kalerkantho


গানেরও সিক্যুয়াল

একটি গান শ্রোতাপ্রিয় হওয়ার পর সেই গানের সিক্যুয়াল তৈরির রীতি অনেক আগে থেকেই। সিক্যুয়াল হওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু গান নিয়ে এ আয়োজন। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গানেরও সিক্যুয়াল

অর্থহীনের ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি ১-২’ এবং ‘চাইতেই পারো ১-২’ জনপ্রিয়তা পায়

কলেজের করিডরে, কেউ নেই করিডরে

১৯৮২ সালে নিজেদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘কলেজের করিডরে’ প্রকাশ করে সোলস। অ্যালবামের টাইটেল গানটির প্রথম দুই লাইন—‘কলেজের করিডরে দেখেছি চোখ দুটি ছিল যার সুন্দর/মোনালিসা হাসি দিয়ে বেঁধেছে সে যে এই বিরহের অন্তর’। গানটি শ্রোতারা দারুণভাবে গ্রহণ করে। ১১ বছর পর ১৯৯৩ সালে ‘এ এমন পরিচয়’ অ্যালবামে গানটির সিক্যুয়াল বের করে সোলস। ‘কেউ নেই করিডরে ক্লাসরুমগুলো ফাঁকা/নেই সেই চেনা মুখখানি মোনালিসা হাসিমাখা’ কথার গানটিও শ্রোতারা পছন্দ করে।

অদ্ভুত সেই ছেলেটি ১-২

১৯৯৯ সালে প্রকাশিত ‘ত্রিমাত্রিক’ অ্যালবামে ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি’ করে প্রশংসিত হয় ‘অর্থহীন’। একটি ছেলের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা নিয়ে গানটি। প্রকাশের পরই চলে আসে আলোচনায়। এই গানের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০১ সালে ‘বিবর্তন’ অ্যালবামে ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি ২’ প্রকাশ করে ‘অর্থহীন’। সেটিও শ্রোতারা পছন্দ করে।

বিদায় বন্ধু ১-৩

‘যেতে চাইলে কাউকে ধরে রাখা যায় না/মন ছুটলে তাকে আর ফেরানো যায় না/আমাকে ভুলে যদি সুখে থাকা যায়, বন্ধু তোমাকে জানাই বিদায়’—আসিফের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘বিদায় বন্ধু’র মুখ। ২০০২ সালে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় একক ‘তুমি সুখী হও’-এর গান এটি। গানটির সিক্যুয়াল করার জন্য শ্রোতাদের কাছ থেকে অনুরোধ পান আসিফ। এরপর ‘তুমিও কাঁদবে একদিন’ অ্যালবামে ‘বিদায় বন্ধু ২’ এবং ‘বন্দী’ অ্যালবামে ‘বিদায় বন্ধু ৩’ প্রকাশ করেন আসিফ। বলেন, ‘গানটি নিয়ে অনেকের অনেক স্মৃতি আছে। শ্রোতাদের চাওয়া এবং নিজেদের ভালো লাগা থেকেই গানটির সিক্যুয়াল করি। রেসপন্সও পাই বেশ।’

হাসিমুখ, আবার হাসিমুখ

‘তুমি চেয়ে আছো তাই/আমি পথে হেঁটে যাই/হেঁটে হেঁটে বহুদূর/বহুদূর যেতে চাই’—শিরোনামহীনের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘হাসিমুখ’-এর কথা এগুলো। প্রকাশ পায় ২০০৪ সালে ‘জাহাজী’ অ্যালবামে। ৯ বছর পর ২০১৩ সালে ‘শিরোনামহীন’ অ্যালবামে গানটির সিক্যুয়াল ‘আবার হাসিমুখ’ প্রকাশ করে তারা। দুটি গানই মন কাড়ে শিরোনামহীন ভক্তদের।

এক জীবন ১-২ 

‘তোমায় ছেড়ে বহুদূরে যাবো কোথায়/এক জীবনে এত প্রেম পাবো কোথায়’—কলকাতার গায়িকা শুভমিতার সঙ্গে শহীদের গাওয়া গানটি ভিডিওতে প্রকাশ পায় ২০১১ সালে। সে সময় চারদিকে শোনা যেত গানটি। এরপর ২০১৩ সালে শুভমিতাকে নিয়ে ‘এক জীবন ২’ নিয়ে আসেন শহীদ। এটিও শ্রোতারা বেশ পছন্দ করে। শহীদ বলেন, “প্রথম গানটির জনপ্রিয়তার পর অনেকেই আবদার করেন সিক্যুয়াল করার জন্য। সেটিও শ্রোতারা ভালোভাবে নিয়েছে। সময়-সুযোগ পেলে সামনে ‘এক জীবন-৩’ও করতে পারি।”

না বলা কথা ১-৪

২০১২ সালে ইলিয়াস হোসাইন প্রকাশ করেন ‘না বলা কথা’। গানটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। পরের বছর প্রকাশ করেন ‘না বলা কথা ২’। সেটির জনপ্রিয়তা প্রথমটিকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২০১৫ সালে ‘না বলা কথা ৩’ প্রকাশ করেন। প্রথম দুটির তুলনায় সেটি খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও থেমে যাননি এই গায়ক। ২০১৭ সালে প্রকাশ করেছেন ‘না বলা কথা ৪’। মাত্র পাঁচ মাসে ইউটিউবে ৯৫ লাখ ভিউয়ার পেয়েছে গানটি। চারটি গানেই ইলিয়াসের সহশিল্পী ছিলেন অরিন। ইলিয়াস বলেন, ‘না বলা কথা দিয়েই শিল্পী হিসেবে আমার উত্থান। শ্রোতারা গ্রহণ করেছে বলেই এর আরো তিনটি সিক্যুয়াল করেছি। সামনে আরো করার ইচ্ছা আছে।’

সিক্যুয়াল গানের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য—অর্থহীনের ‘চাইতেই পারো ১-২’ ভাইকিংসের ‘অপেক্ষা ১-২’, তৌসিফের ‘বৃষ্টি ১-২’, বেলাল খান ও শিল্পী বিশ্বাসের ‘সোনা পাখি ১-২’, সায়রা রেজার ‘ধার ধারি না ১-২’, লুত্ফর হাসানের ‘ঘুড়ি ১-২’, তানভীর শাহীনের ‘সখিরে ১-২’, কাজী শুভর ‘মন পাঁজরে ১-২, বেলাল খানের ‘বাজি ১-২’ প্রভৃতি।

(বাঁ থেকে) শহীদের ‘এক জীবন ১-২’—দুটিই শ্রোতারা গ্রহণ করেছে  এবং ইলিয়াস হোসাইন প্রকাশ করেন ‘না বলা কথা ১-৪’



মন্তব্য