kalerkantho


অ্যালিসিয়া কারার গ্র্যামি জয়

এবারের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে ‘নিউ আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী অ্যালিসিয়া কারা। ২১ বছর বয়সী এ গায়িকার খবর জানাচ্ছেন সজল সরকার

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অ্যালিসিয়া কারার গ্র্যামি জয়

৬০তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের সর্বমোট ৮৬টি পুরস্কারের মধ্যে মাত্র ১৭ জন নারী সংগীতশিল্পী। তালিকায় নেই প্রথম সারির কেউ। এর মধ্যে ‘নিউ আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে কানাডিয়ান অ্যালিসিয়া কারার পুরস্কার জেতা ছিল অনেক বড় চমক! প্রথম এবং একমাত্র কানাডিয়ান নারী হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার জিতলেন কারা।

প্রায় ১৪ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে সরে এসে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হওয়া ছিল বড় খবর। এ বছর প্রথম অনলাইনে ভোট দেওয়া, সেরা তালিকায় শ্বেতাঙ্গ তারকাদের অনুপস্থিতি ও নারীদের অ্যাওয়ার্ড খরার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসবের মাঝেও ২১ বছর বয়সী অ্যালিসিয়া কারা আলো ছড়িয়েছেন। এত অল্প বয়সে স্বপ্নের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ের আনন্দে আত্মহারা কারা, ‘ছোটবেলা থেকেই স্নানের ঘরে একা একা গান গাইতে গাইতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ের স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্নটা পূরণ হতে বেশি সময় লাগেনি।’ প্রত্যেক তারকারই পুরস্কারের স্বপ্ন থাকে উল্লেখ করে বলেন, ‘সত্যিকারের সংগীতকে সমর্থন দিন এবং সত্যিকারের শিল্পীকে সমর্থন দিন।’

এবারই গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পান কারা। ‘বেস্ট নিউ আর্টিস্ট’ হিসেবে পুরস্কার জিতলেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন আরো দুটি বিভাগে—‘সং অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘বেস্ট মিউজিক ভিডিও’। কারার গ্র্যামি পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণও রয়েছে বলে মনে করা হয়। নারীর ক্ষমতায়নে এ শিল্পীর প্রচারণা অনেককেই অনুপ্রেরণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘উই ডে ক্যালিফোর্নিয়া’, কানাডার টরন্টোর এক হাসপাতালে অসুস্থ শিশুদের জন্য গান গাওয়া এবং ‘আই অ্যাম দ্যাট গার্ল’ শীর্ষক নারী আন্দোলনে অংশগ্রহণ তাঁকে সবার কাছে পরিচিত করে তুলেছে।     

পুরো নাম অ্যালিসিয়া কারাসিয়োলো। জন্ম ১৯৯৬ সালের ১১ জুলাই কানাডার অন্টারিওর ব্রাম্পটনে। বাবা কানাডিয়ান হলেও মা ইতালীয় বংশোদ্ভূত। ছোটবেলায় কবিতা লেখার পাশাপাশি থিয়েটার করতেন। ১০ বছর বয়সে গিটার হাতে নিয়েই সংগীত চর্চা শুরু। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ইউটিউবে নিজের চ্যানেল খোলেন এবং একের পর এক গান গেয়ে আপলোড করতে থাকেন। অনলাইনে ভক্ত-শ্রোতা তৈরি হলেও বাস্তবের তারকাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু হয়নি তখনো। অ্যালিসিয়ার সংগীত ক্যারিয়ার সবার সামনে আসে ২০১৫ সালে ‘হেয়ার’ গানের মাধ্যমে। গানটি কানাডিয়ান হট চার্টে ১৯ নম্বরে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিলবোর্ড হট হানড্রেডে ৫ নম্বরে জায়গা পায়। সে বছরই কারার ‘নো ইট অল’ কানাডিয়ান অ্যালবাম চার্টে অষ্টম স্থানে এবং বিলবোর্ড ২০০ চার্টে নবম স্থান লাভ করে।    

বাস্তববাদী সংগীতশিল্পী হিসেবে এরই মধ্যে ভক্তদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। প্রথম জনপ্রিয় গান ‘হেয়ার’-এ পার্টি বা ঘটা করে কোনো অনুষ্ঠানের প্রতি মানুষজনের বিরক্তির কথা তুলে ধরেন। বাস্তব অভিজ্ঞতারই বর্ণনা করেছিলেন গানটিতে। এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় অনুভব করেন তাঁর ভেতরের বিরক্তি এবং তা-ই গানে প্রকাশ করেন। ২০১৬ সালে ‘ব্রেক থ্রু আর্টিস্ট’ হিসেবে ‘জুনো অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন এবং ‘বিবিসি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’-এ রানারআপ হন। তবে নতুন শিল্পী হিসেবে তাঁর গ্র্যামি জেতায় অনেকে ভ্রু কুঁচকিয়েছেন। বিশেষত অন্য তরুণ শিল্পীদের ভক্তরা মানতে পারছেন না এ ফল। র্যাপার লিল, পপ তারকা জুলিয়া মাইকেলস, আরএনবির এস জেড এ এবং খালিদ ভক্তরা বলছেন, অ্যালিসিয়া কারা তো ২০১৪ সাল থেকেই নিয়মিত সংগীতজগতে ঘুরছেন, তাঁর অ্যালবাম বের হয়েছে ২০১৫ সালে, তাহলে তিনি কিভাবে এবার সেরা নতুন মুখ হিসেবে পুরস্কার জেতেন? নিন্দুকরা আর যা-ই বলুক, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড যে কারাকে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।



মন্তব্য