kalerkantho

৯ বছর পর

‘আমার প্রাণের প্রিয়া’র ৯ বছর পর ফের পর্দাজুটি হয়েছেন শাকিব খান ও বিদ্যা সিনহা মিম। কাল মুক্তি পাবে এই জুটির দ্বিতীয় ছবি ‘আমি নেতা হবো’। এই জুটি নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



৯ বছর পর

২০০৮ সালের শেষ দিকের কথা। শাকিব খানের বিপরীতে নায়িকা খুঁজছে প্রযোজনা সংস্থা হার্টবিট প্রডাকশনস। পূর্ণিমা, অপু বিশ্বাস কিংবা সাহারা নন, প্রতিষ্ঠানটি চায় নতুন মুখ। প্রযোজক যখন খুঁজে খুঁজে হয়রান তখন শাকিব খান বললেন বিদ্যা সিনহা মিমের কথা। প্রযোজক তাপসী ঠাকুর অফিসে আসতে বললেন মিমকে। নায়িকা পছন্দ হলো তাপসীর, সেদিনই চুক্তিবদ্ধ করলেন। শুরু হলো ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’। শুটিং চলার সময়ই নজর কাড়ল এই জুটি। কিছুদিনের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হলেন ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘ড্রিমগার্ল’, ‘মনের জ্বালা’সহ আরো কয়েকটি ছবিতে। কিন্তু হায়! প্রতিটি ছবিই ফসকে গেল মিমের হাত থেকে। ছবিগুলোতে শাকিব থাকলেও মিমের জায়গায় অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস। কী হয়েছিল সে সময়? ‘৯ বছর পর পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে চাই না। তবে খুব কষ্ট হয়েছিল তখন। একের পর এক চুক্তিবদ্ধ হওয়া ছবির টাকা ফিরিয়ে দিয়েছি। মিডিয়ার সামনে ছোট হয়েছি। তবে হ্যাঁ, ছবিগুলো থেকে বাদ পড়ার পর আমাকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শাকিব ভাই। এটাই ছিল বড় প্রাপ্তি’—বললেন মিম।

‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ মুক্তি পেল পরের বছর। প্রথমটি সুপারহিট হওয়ার পরও কেন দ্বিতীয়র জন্য ৯টি বছর অপেক্ষা করতে হলো এই জুটিকে? প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন শাকিব খান, ‘জানি না, কেন এমন হয়েছে। হয়তো আমি প্রযোজক-পরিচালকদের জোর করলে আরো দু-একটি ছবিতে তখন একসঙ্গে কাজ করতে পারতাম। কিন্তু ভেবে দেখলাম, মিম ভালো অভিনেত্রী। তাঁকে কেন অনুরোধ করে ছবিতে নিতে হবে! এই যে ৯ বছর পর আমরা পর্দায় ফিরলাম, ছবিটি ১৫০ হলে মুক্তি পাচ্ছে, দর্শক থেকে শুরু করে হল মালিকরা দারুণ আগ্রহে বসে আছেন। এটাও তো একটা বড় পাওয়া।’

অস্ট্রেলিয়ায় ‘সুপারহিরো’ ছবির শুটিং করছেন শাকিব খান। সেখান থেকেই কথা বললেন মুঠোফোনে। দেশে ফিরবেন আগামী সপ্তাহে। ‘আমি নেতা হবো’ ছবির প্রচারণায়ও অংশ নেবেন তখন। অবশ্য নায়ককে ছাড়াই প্রচারণায় নেমে গেছেন মিম। ছবিটি নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’র ব্যবসাকেও নাকি ছাড়িয়ে যাবে এই ছবি। এত আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী? ‘কাকতালীয়ভাবে ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ভেবেছিলাম আগের মতো এ ছবিও হবে না। শুটিং করার পরও মনে হয়েছে মাঝপথে হয়তো ছবিটি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভালয় ভালয় হলো। এর মধ্যে ছবির তিনটি গান প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটিই সাড়া ফেলেছে। এই ছবি প্রদর্শনের জন্য বন্ধ থাকা বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ নতুন করে চালু হচ্ছে। স্বপ্ন তো দেখতেই পারি! আশা করছি, আমাদের জুটির প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

একটা আক্ষেপ অবশ্য আছে মিমের। ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য আগে লেখা হওয়ায় আশানুরূপ চরিত্র পাননি। শাকিবের তুলনায় চরিত্রের গুরুত্ব কম। তবে শাকিব নিজেই নাকি আশ্বাস দিয়েছেন, পরের ছবিতে মিমকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে শাকিব বলেন, “মিমের প্রচুর ভক্ত। ছবির গান মুক্তির পর সেটা বুঝেছি। আমার ফ্যানপেজে অনেকেই অনুরোধ করেছেন মিমের সঙ্গে নিয়মিত জুটি হয়ে কাজ করতে। উত্তম আকাশ দাদার পরের ছবি ‘কেউ কথা রাখেনি’তেও দেখা যাবে আমাদের। আরো কয়েকটি ছবির ব্যাপারে কথা চলছে। এমনও হতে পারে, কলকাতার ছবিতেও আমাদের জুটি হিসেবে দেখা যেতে পারে!’

শুটিংয়ের বাইরে দুজনের সম্পর্ক দারুণ। ব্যাংককে শুটিংয়ের সময় মিম গিয়েছিলেন তাঁর পরিবার নিয়ে। শুটিংয়ের ফাঁকে অনেক ঘুরেছেন। আর সেই ঘোরাঘুরিতে শরিক হয়েছিলেন শাকিব খানও। ট্রিটও দিয়েছেন মিমের পরিবারকে।



মন্তব্য