kalerkantho


শ্রোতাদের তৈরি গানের জুটি

ফাহমিদা নবী ও বাপ্পা মজুমদারের দ্বৈত মানেই বিশেষ গান। সাত বছর পর প্রকাশ পেয়েছে এই জুটির নতুন গান ‘ভালবাসি ভালোবাসি’। তাঁদের জুটি হয়ে ওঠার গল্প বলছেন ইসমাত মুমু

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শ্রোতাদের তৈরি গানের জুটি

একসঙ্গে প্রথম গান করেছিলেন ১৯ বছর আগে। ফাহমিদা নবীর সলো অ্যালবাম ‘তুমি কি সেই তুমি’র সংগীত করেছিলেন বাপ্পা। তারপর অনেক দিন একসঙ্গে গান করেননি। তবে যোগাযোগ ছিল। ২০০৬ সালে এনটিভির ঈদ অনুষ্ঠানে একটি রোমান্টিক দ্বৈত গানের প্রস্তাব পেলেন ফাহমিদা। সহশিল্পী হিসেবে বাপ্পাকে চাইলেন। ‘তোমার চোখের মাঝে’ গানটির সুর-সংগীতও করেছেন বাপ্পা। চমৎকার ভিডিও করা হলো গানটির। আর দশটা গানের মতোই গাইলেন তাঁরা। অবাক হলেন গানটি প্রচারের পর। “বুঝতেই পারিনি মানুষের এত ভালো লাগবে গানটি! যেখানে যাই, সেখানেই এই গানের অনুরোধ। তখন শ্রোতামহল ও অডিও কম্পানিগুলোর একের পর এক অনুরোধ, ‘আপনারা একটা দ্বৈত অ্যালবাম করেন।’ ‘একমুঠো গান’ করলাম”—বললেন ফাহমিদা। প্রকাশের পর কী যে হলো, সবার গাড়িতে-বাড়িতে-দোকানে এই গান। প্রেমিক-প্রেমিকাদের তো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল গানগুলোর কথা। যেকোনো অনুষ্ঠানে ফাহমিদা-বাপ্পা জুটির কদর বেড়ে গেল। দেশের বাইরেও একসঙ্গে শো করার প্রস্তাব পেলেন একের পর এক। তারই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ পেয়েছে ‘একমুঠো গান ২’।

‘সেই থেকে মানুষের চাওয়াটা কমেনি। কারণও আছে। অ্যালবামের প্রতিটি গানের জন্য প্রচুর সময় দিয়েছি। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি গানের কথায়। গান এমন একটা ব্যাপার, সকালের বিছানা থেকে শুরু করে ঘুমানো পর্যন্ত সঙ্গী হতে পারে। একটা ভালো সিনেমা দিনে ১৪ বার দেখতে পারে না মানুষ। কিন্তু একটা ভালো গান শতবারের বেশি শোনা সম্ভব’—বললেন বাপ্পা।

তার সঙ্গে যোগ করলেন ফাহমিদা, ‘গান তৈরির আগে আমি আর বাপ্পা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়েছি, ওরা কেমন কথার গান পছন্দ করে। শব্দগুলো কেমন হতে পারে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, সাধারণ অনেক মানুষের মতামতও নিয়েছি। লিরিক লিখেছে জুলফিকার রাসেল। ওকেও অনেক খাটিয়েছি— এটা না, সেটা। তা ছাড়া সময়টা ছিল খুব অস্থির। কি গান, কি সিনেমা—সবখানে অশালীন কথার গান। আমি মনে করি, অ্যালবাম দুটি কিছুটা হলেও সে সময় আলোর ঝলকানি দেখিয়েছে।’

জুটি হিসেবে দুজন কেমন? ‘দুজন দুজনকে খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পারি। বাপ্পার বড় বোন হারিয়ে গেছে, ও আমাকে বড় বোনের চোখেই দেখে। ওর বড় ভাই পার্থদা, এমনকি মাসিমাও আমাকে সেভাবে দেখতেন। ওদের বোনের নাম ছিল মিতু। সেই বোনের জায়গাটা আমাকে দিয়েছে। আর ভয়েসের একটা বন্ডিং। ওর আর আমার মানসিকতারও অদ্ভুত মিল। যেমন—লাকী চাচা [লাকী আখন্দ্] ছিলেন। লাকী চাচা একটা সুর শুরু করলে আমি অন্তরা বলে দিতে পারতাম। আমাদের বোঝাশোনাটা এমন ছিল। বাপ্পার বেলায়ও একই’—বললেন ফাহমিদা।

“আমরা কিন্তু একে অন্যের সমলোচনাও করি। সেটা অবশ্যই লজিক্যালি হয়। আমি কোনো জায়গায় প্রশ্ন তুললে তিনি সেটা মানেন। আবার তিনি কোনো জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুললে আমিও মানি। ঠিকঠাক না হলে সোজা বলে দিই, ‘আপা, এখানে আরেকবার গাইতে হবে।’ হয়তো একাধিকবার গাইতে হয়। কিংবা রাত ৩টার সময় তাঁর মনে হলো, এটা এভাবে না হয়ে ওভাবে হলে ভালো হতো, সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ফোন করেন। পরদিন নতুন করে করি। এমন অনেক ঘটনাই আছে’—বললেন বাপ্পা।

জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন একবার তাঁদের বলেছিলেন, ‘তোদের জুটিটা কিন্তু দর্শকই তৈরি করে দিয়েছে। তোরা যখন অন্যদের সঙ্গে গান করিস, তখন মনে হয় কী যেন নেই। দুজনের ভয়েসটা একসঙ্গে পেলে মনে হয়, গানটা শতভাগ পূর্ণতা পেল।’

এই জুটির গানের ভিডিওর মডেল অন্য কেউ হোক সেটা পছন্দ করে না দর্শক। সবার চাওয়া, তাঁদের গানে যেন মডেল হন তাঁরাই। এমনও হয়েছে, কোনো জায়গায় একা শো করতে গেলে বাপ্পার কাছে ফাহমিদার এবং ফাহমিদার কাছে বাপ্পার কুশল জানতে চায় শ্রোতারা।

২০১০ সালে ‘একমুঠো গান ২’ প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক দিন একসঙ্গে গান করেননি তাঁরা। সেই থেকে শ্রোতাদের প্রশ্ন, ‘একমুঠো গান ৩’ আসবে কবে? তার সদুত্তর নেই তাঁদের কাছে। তবে এই ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ করলেন সিঙ্গল ‘ভালবাসি ভালবাসি’। লিখেছেন আলী আশরাফ, সুর-সংগীতায়োজনে বাপ্পা মুজমদার। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন রম্য খান। এবারই প্রথম তাঁদের গানের ভিডিওতে ছিলেন না তাঁরা। এখানে মডেল হয়েছেন এ বি এম সুমন ও আফরি সেলিনা।

গানের ভিডিও নিয়ে বাপ্পা বলেন, ‘প্রথম দিকে নাটকীয়তাটা না থাকলেই হয়তো ভালো হতো। অনেকেই এ নিয়ে কিছু অভিযোগ করেছেন। তবে টোটাল বিষয়টা আমার কাছে খারাপ লাগেনি।’

দীর্ঘ সাত বছর পর ‘ভালবাসি’ তাঁদের একসঙ্গে গান। কিন্তু এর মধ্যেও টুকিটািক গান করেছেন, তবে সেটা উল্লেখযোগ্য নয়। ঝগড়া হয় না কখনো আপনাদের? বাপ্পা হেসে বলেন, ‘ফাহমিদা আপার সঙ্গে আবার কারো ঝগড়া হয় নাকি! আমি কেন, অন্য কাউকেই বলতে শুনিনি তাঁর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে। সারাক্ষণই তিনি হাসেন, এমন হাসিখুশি মানুষটার সঙ্গে ঝগড়া করবে কে!’

দুজনের কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া দ্বৈত গানের মধ্যে রয়েছে ‘ঘুমের গল্প’, ‘তোমার চোখের মাঝে’, ‘তুমি কি বলো’, ‘মন পবনের ঘুড়ি’, ‘একটু যদি তাকাও’, ‘মাতাল অনুভব’, ‘ইচ্ছেরই বাতাসে’। আরো কিছু গান রেকর্ড করা আছে। সামনে আরো দারুণ কিছু গান হয়তো পেয়ে যাবে শ্রোতারা।


মন্তব্য