই বছর। এ কারণে গত তিন বছর সব ধরনের কাজের বাইরে ছিলেন তিনি। নতুন গানে তো কণ্ঠ দিয়েছেন পাঁচ বছর বাদে। মূলত আজরিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণেই ঘরমুখী হতে হয় ‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে ওঠা এই তারকাকে। আর এই সময়টাতে তাঁর আড্ডা-গল্পের বড় বন্ধু হয়ে ওঠে জাবির।

ঈশিতার নতুন গান ‘জেগে থাকা মন’ মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ পাবে মার্চের মাঝামাঝি। সোহেল আরমানের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন অদিত। গানটি তৈরির গল্পও শুনিয়েছেন গায়িকা, ‘আমি আসলে অনেক দিন ধরে সুন্দর গান করতে চাচ্ছিলাম। মাঝখানে বেশ কিছু গানের লিরিক দেখেছি, সুর শুনেছি। কিন্তু মনের মতো হচ্ছিল না। তারপর অদিতকে বলি। সে একটি সুর করে পাঠায়। প্রথম শোনাতেই ভালো লেগে যায়। লিরিকের জন্য শুরুতেই সোহেল ভাইয়ের কথা মাথায় আসে। কারণ নাটকের সূত্র ধরে তাঁর সঙ্গে অনেক কাজ করা হয়েছে। একদিন রাত সাড়ে ১০টায় আমরা তিনজন অদিতের স্টুডিওতে বসি। গান লেখা আর আড্ডা-গল্পে ভোর ৬টা! খুব এক্সাইটিং একটা সময় কেটেছে সেদিন। তার কিছুদিন পর প্র্যাকটিস শেষে ভয়েস দিই। গান ও ভিডিও দুটিতেই আমরা ভালোবাসার একটা ইতিবাচক দিক বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’

২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে গানটির ভিডিওর শুটিং হয়, যাতে মডেল হয়েছেন আদর ও পায়েলিয়া পায়েল। মজার বিষয় হচ্ছে, ভিডিওর নির্মাতা ছিলেন ঈশিতা নিজেই। ‘অনেক সাহস করে আমি আমার টিমকে নিয়ে ভিডিওটি বানিয়েছি। বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩টি নাটক পরিচালনা করেছি। সেসব নাটকেও কিন্তু গান ছিল, যেগুলোর শুটিং করতে হয়েছে। তবে এটি তো পূর্ণাঙ্গ মিউজিক ভিডিও। তাই অনেক ভাবতে হয়েছে। প্রায় চার-পাঁচটি স্ক্রিপ্ট করেছি। পরিচিত যাঁরা আছেন তাঁদের সঙ্গে বসেছি। আমার এডি আরাফাতও এ ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন। সোহেল ভাইও লেখার সময় ভিডিওর কিছু আইডিয়া দিয়েছিলেন। প্রায় এক মাস ধরে পুরো কাজটির পেছনে সময় দিয়েছি। টোটাল প্রজেক্টটি দাঁড় করানো এক কথায় দুর্দান্ত। এখন দর্শক-শ্রোতারা কিভাবে গ্রহণ করেন সেটা দেখার অপেক্ষায়।’

ভিডিওর ফাইনাল কপিটা হাতে নিয়ে তা প্রকাশের জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলেন ঈশিতা। তার আগেই একাধিক প্রতিষ্ঠান উল্টো তাঁকে নক করেছে? এমন ঘটনায় বেশ উত্ফুল্ল তিনি, ‘গান শোনা কিংবা ভিডিও দেখার আগেই কেউ এতটা আগ্রহ দেখাবে ভাবিনি। মনে করেছিলাম, সব হওয়ার পর বের করার পথ খুঁজে নেব। সে কষ্টটি আমাকে করতে হচ্ছে না। উল্টো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই আমার কাছে গানটি চাইছে। এটা একজন শিল্পীর জন্য সত্যিই অনেক সম্মানের।’

‘ভুলো না আমায়’, ‘রাত নিঝুম’ ও ‘কুলসুম’ শিরোনামে তিনটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন ঈশিতা। তবে সর্বশেষ একক প্রকাশ করেছিলেন ১৬ বছর আগে! নতুন একক অ্যালবাম করার ইচ্ছা আছে? ‘সময়-সুযোগ এবং পছন্দ যদি একসঙ্গে মিলে যায় তাহলে হয়তো করব।’ কথার শেষ ভাগে ঈশিতা জানান,   ১০-১৫ বছর ধরে তিনি অনেক কম কাজ করছেন। আর শেষ তিন বছর তো সব কিছুর বাইরে। সামনে আর তেমনটি হবে না। কম করে হলেও কাজ করার চেষ্টা করবেন। সেটা হতে পারে গান, অভিনয় কিংবা পরিচালনা।


মন্তব্য